fbpx
25.6 C
Barisāl
Wednesday, April 21, 2021

বিনা নোটিশে ম্যাজিষ্ট্রেটবিহীন গৌরনদীতে চারটি বসতবাড়ি গুড়িয়ে দিলেন পৌর কর্তৃপক্ষ

পৌর কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের খামখেয়ালীপনা এবং স্বেচ্ছাচারিতায় চারটি পরিবার একমাত্র মাথা গোজার ঠাঁই বসত ঘর হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছেন। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ড দক্ষিণ বিজয়পুর মহল্লার।
ভূক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মহল্লার বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য লিংক রোডের সংস্কার করতে গিয়ে বিনা নোটিশে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এবং ম্যাজিষ্ট্রেটবিহীন গৌরনদী পৌর কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদার এবং পৌর মেয়রের একান্ত সচিব গত দুইদিনে চারটি আধাপাকা বসতঘর গুড়িয়ে দিয়েছেন। এতে নিঃস্ব হয়ে পরেছে নিন্ম আয়ের ওই পরিবারগুলো। তাদের অভিযোগ বসতঘর ভাঙ্গা শুরু করলে তারা পৌর মেয়রের কাছে লিখিত সময় চেয়ে আবেদন করলেও কোন সময় দেয়া হয়নি। এতে চারটি পরিবারের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে মহল্লার বাসিন্দা, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লি¬ষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বিজয়পুর মহল্লার বাসিন্দারা আধাপাকা পুরনো সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে আসছিলো। মহল্লারবাসিন্দাদের সুবিধার্থে পৌর কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ বিজয়পুর মহল্লার পোদ্দার বাড়ি ব্রীজের পশ্চিম পাশ থেকে দক্ষিণে হালিম শরীফের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ২০১৬-২০১৭ইং অর্থ বছরে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য মেসার্স তালুকদার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। চলতি মাসে ঠিকাদার কাজ শুরু করেন।
মহল্লার বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্থ মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আয়নাল হক খান, আতাউর রহমান, অনিমা পান্ডে, জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাড়ি করার সময় রাস্তার জন্য জায়গা রেখে বাড়ি ঘর নির্মান করেছি। পৌরসভার রাস্তা সম্প্রসারনে আরও জমি প্রয়োজন হলে তা আমরা দিতে রাজি আছি। কিন্তু সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করলে পৌর কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদার আমাদের কোন রকম কিছু না জানিয়ে আমাদের আধাপাকা ভবনে স্কাভেটর দিয়ে বসত ঘর ভাঙ্গা শুরু করে। পরবর্তীতে আমরা পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হারিছুর রহমানের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করলে তিনি আমাদের কোন পাত্তাই দেয়নি। আমাদের মালামাল সরানোর কোন সুযোগ না দিয়ে জুলুম করে অন্যায় ও অবৈধভাবে আমাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। তারা আরও বলেন, সড়ক উন্নয়ন হবে আমাদের যাতায়াতের জন্য। আমাদের গৃহহারা করে নয়। এভাবে জুলুম করে সড়ক সংস্কার করা পৌর মেয়রের স্বেচ্চাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া অন্য কিছু নয়।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়নাল হক বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে আমি আধাপাকা বসতঘর নির্মান করে বসবাস করে আসছি। রাস্তার মধ্যে আমার ঘর পরেওনি। তারপরেও আমার বসত ঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে পৌর মেয়র ও ঠিকাদার। তিনি আরও বলেন, আমাকে কোন নোটিশ দেয়া হয়নি, এমনকি আমি মেয়রের কাছে সময় চাইলে তাও দেয়া হয়নি। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পৌর মেয়র আমার প্রায় ৪৫ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে।
এ ব্যাপারে মেসার্স তালুকদার এন্টারপ্রাইজের মালিক মাহবুব তালুকদার বলেন, আমার নামে লাইসেন্স কিন্তু প্রকৃত ঠিকাদার পৌর মেয়র হারিছুর রহমানের একান্ত সচিব যুবলীগ নেতা মোঃ আল-আমিন। ঠিকাদার আল-আমিনের কাছে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা বাড়ির মালিকদের সাথে নিয়ে বাড়িঘর অপসারন করেছে। স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর গোলাম আহাদ মিয়া রাসেল বলেন, এ বিষয় আমি কিছুই জানিনা। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক বলেন, সড়ক সংস্কার চলছে জানি কিন্তু বসতঘর উচ্ছেদ সম্পর্কে কিছুই জানিনা। পৌর সচিব সফিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে কোন
মন্তব্য করতে রাজি হননি। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন বলেন, যেকোন উচ্ছেদের পূর্বে নোটিশ দেয়ার বিধান রয়েছে। বিনা নোটিশে, বিনা আদেশে এবং নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা সম্পূর্ন অবৈধ।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ