fbpx
21.2 C
Barisāl
Tuesday, December 7, 2021

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক পুলিশ অফিসারকে হুমকির ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধান মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান মন্ত্রীর দপ্তরের দুই কর্মকর্তা কর্তৃক গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন ও তার অফিস সহায়ককে হুমকি ও গৌরনদী মডেল থানার এক পুলিশ অফিসারকে বদলীর ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বৃহস্পতিবার স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা সমন্বয় পরিষদের মাসিক সভা সুত্রে জানাগেছে, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগ শাখার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা খন্দকার মনিরুজ্জামান ও প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী সচিব মোঃ শহিদুজ্জামান খন্দকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যাবহার করে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানীর অভিযোগ এনে উপজেলা সমন্বয় পরিষদের মাসিক সভা নিন্দা প্রস্তাব আনা হয়। একইসাথে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধান মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপির মাধ্যমে দাবী জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন্নাহার মেরীর সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন, ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফরহাদ মুন্সী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাহিদা আকতার, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যানগন উপস্থিত ছিলেন। নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকির ঘটনায় তারা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য,গত ৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে উপজেলা পরিষদ ভবনের দোতলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারীর কক্ষ, উপজেলা এলজিইডি অফিসের প্রকৌশলীর কার্যালয় ও এলজিইডি অফিসের হিসাব রক্ষকের কক্ষ, পিআইও অফিস, ওই ভবনের নিচতলায় একাউন্টস অফিসের অডিটরদের কক্ষে চুরি সংঘঠিত হয়। চোরেরা দরজার তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে ৪টি অফিসের ৫টি কক্ষের ষ্ট্রীলের আলমিরা ও টেবিলের ড্রয়ারের তালা ভেঙ্গে মূল্যাবান কাগজপত্র তছনছ করে। এ সময় তারা ইউএনও অফিসের ১২ হাজার টাকা ও হিসাব রক্ষন অফিসের ১ হাজার ৬০০ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা নাছরিন,পিআইওর সহকারী মোঃ শাহ আলম উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অহেদুর রহমান পৃথকভাবে গৌরনদী মডেল থানায় ৩টি জিডি করেন। ইউএনও অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী মোঃ মজিদ খান বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা চোরদের আসামি করে ৮ এপ্রিল গৌরনদী মডেল থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। চুরি সংঘটিত হওয়ার পর ৭ এপ্রিল দুপুরে ওসি’র নির্দেশে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঘটনার দিন রাতে টহলের দায়িত্বে থাকা গৌরনদী মডেল থানার এএসআই মোঃ আমিনুল ইসলাম এলজিইডি অফিসের নৈশ প্রহরী হাসানাত হাওলাদার, কৃষি অফিসের মিজানুর রহমান ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একেএম শাহীনকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে আনেন। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৩ ঘন্টা পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার পর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নৈশ প্রহরী একেএম শাহীনের ভাই রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগ শাখার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা খন্দকার মনিরুজ্জামান ও প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী সচিব মোঃ শহিদুজ্জামান খন্দকার ক্ষুব্ধ হন। তারা গৌরনদীর নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন, নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মোঃ শিপন হাওলাদার ও এএসআই মোঃ আমিনুল ইসলামকে একাধিকবার মোবাইলে বদলীসহ নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। এমনকি তারা তাদের সহোদর শাহিনের ওপর পুলিশী নির্যাতনের অভিযোগ এনে গৌরনদীর ইউএনও খালেদা নাছরিন ও পুলিশ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বরিশালের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের বরিশালের উপ-পরিচালক গত ২১ জুন তদন্ত করেন।
এএসআই মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, শাহীনের মেঝভাই প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা খন্দকার মনিরুজ্জামান, ও বড়ভাই প্রাধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী সচিব মোঃ শহিদুজ্জামান খন্দকার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাকে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও চাকুরিচ্যুত করে দেবে বলে হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর আমি গৌরনদী থানায় জিডি করতে চাইলে ওসি জিডি নেননি। নিরুপায় হয়ে গত ২ জুন তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। এর পরেও তিনি রেহাই পাননি। নৈশ প্রহরী শাহীনের ভাইদের হস্তক্ষেপে গত ১৯ জুন এএসআই মোঃ আমিনুল ইসলামকে গৌরনদী থানা থেকে বরিশাল আরআরএফ রেঞ্জে বদলী করা হয়। জানাগেছে, এ ঘটনার পর মামলার তদন্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরেছে।
খবর নিয়ে জানাগেছে, ঘটনার দিনরাতে ওই ৩ জন নৈশ প্রহরী কর্মরত ছিল না। উপজেলা পরিষদের গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত উপজেলা মাসিক সভায় উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যানগণ ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা চুরির ব্যাপারে ২/১ জন নিরাপত্তা প্রহরী জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ পোষন করে রেজুলেশন করেছেন। তারা জানান, নিরাপত্তা প্রহরীরা অফিসে দায়িত্ব পালন করেন না বিধায় বারবার চুরি সংঘটিত হচ্ছে। ২/১ জন নৈশ প্রহরীর যোগসাজশে উপজেলা পরিষদে ৩/৪ বার চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে তারা ধারনা করছেন।
এদিকে চুরির পরেও কর্তৃপক্ষ নৈশ প্রহরীদের কোন কারণ দর্শনোর নোটিশ করেননি। তাই চুরির আতঙ্কে অনেক অফিসের কর্মকর্তারা বাড়িতে ঈদ করতে যাননি। দ্রুত চুরির রহস্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন গৌরনদী উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার একই ভাবে চুরি হয়েছে। একটি চুরির ঘটনারও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ ৩ নৈশ প্রহরীকে নিয়ে জিজ্ঞাবাদ করেছে। এতে আমার অপরাধ কি? বিষয়টি নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গৌরনদী থানার এসআই মো. ইকবাল কবির বলেন, এ মামলায় সন্দীগ্ধ আসামি হিসেবে আন্তঃজেলা চোরদলের এক সদস্যকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। চুরির রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তবে এ ব্যাপারে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ মুনিরুল ইসলাম মুনিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ