fbpx
24.4 C
Barisāl
Saturday, October 24, 2020

গৌরনদী উপজেলার পটভূমি

‘‘গৌরনদী’’ র নামকরন

বরিশাল জেলার এতিহ্যবাহী ও সমৃদ্ধ একটি উপজেলার নাম গৌরনদী। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে এ উপজেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। ‘‘গৌরনদী’’ র নামকরন নিয়ে সুনিদৃষ্ট কোন লিখিত ইতিহাস নেই। ‘‘গৌরনদী’’র নামকরন সম্পর্কে প্রবীনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যই মানুষ জানে। এক সময় গৌরনদী সদরসহ বৃহত্তর গৌরনদী ( আগৈলঝাড়াসহ) র গোটা এলাকা ছিল নদী দ্বারা বেষ্ঠিত। গৌরনদীর পূর্বাঞ্চলে রয়েছে আড়িঁয়াল খাঁ নদী। আর আড়িঁয়াল খার শাখা নদী হচ্ছে পালরদী নদী। এক সময় পালরদী ছিল স্রোতস্বীনি নদী । গৌরনদীর প্রবীনজন ও ইতিহাসবিদদের সংজ্ঞা মতে, আড়িঁয়াল খাঁ নদীর শাখা নদী পালরদী নদীকে ঘিরেই গৌরনদীর নামকরন করা হয়। এ নদীর সাথে গৌরনদীর সংযুক্ততা রয়েছে। আড়িঁয়াল খাঁ নদীর শাখা নদী পালরদী নদীর প্রবাহমান পানির রং ছিল গৌড় বর্নের। সে অনুসারে গৌড়্ওবং নদী যুক্ত হয়ে ‘‘গৌরনদী’’ র নামকরন করা হয়েছে। গৌরনদী কলেজের প্রতিষ্ঠতা অধ্যক্ষ মোঃ তমিজ উদ্দিন ও গৌরনদীর ইতিহাস লেখক প্রফেসর মোসলেম উদ্দিন সিকদারের একাধিক লেখায় গৌরনদীর নামকরনের আদী ইতিহাস হিসেবে এ তথ্যের উল্লেখ্য রয়েছে। বরিশালের ইতিহাস লেখক সিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ তার বইয়ে নদীর নামানুসারে গৌরনদীর নামকরনের কথা উল্লেখ করেছেন।

এক নজরে গৌরনদী

সাধারণ তথ্যাদি

জেলা বরিশাল
উপজেলা গৌরনদী
সীমানা উত্তরে কালকিনি  উপজেলা, পূর্বে বাবুগঞ্জ ,মূলাদি ও কালকিনি  উপজেলা, দক্ষিণে উজিরপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে আগৈলঝড়া উপজেলা।
জেলা সদর হতে দূরত্ব ৪৫ কি:মি:
আয়তন ১৪৭.৮৯ বর্গ কিলোমিটার
জনসংখ্যা ২,৮০,৫১৭ জন (প্রায়)
পুরুষ ১,৪০২৬০ জন (প্রায়)
মহিলা ১,৪০২৫৭ জন (প্রায়)
লোক সংখ্যার ঘনত্ব ১৮৯৬ (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে)
মোট ভোটার সংখ্যা ১,২৫,০০০ জন
পুরুষভোটার সংখ্যা ৬২৭২৫ জন
মহিলা ভোটার সংখ্যা ৬২২৭৫ জন
বাৎসরিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩০%
মোট পরিবার(খানা) ৮২,৯৭০ টি
নির্বাচনী এলাকা ১২১,বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝড়া)
গ্রাম ১২৬ টি
মৌজা ১২৫ টি
ইউনিয়ন ০৭ টি
পৌরসভা ০১ টি
এতিমখানা সরকারী ০ টি
এতিমখানা বে-সরকারী ০৫টি
মসজিদ ৪৫১ টি
মন্দির ১৬৭ টি
নদ-নদী ১ টি
হাট-বাজার ৩৪ টি
ব্যাংক শাখা ১০ টি
পোস্ট অফিস/সাব পোঃ অফিস ৩০ টি
টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ০১ টি
ক্ষুদ্র কুটির শিল্প ০২ টি
বৃহৎ শিল্প ০১ টি
কৃষি সংক্রান্ত
মোট জমির পরিমাণ ১৪,৯৩৮ হেক্টর
নীট ফসলী জমি ১০,৯৪৮ হেক্টর
মোট ফসলী জমি ১১,০৯৮ হেক্টর
এক ফসলী জমি ২,৩৭৩ হেক্টর
দুই ফসলী জমি ৬,০২৫ হেক্টর
তিন ফসলী জমি ২,৫৫০ হেক্টর
গভীর নলকূপ ১২৩৯ টি
অ-গভীর নলকূপ ২০০০ টি
শক্তি চালিত পাম্প ৫৫১ টি
বস্নক সংখ্যা ৫৬৮ টি ( বোরো স্কীম)
বাৎসরিক খাদ্য চাহিদা ৩৬,৯১৫ মেঃ টন
নলকূপের সংখ্যা ৩২৩৯টি
শিক্ষা সংক্রান্ত
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৮৭ টি
বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ২২ টি
কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ০৭ টি
জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় ০১ টি
উচ্চ বিদ্যালয়(সহশিক্ষা ২০টি
উচ্চ বিদ্যালয়(বালিকা) ০৫ টি
দাখিল মাদ্রাসা ১১ টি
আলিম মাদ্রাসা ০৩ টি
অন্যান্য মাদ্রাসা ২৯৩ টি
কামিল মাদ্রাসা ০১ টি
কলেজ(সহপাঠ) ০৯ টি
কলেজ(বালিকা) ০১ টি
শিক্ষার হার ৬৫.০২%
পুরুষ ৬৮.০৪%
মহিলা ৬২%
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ০১ টি
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ১১ টি
বেডের সংখ্যা ৫০ টি
ডাক্তারের মঞ্জুরীকৃত পদ সংখ্যা ৩৭ টি
কর্মরত ডাক্তারের সংখ্যা ইউএইচসি ১৭, ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৬, ইউএইচএফপিও ১টি মোট= ৩৪ টি
সিনিয়র নার্স সংখ্যা ১৫ জন। কর্মরত=১৩ জন
সহকারী নার্স সংখ্যা ০১ জন
স্যাটেলাইট ক্লিনিক ৫৬টি
মা ও শিশু স্বাস্হ্য কেন্দ্র ০১টি
যক্ষা চিকিৎসা কেন্দ্র ০১টি
ভূমি ও রাজস্ব সংক্রান্ত
মৌজা ১২৫ টি
ইউনিয়ন ভূমি অফিস ০৭টি
মোট হোল্ডিং সংখ্যা ৩৮,১০৮টি
মোট খাস জমি ৪২.৫৯ একর
কৃষি ৫০৩.৬৯ একর
অকৃষি ১০.৯৬ একর
বন্দোবস্তযোগ্য কৃষি ১.৮৬একর (কৃষি)
হাট বাজারের সংখ্যা ২৭টি
যোগাযোগ সংক্রান্ত
পাকা রাস্তা ৩৫.০০ কিঃমিঃ
অর্ধ পাকা রাস্তা ৪২.০০ কিঃমিঃ
কাঁচা রাস্তা ২৬১ কিঃমিঃ
ব্রীজ/কালভার্টের সংখ্যা ৪৬৬ টি
নদীর সংখ্যা ০১টি
পরিবার পরিকল্পনা
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ১১ টি
পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক ০১ টি
এম.সি.এইচ. ইউনিট ০১ টি
সক্ষম দম্পতির সংখ্যা ৮০২৪ জন
মৎস্য সংক্রান্ত
পুকুরের সংখ্যা ৩৬ টি
মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার সরকারী ০১ টি
মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার বে-সরকারী ০৪ টি
বাৎসরিক মৎস্য চাহিদা ৫,৬১৩ মেঃ টন
বাৎসরিক মৎস্য উৎপাদন ৫,২১৫ মেঃ টন
প্রাণি সম্পদ
উপজেলা পশু চিকিৎসা কেন্দ্র ০১ টি
পশু ডাক্তারের সংখ্যা ০২ জন
কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র ০১ টি
উন্নত মুরগীর খামারের সংখ্যা ১১টি
উন্নত মুরগীর খামারের সংখ্যা ১১ টি
গবাদির পশুর খামার ২২টি
ব্রয়লার মুরগীর খামার ৫৬ টি
সমবায় সংক্রান্ত
কেন্দ্রিয় সমবায় সমিতি লিঃ ০১ টি
মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি লিঃ ০৩ টি
ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ ১০ টি
বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ ৩৫ টি
মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ ০৬ টি
যুব সমবায় সমিতি লিঃ ১০ টি
আশ্রয়ন/আবাসন বহুমুখী সমবায় সমিতি ০১ টি
কৃষক সমবায় সমিতি লিঃ ২৫ টি
পুরুষ বিত্তহীন সমবায় সমিতি লিঃ ১০টি
মহিলা বিত্তহীন সমবায় সমিতি লিঃ ১২ টি
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ ৫৩ টি
অন্যান্য সমবায় সমিতি লিঃ ২৫ টি
চালক সমবায় সমিতি ১২টি

ভৌগলিক পরিচিতি

Geographical Information for Gournadi

Place name: Gaurnadi

Latitude: 22° 58′ 14″ N

Longitude: 90° 14′ 37″ E

Feature description: town

Area/state: Barisal

Population range of place: is between 1000 and 2000

Other alternative names: Gournadi

Country: Bangladesh

Country ISO code: BD

গৌরনদী বন্দরের ইতিহাস

বৃহতি গৌরনদী বলতে ১২ টি ইউনিয়ন বোঝালে ও  গৌরনদীর নির্দীষ্ট স্থান বাচক নামটির সাথে সংশ্লিষ্ট  অঞ্চলেই  গৌরনদী বন্দর অবস্থিত। অতএব , এ বন্দরটি সম্পর্কে  কিছু কথা না বললেই নয় । তাই গৌরনদী বন্দরের আদিকথা দিয়ে শুরু করা যাক।

অনুমান করা যায়   প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে গৌরনদী বন্দরের জন্ম। ১৮০০ সালের পূর্বে হিন্দু জমিদার ও ব্যবসায়ীদের  মাধ্যমে বন্দরটি পরিচালনা হয়ে আসছিলো  । আনুমানিক ২০০ বছর পূর্বে  থেকে মুসলমানদের আবির্ভাব ঘটে । তৎকালীন সময়ে বাবু মোহন, লাল সাহা, বাবু যোগেন্দ্র নাথ ডাক্তার, বাবু নারায়ন চন্দ্র পোদ্দার, বাবু কেশব চন্দ্র রায়, বাবু লক্ষণ চন্দ্র দাস, বাবু মদন মোহন রায়, বাবু রাখালচন্দ্র রায়, বাবু সুধীর চন্দ্র বনিক, বাবু রাখাল চন্দ্র বণিক, বাবু অমুল্য চন্দ্র সাহা এবং মুসলমানদের মধ্যে মফিজুদ্দিন মৃধা। মূলতঃ বাজারের স্থায়ী ভিটির মালিক চারটি গোত্র সংযুক্ত ছিল। কুন্ড ।. বণিক ।.,  সাহা ।., এবং রায়-দত্ত ।., আনা মালিক বিদ্যমান ছিল । এদের ফাঁকে ঘোষ, দাস, দে, দেবনাথ সহ কিছু মুসলমান  স্বাধীনতার পূর্ব থেকে ১ নং  পথের সম্বল বিড়িমালিকানা লাভ করে। উক্ত সম্বল বিড়ি রাজেন্দ্র দাস ও ১০১ নং পথের সাথী বিড়ির মালিক উপেন দাসের বন্দরে বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ছিল। স্বাধীনতার পর ১ নং সম্বল ও ১০১ নং পথের সাথী বিড়ি নানা জটীলতায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সমবায় শ্রমিক বিড়ি ২৯৯ জন সদস্যের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে- আসছে।তৎকালীন সময়ে গৌরনদী বন্দরের সুতা, পাট, ধান ও ভুষামাল ক্রয়ের জন্য বিশাল আড়ৎ ছিল। বন্দর বিশাল মুদী দোকান ও ছিল। এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে খরিদ্দাররা আসত  পাইকারী কেনাকাটা করতে । এসব দোকান মালিকদের মধ্যে ঋষিকেশ বণিক, জব্বার চৌকিদার, সোনাই পোদ্দার গৌরনদী বন্দরের উৎকৃ্ষট মানের মিষ্টির দোকান ছিল । ভুবন মোহন ঘোষ, যদু ঘোষ, অনীল ঘোষ, আমজেদ আলী সরদার, অনন্ত ঘোষ, গেদু ঘোষ ।কিন্তু শচীন ঘোষ, শুশীল ঘোষ ও জগদীশ ঘোষ এর মিষ্টি পেসিদ্ধ হয়ে আছে। দেশ বিদেশে এখানকার ঘি, দৈ, মিষ্টি ক্রয় বিক্রয় হয়ে থাকে। রাখী মালের মহাজন হিসেবে আমীর লতিফ, মেছের হাওলাদার, আক্কাছ হাওলাদার, হরিপদ রায়, দুলাল কর্মকার, জলিল তালুকদার, এমদাদ মাষ্টার এরা উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়ী ছিলেন। গৌরনদী বন্দরের ঐতিহ্য ১লা বৈশাখে ১ দিনের মেলা  উৎসবে নৌকা রাইচ প্রতিযোগিতা, নাচ- গানের আসর অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কাঠ, বেত, বাশের সরঞ্জম আসে। এছারা হিন্দুদের ঐতিহ্যবাহী দূর্গা পূজার দশমীতে দশোহরার মেলা উল্লেখ্যযোগ্য।

গৌরনদী বন্দরের আদি নাম পালরদী বাজার। অর্থাৎ এ মৌজার নাম দক্ষীণ পালরদী। পাশে মৌজা চরগাদাতলী, তিখাসার, পাশে আড়িয়াল খার শাখা নদী অবস্থিত । ৫০০ গজ পূর্বে নদীর পূর্ব পাড় মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের চর পালরদী গ্রাম অবস্থিত। পূর্বে এ নদী দিয়ে স্টিমার চলত। যে কারনে ভারত থেকে মালামাল আনা-নেয়া করা হত। বাজারটি দুই অংশে বিভিক্ত। মধ্য  দিয়ে একটা খাল , যা আড়িয়াল নদী থেকে ঝালকাঠি হয়ে দক্ষিণ সাগরে গিয়ে মিশেছে । যে কারনে পূর্ব থেকেই ব্যবসায়ীগণ ঝালকাঠি থেকে মালামাল ক্রয় করে গৌরনদী বন্দর ও টরকী বন্দরে আনা নেয়া করত। এছাড়া ও এ খাল দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে খুলনা, মংলা,বাগেরহাট, পিরোজপুর, হুলার হাট, স্বরূপকাঠী থেকে মালামাল নৌকা ও ইঞ্জিন নৌকায় সুন্দরী কাঠ সহ অন্যান্য মালামাল চাঁদপুর সহ ঢাকা, নারায়নগঞ্জে যা যাতায়াত করায় গৌরনদী বন্দরের ঐতিহ্য আর ও অনেক বেশী হয়েছে । ঢাকা, নারায়নগঞ্জ থেকে প্রতিদিন ২টি বড় লঞ্চ গৌরনদীস্থ টরকী বন্দর পর্যন্ত চলাচল করে। টরকী গৌরনদী থেকে প্রতিদিন ৪/৫ শত যাত্রী বহন করে রাজধানী ও মহানগর লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্য চলে যায় ।

এছাড়া গৌরনদী বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন দেশের লক্ষিণাঞ্চলে সহ রাজধানী ঢাকা ও বিভাগীয় শহর খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ সহ পশ্চমাঞ্চলের অনেক যাত্রী যাতায়াত করা সত্তে ও গৌরনদী বন্দরের ঐতিহ্য কোন অংশেই ম্লান হয়নি ।

আদি বন্দর সংলগ্ন গৌরনদী  থানা, জনগণের নিরাপত্তা ও চার থানার নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রাপ্ত সার্কেল অফিসারের কার্যালয় (বন্দর ও বাসস্ট্যান্ডের মধ্যবর্তী  স্থানে) , রয়েছে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক যথা- বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক , অগ্রণী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক , অসংখ্য এনজিও কার্যালয়,মোবাইল ফোন টাওয়ার (গ্রামীণ ফোন, সিটিসেল, বাংলালিংক, একটেল) ও যুবক ফোন, অস্নগখ্য বীমা কার্যালয় বন্দরে অবস্থিত ।

১৯৯৬ সাল থেকে গৌরনদী  বন্দর সংলগ্ন আর ও একটা মাত্রা যুক্ত হয়েছে- গৌরনদী  পৌরসভা, বর্তমানে যা বি গ্রেডভূক্ত। বন্দরের ঐতিহ্য গৌরনদী  সাবরেজিষ্ট্রি অফিস ও সংলগ্ন খাদ্য গুদাম এবং থানা সংলগ্ন মসজিদ ও এতিমখানা।  গৌরনদী বন্দরের মাঝখানে রয়েছে পুরনো শ্রী দূর্গা মন্দির ও শ্রী শ্রী হরি মন্দির। গৌরনদী বন্দরের মসজিদের দু’টোরদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা হলেন মেছের আলী খান পঞ্চায়েত এবং হযরত মাওলানা মোঃ আবুল কাসেম (র) ।

নলচিড়া ইউনিয়নের ও গৌরনদী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ৪ বার স্বর্ণপদক প্রপ্ত গৌরনদী বন্দরের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী সংসদের সভাপতি মরহুম গোলাম মালেক মৃধার পরিবার, তার পিতা ছিলেন মরহহুম মফিজুদ্দিন মৃধা, যিনি একাধারে নলচিড়া ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট এবং দীর্ঘদিন গৌরনদী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ছিলেন। এম, এ আজিজ ভিপি, দরবেশ আঃ আজিজ কারী, রবি সংকর রায়, আব্দুর রাযযাক খান প্রমুখ গৌরনদী  বন্দরে স্থায়ী ভাবে বসবাস করেন ।

বর্তমানে গৌরনদী  বন্দরে ৪/৫ টি অত্যাধুনিক মার্কেট নির্মিত হয়েছীবং এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মফিজুদ্দিন মার্কেট, সমবায় শ্রমিক বিড়ি মার্কেট, বাবু সুপার মার্কেট, সাবরেজিষ্ট্রি মসজিদ মার্কেট, আলাউদ্দিন সুপার মার্কেট, কাজী সুপার মার্কেট , লঞ্চঘাট সুপার মার্কেট  ইত্যাদি। এছাড়া প্রতি মংগল বার এখানে বাজারের পাশাপাশি সূতা, গামছা ও মশারীর হাট বসে ।

প্রতিদিন পাইকারী হিসেবে বিখ্যাত কাটা কাপড় ও শাড়ী কাপড়ের জমজমাট আড়ৎ যাতে বরিশাল , কোটালিপাড়া, আগৈ্লঝাড়া সহ পার্শবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারগন কেনাকাটা করতে আসেন। এছাড়াও আছে লেপ, তোষক তৈ্রির জনপ্রিয় দোকান এবং উন্নত মানের স্বর্ণালংকার  দোকান আছে ।  পাইকারী মছের আড়ৎ্ এর মাছ  ঢাকা শহর সহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পাঠানো হয়।

বর্তমানে যে সব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সুনাম ছড়িয়েছে তার মধ্যে গৌ্র নিতাই মিষ্টান্ন ভান্ডার, প্রোঃ বাবু শচীন ঘোষ, শ্রী গুরু মিষ্টান্ন, ভান্ডার, প্রোঃ বাবু বল্রাম ঘোষ, সাহা বস্ত্র বিতান,প্রোঃ বাবু নিখিল সাহাঃভাই ভাই বস্ত্র বিতান, প্রোঃ বাবু ভোলানাথ সাহাঃ রতন ক্লথ স্টোর, প্রোঃবাবু গোবিন্দ কুন্ড, তাকওয়া ডিপার্ট্মেন্টাল স্টোর, প্রোঃজনাব জানে আলম বাদল ও  সৈয়েদ বস্ত্র বিতান, প্রোঃ মরহুম পীরজাদা  সৈয়েদ  শাহজাহান ।