fbpx
21.2 C
Barisāl
Tuesday, December 7, 2021

গৌরনদীতে নির্বাহী অফিসারের দপ্তরসহ ৪টি অফিসে চুরি সংঘটিত ঘটনার দীর্ঘদিন পরেও পুলিশ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি

বরিশালের গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরসহ উপজেলা পরিষদের ৪টি অফিসে দুধর্ষ চুরি সংঘটিত হওয়ার প্রায় আড়াই মাস পরেও পুলিশ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছেন। অপর দিকে তিন নৈশ প্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়ায় হুমকির মুখে পরেছেন উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, গত ৬ বা ৭ এপ্রিল রাতে উপজেলা পরিষদ ভবনের দোতালায় অবস্থিত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রধান সহকারীর প্রধান অফিস, পিআইও অফিস, এলজিইডি অফিস ও ওই অফিসের (এলজিইডি অফিস) হিসাব রক্ষন কর্মকর্তার অফিস, নিচ তলার একাউন্টস অফিসের অডিটরদের কক্ষের দরজার তালা ভেঙ্গে চোরেরা ভিতরে প্রবেশ করে। তারা নির্বাহী অফিসারের প্রধান সহকারীর অফিসের আলমারি ও টেবিলের ড্রয়ারের তালা ভেঙ্গে নগদ ১২ হাজার টাকা, একাউন্টস অফিস থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং সব কয়টি অফিসের মূল্যবান কাগজপত্র তছনছ করে। খবর পেয়ে গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন্নাহার মেরী, গৌরনদী মডেল থানার ওসি মুনিরুল ইসলাম মুনির, পুলিশ ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ আফজাল হোসেন, এসআই মুজাহিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মোঃ মজিদ খান বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গত ৮ এপ্রিল গৌরনদী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। চুরির পর পর গৌরনদী মডেল থানার এএসআই আমিনুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এলজিইডি অফিসের নৈশ প্রহরী হাসানাত হাওলাদার, কৃষি অফিসের মিজানুর রহমান ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একেএম শাহীনকে থানায় ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
এএসআই আমিনুল ইসলাম গত ২ জুন জেলা প্রশাসক বরাবরে এক লিখিত অভিযোগে জানান, গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)’র নিদের্শে চুরির পরপর নৈশ প্রহরী হাসানাত হাওলাদার, মিজানুর রহমান ও একেএম শাহীনকে থানায় ডেকে নেয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার পর একেএম শাহীনের বড় ভাই প্রেসিডেন্ট ও প্রাধন মন্ত্রী কার্যালয়ের চাকুরি করার সুবাদে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তাকে (এএসআই) মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও চাকুরিচৎুত করার হুমকি দেয়। এ ছাড়া গত ২৫ এপ্রিল উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় চুরির ব্যাপারে নিরাপত্তা প্রহরীরা জড়িত থাকতে পারে বলে উপস্থিত সকলে সন্দেহ করেন। উপস্থিত সকল ইউপি চেয়ারম্যানসহ সকলে জানান, নিরাপত্তা প্রহরীরা অফিসে দায়িত্ব পালন করেন না বিধায় বারবার চুরি সংঘটিত হচ্ছে।

উপজেলা পরিষদের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের ৪টি অফিসে দুধর্ষ চুরি সংঘটিত হওয়ার ২মাস ১৯ দিন অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুরির রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এ চুরির মাস খানেক আগেও উপজেলা পিআইও অফিসে চুরি সংঘটিত হয়েছিল। এ ঘটনায়ও মামলা হলেও পুলিশ তারও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। ৩টি অফিসের নৈশ প্রহরী চুরির দিন রাতে কর্মরত ছিল। নৈশ প্রহরী কর্মরত থাকা অবস্থায় কি ভাবে চুরি হয় তা আমাদের বোধগম্য নই। চুরির পরেও কর্তৃপক্ষ নৈশ প্রহরীদের কোন কারণ দর্শনের নোটিশ করেন নি। আমরা চুরির আতঙ্কে অনেকেই বাড়িতে ঈদ করতে যাইনি। দ্রুত চুরির রহস্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন বলেন,‘ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার একই ভাবে চুরি হয়েছে। একটি চুরির ঘটনাও পুলিশ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।’
মামলার দন্তকারী কর্মকর্তা ও গৌরনদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল কবির বলেন, চুরি মামলার তদন্ত চলছে। সম্প্রতি এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে এক দুর্ধষ চোরকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ