fbpx
29.3 C
Barisāl
Sunday, October 24, 2021

বার্থীতে সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী গ্রামের বন্ধ্যা মলিনা হালদারের (৩২) সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। পারিবারিক সূত্রে জান গেছে, ২০০১ সালে গৌরনদী উপজেলার বার্থী গ্রামের নির্মল হালদারের পুত্র রতন হালদারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কালকিনি উপেেজলার সিডিখান গ্রামের গোকুল হাওলাদারের বড় কন্যা মলিনা রানীর সামাজিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে কোন সন্তান জন্ম না নেয়ায় ওই দম্পতি ভারতসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাক্তার ও ফকির দ্বারা চিকিৎসা ও ঝাঁড়-ফুক করায়। এতেও মলিনার গর্ভে কোন সন্তান আসেনি। বন্ধ্যা মলিনা হালদার জানায়, তার পিসি জামাই (ফুপা) কানাই তালুকদার গত ১৭ জুলাই দুপুর ২টার দিকে বার্থী গ্রামে তার স্বামী বাড়িতে এসে এক ফকিরের মোবাইলে তাকে (মলিনা) কথা বলায়। এরপর ওই ফকির তার (মলিনা) মোবাইল নম্বর নিয়ে ০১৯৪৪৬২৪৯৮৩ নাম্বার মোবাইল ফোন থেকে নিজেকে প্রফুল্ল গোসাই পরিচয় দিয়ে ওইদিন রাতেই ফোন করে তাকে (মলিনা) বলেন স্বর্ণালঙ্কার ও বিভিন্ন গাছগাছরা দিয়ে পূজা দিতে হবে।

গোসাই’র প্রস্তাবে সে (মলিনা) রাজি হলে গোসাই তাকে ফোনে ১৮ জুলাই সকালে নির্দেশ দেয়, ১২টি স্বর্ণালঙ্কারের সাথে বিভিন্ন গাছপালার শিঁকড় ও লতাপাতা পেচিয়ে ছোট (৯ইি দৈর্ঘ্য ও ৪ ইি প্রস্থ) ১টি বালিশের ভেতর রেখে সেলাই করে তা কালো ১টি পলিথিনের ব্যাগে আলমারীর মধ্যে রাখতে হবে। গোসাই’র নির্দেশ অনুযায়ী স্বর্ণের ৩টি চেইন, কানের ৪ জোরা দুল, ১টি আংটি (সাড়ে ৩ ভরি স্বর্নালংকার) দিয়ে কাজ বাস্তবায়ন করার পর ওইদিন দুপুরে গোসাই ফোনে আবার নির্দেশ দেয়, বিভিন্ন গাছের শিঁকর, বাকল, লতাপাতা একত্রে পেঁচিয়ে অনুরূপ আরেকটি বালিশ বানিয়ে তার ভেতর রেখে অনুরুপ কালো পলিথিন ব্যাগের মধ্যে রেখে আগের কালো ব্যাগের ওপর রাখতে হবে। নির্দেশ মতে কাজ করার পর গোসাই ফোনে আবার নির্দেশ দেয়, আলমারীতে প্রথম রাখা কালো ব্যাগটি (বালিশসহ) ১১ বছরের একটি ছেলেকে দিয়ে বহন করে ওইদিন (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় বার্থী কালী মন্দিরে গিয়ে পূজা দিতে হবে। এ বিষয়টি কাউকে বললে ও পূজা দিতে যাবার পথে পিছনের দিকে তাকালে পুত্র সন্তান পঙ্গু ও বাকপ্রতিবন্ধী হবে।

বন্ধ্যা মলিনা হালদার আরো জানান, পূজা দিতে যাওয়ার পথিমধ্যে গোসাই ফোনে নির্দেশ দেয় যে, পূজা দিতে যাবার পথিমধ্যে চৌধুরী বাড়ির কাছে রাস্তার পাশের বটগাছের গোড়ায় বহনকৃত কালো ব্যাগটি রেখে পিছনের দিকে না তাকিয়ে মন্দিরে সন্ধ্যা পূজা দিয়ে বাড়ি ফিরে যাবার সময় ব্যাগটি নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে। ওই ব্যাগটি আলমারীতে আগের স্থানে রাখতে হবে। এরপর ব্যাগটি ৩দিন পর খুলে স্বর্ণালংকার পড়বে। এর আগে ব্যাগ খুললে কোন ফল পাবে না। গোসাইর নির্দেশ অনুযায়ী পুঙ্খানু পুঙ্খানু কাজ বাস্তবায়ন করেন বন্ধ্যা মলিনা। স্বর্ণালংকার পড়ার জন্য ওই ব্যাগটি খুললে দেখতে পান, বালিশটি ব্লেড দিয়ে কাটা ও তার ভেতর কোন স্বর্ণালংকার নেই। মলিনার স্বামী রতন হালদার জানান, গোসাই মোবাইল ফোনে ১৮ জুলাই সকালে তাকে, তার মাকে ও স্ত্রীকে মন্ত্র পাঠ করায়। সন্তান লাভের আশায় তার স্ত্রী স্বর্ণের বিষয়টি তাকে না জানানোর কারণে প্রতারনার শিকার হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রতারকের মোবাইল ফোন নাম্বার উল্লেখ করে থানায় মামলা করা হবে বলে রতন হালদার জানান। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মুনিরুল ইসলাম মুনির বলেন, এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানিনা।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ