fbpx
31.3 C
Barisāl
Tuesday, June 22, 2021

জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে প্রতিবন্ধি পরিবার আগৈলঝাড়ায় বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ ॥ বিচার আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন অসহায় পরিবার

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মোল্লাপাড়া গ্রামে এক বাকপ্রতিবন্ধি কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণ করেছে প্রতিবেশী এক প্রভাবশালী। ধর্ষণের পর ওই কিশোরী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরে। পরবর্তীতে চিকিৎসক দ্বারা গর্ভপাত ঘটায়। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক বসে। সালিস বৈঠকে ধর্ষককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। দুই সপ্তাহের অধিক সময় পার হলেও নির্যাতিত পরিবারকে জরিমানার টাকা না দিয়ে প্রতিবন্ধি পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি প্রদান করছে স্থানীয় প্রভাবশালী ধর্ষক পরিবার। হুমকির মুখে ওই প্রতিবন্ধি পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নির্যাতিত পরিবার প্রসাশনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
সরেজমিনে এলাকাবাসী, নির্যাতিত পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই গ্রামের সংখ্যালঘু পরিবারের বাবা বুদ্ধি প্রতিবন্ধির ২ মেয়ে ও ১ ছেলে। বড় মেয়ে (১৭) দৃষ্টি প্রতিবন্ধি, ছোট মেয়ে (১৫) ও ছেলে (৮) উভয়ে বাক প্রতিবন্ধি। নির্যাতির মা ও ঠাকুর মা ঝিয়েরকাজ ও বর্ষা মৌসুমে শাপলা কুড়িয়ে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
শুক্রবার বিকেলে অসহায় ও হতদরিদ্র নির্যাতির মা (৪০) অভিযোগ করেনে, তিনি তার বাবার বাড়ি বেড়াতে যায়। এ সময় তার বাকপ্রতিবন্ধি মেয়ে তাদের বাড়ি পাশে সুনীল সরকারের ঘরে টেলিভিশন দেখতে যায়। রাতে টেলিভিশন দেশে ঘরে ফেরার পথে স্থানীয় প্রভাবশালী ৯ সন্তানের জনক সুনীল সরকার (৬৫) তার বাকপ্রতিবন্ধি মেয়েকে (সুনীলের) বাড়ির পুকুর পারে নিয়ে জোরপূবর্ক ধর্ষণ করে। এতে তার মেয়ে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরে। অন্তঃসত্ত্বার পর বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পরে। এক পর্যায়ে ধষর্কের স্ত্রী টগরী সরকার ও নির্যাতিতার ঠাকুর মা তার অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে সাহেবের হাট জিজাস মেডিকেল হলের মালিক পল্লী চিকিৎসক বাদল চক্রবর্তীর কাছে নিয়ে যায়। বাদল চক্রবর্তী ওষধের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটায়। পরবর্তীতে গত ২০ জুন রতœপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য চিত্ত সমদ্দার, সংরক্ষিত মহিলা-২ এর সদস্য লিলি হাওলাদার, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সোহরাফ হোসেন হাওলাদারসহ স্থানীয় গন্যমান্যদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ইউপি সদস্য চিত্ত সমদ্দার
ও লিলি হাওলাদার জানান, ধষর্ককে নির্যাতিত প্রতিবন্ধি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা তিন দিনের মধ্যে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ধর্ষক সুনীল সরকার টাকা না দিয়ে নানান তালবাহানা করেন। পরবর্তীতে সালিশরা বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা সরদারকে অবহতি করেন।
নির্যাতির ঠাকুর মা অভিযোগ করে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘মোর নাতীর ইজ্জত নষ্ট কইরা, এহন হের বিচার চাইতে চেয়াম্যান, মেম্বরসহ মাতব্বরদের কাছে দৌড়াইতে দৌড়াইতে এহন মোরা অসুস্থ্য হইয়া পড়ছি। মোরা ধর্ষক সুনীল সরকারের বিচার চাই।’ তিনি আরো অভিযোগ করেন, সালিশদের দেয়া রায়ের ২৫ হাজার টাকা না দিয়ে উল্টো তাদের পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি প্রদান করছেন। হুমকির মুখে তাদের অসহায় পরিবার জীবনের নিরাপত্তাহীনতাই ভুগছেন।
জিজাস মেডিকেল হলের মালিক পল্লী চিকিৎসক বাদল চক্রবর্তী গর্ভপাত ঘটনানোর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘অসহায় প্রতিবন্ধি পরিবারটির দিকে তাকিয়ে আমি ওষধ খেতে দিয়েছি।’
অভিযোগের ব্যাপারে অস্বীকার করে অভিযুক্ত সুনীল সরকার বলেন, ‘সালিশরা যে সিদ্ধান্ত নেন তার সাথে আমি এক মত।’
রতœপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তফা সরদার মুঠো ফোনে বলেন, ‘নির্যাতিতার মা ও দাদী আমার কাছে এসেছিলেন। আমি এসব বিষয় কোন সালিশ করিনা বলে পাঠিয়ে দিয়েছি।’
আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজ্জাক মোল্লা মুঠো ফোনে বলেন, এ ঘটনায় আমি কোন অভিযোগ পাই নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ