fbpx
24.7 C
Barisāl
Thursday, May 13, 2021

গৌরনদীতে নানা প্রলভ দেখিয়ে অসহায় নারীদের অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে প্রতারক দম্পতি

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের ৩০ থেকে ৩৫ জন অসহায় ও দুস্থ নারী প্রতারক দম্পতির খপ্পড়ে পরে ঋনের দায়ে দিশে হারা হয়ে পড়েছে। এসব সহজ সরল নারীদের নামে বেনামে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ উত্তোন করে ও ব্যবহৃত স্বর্ন বন্ধক রেখে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে রবিবার রাতে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন একই গ্রামের দম্পতি রাসেল হাওলাদার ও তার স্ত্রী হাচিনা বেগম। এ খবর সোমবার সকালে ছড়িয়ে পড়লে প্রতারিত নারীরা ও তাদের স্বজনরা রাসেলের বাড়িতে ভিড় করে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। এসময় প্রতারক দাম্পতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোলগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন।
সরেজমিনে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের রাসেল হাওলাদার ও তার স্ত্রী হাচিনা বেগম নিজ বাড়িতে গুরুর খামার ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি পুকুর লিজ নিয়ে মৎস্য চাষ ও পান বরজের চাষ শুরু করেন। নিজ বাড়িতে অত্যাধুনিক দ্বিতল ভবন নিমার্ণ করেন। ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি জমি ক্রয়ের কথা বলে একই গ্রামের ৩০ থেকে ৩৫ জন অসহায় ও দুস্থ নারীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে গত দুই মাসে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারিত ওই গ্রামের ইব্রাহীম সরদারের স্ত্রী নুর নাহার বেগম বলেন, ‘দেড় মাস আগে এক দিন সকালে রাসেল ও তার স্ত্রী হাচিনা মোর বাড়িতে আহে। হেরা (রাসেল ও হাচিনা) মাদরীপুর জমি কেনবে কইয়া মোর কাছে এক লাখ টাকা ধার চায়। মুই টাহা পামু কোই বললে মোরে সোনা থুইয়া দিতে বলে। হেরা সুদ দিবে সরল বিশ্বাসে মুই ২ভড়ি সোনা বন্ধক ধুইয়া ৬০ হাজার টাহা আইন্না দেই। হেইরার কয়েক দিন পর তিনটা সমিতির (এনজিও) থেকে ২লক্ষ ৮০ হাজার টাহা ঋণ উঠাইয়া মোট ৩ লক্ষ টাহা দেই। একই ভাবে জানালেন জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী শিপ্লী বেগম, দুলাল মৃধার স্ত্রী রেসমা বেগম, হারুন মৃধার স্ত্রী সেলিনা বেগমসহ অনেকে।
খলিল হাওলাদারের স্ত্রী তাছলিমা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘সোয়ামীরে (স্বামী) না জানাইয়া রাসেল ও হাচিনা এনজিও কিস্তি ও সঞ্চয় চালিয়ে রাহার শর্তে ১ লক্ষ টাকা উঠাইয়া দেই। দুই কিস্তি দেওয়ার পর ওরা বাড়িঘর ছাইরা পলাইছে। আইজ মোর সোয়ামী জানতে পাইরা মোরে বাড়িরতন তাড়াইয়া দিছে। টাহা না দিতে পারলে মোরে তালাক দিবে কইয়া হুমকিও দিচ্ছে। এহন মুই এই কিস্তি কোথারতন দিমু। টাহার শোগে পাগল হইয়া যামু।’
অভিযোগের ব্যাপারে অভিুক্ত হাচিনা বেগমের ব্যবহৃত মুঠো ফোনে (০১৭৯৫৭০৬৪৮২) বহু বার ফোন দেয়া হলেও তা রিসিভ করেননি।
খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আলম সেরনিয়াবাত এ প্রসঙ্গে বলেন, আজ (সোমবার) সকালে খাঞ্জার গ্রামের প্রতারিত কয়েকজন মহিলা রাসেল হাওলাদার ও তার স্ত্রী হাচিনা বেগম এসব অসহায় ও দুস্থ মহিলাদের টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। এ ব্যাপারে আমি উপজেলা প্রশাসনের সহায্য নিতে বলেছি।’
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মুনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতারনার বিষয় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ