fbpx
26.8 C
Barisāl
Monday, September 27, 2021

ধানডোবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক ফয়সালকে বহিস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ ॥ অভিভাবকদের গণস্বাক্ষর

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ধানডোবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক ফয়সাল হাওলাদারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানী, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে তুলেছে স্কুলের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। ওই শিক্ষককে বহিস্কারের দাবিতে গতকাল বুধবার সকালে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ ছাড়া শতাধিক অভিভাবক তাকে স্কুল থেকে বহিস্কারের দাবিতে গণস্বাক্ষর দিয়ে তা প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ দাখিল করেছেন।
সরেজমিনে এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ধানডোবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ উপজেলার ধুরিয়াইল গ্রামের খোকন হাওলাদারের পুত্র ফয়সাল হাওলাদারকে (২৮) গত ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করেন। ওই স্কুলের অভিভাবক মোঃ রাব্বি হাওলাদার, মোফাজ্জেল হোসেন, জুলহাস হাওলাদার, মশিউর রহমান অভিযোগ করেন, ফয়সাল হাওলাদার স্কুলে যোগ দেয়ার পর ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ানোর নামে নানা ভাবে যৌন হয়রানি করে আসছে। গত ৪মাস পূর্বে দশম শ্রেনির এক ছাত্রীর কাছ থেকে কৌশলে নন জুডিশিয়াল সাদা ষ্টাম্পে স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ের কাগজ পত্র তৈরি করে তাকে স্ত্রী দাবি করেন। এ নিয়ে রাজিহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইলিয়াস তালুকদারের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠক বসে। সালিশ বৈঠকে ওই স্কুল ছাত্রী বিয়ের বিষয় কিছু জানেনা বলে জানায়। সালিশ বৈঠকে শিক্ষক ফয়সাল হাওলাদারের স্ত্রী দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ছাত্রীর অভিভাবকরা তাকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। কিছু দিন পর ওই ছাত্রীকে তার নিকটতম আত্মীয়র বাসা ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ছাত্রীর ভাই বলেন, ‘ফয়সাল আমাদের ইজ্জত যে ভাবে নষ্ট করেছে। এ ভাবে যেন আর কোন পরিবারের ইজ্জত নষ্ট না করে। এ ঘটনার পর শিক্ষক ফয়সাল হাওলাদারকে স্কুলে আসতে বারন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিছু দিন যেতে না যেতেই গত ১ জুলাই পূনরায় ফয়সাল স্কুলে আসতে শুরু করে। ফয়সাল হাওলাদার স্কুলে আসার প্রতিবাদে ও তাকে বহিস্কারের দাবিতে গত ১০ জুলাই ১০৮ জন অভিভাবক শিক্ষক ফয়সালের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ ১০টি অভিযোগ করে গণস্বাক্ষর দিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ দাখিল করেন। স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য শিমুল সরদার বলেন, ‘অভিভাবকদের গণস্বাক্ষর পাওয়ার পর আমি প্রধান শিক্ষক মানিক হাসানকে শিক্ষক ফয়সাল হাওলাদারকে বাদ দেয়ার জন্য বলেছি।
গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা শিক্ষক ফয়সালের বহিস্কারের দাবিতে নিখখোলা-বাশাইল সড়কের স্কুলের সম্মুখ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে স্কুলের ক্যাম্পাশে প্রবেশের সময় উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য নুর মোহাম্মদ সরদার মিছিলে বাঁধা প্রদান করেন। মিছিলে বাঁধা প্রদানের ব্যাপারে বক্তব্য নেয়ার জন্য নুর মোহাম্মদ সরদারকে একাধিকবার তার মুঠো ফোন দিলে তা রিসিভ করেননি।,
অভিযোগের ব্যাপারে খন্ডকালীন শিক্ষক ফয়সাল হাওলাদারকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল আমাকে বির্তকিত করার জন্য মনগড়া অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ ব্যাপারে ধানডোবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাজী মোসাদ্দেক আলী বাচ্চুকে তার মুঠো ফোনে ফোন দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিলে ব্যস্ত বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ধানডোবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক হাসান খন্ডকালীন শিক্ষক ফয়সাল পূনরায় স্কুলে যোগদানের ব্যাপারে বলেন, ‘তাকে বাতিল করা হয়নি। তার ব্যাক্তিগত কাজের জন্য কিছু দিন স্কুলে আসেন নি। গত ১ জুলাই আবার ফয়সাল স্কুলে আসতে শুরু করেছেন। গনস্বাক্ষের ব্যাপারে বলেন, স্কুলেরর প্রাক্তন ছাত্র মোঃ রাব্বি হাওলাদার ও আল আমীন আমার কাছে দাখিল করেন। পরবর্তীতে আল আমীন গনস্বাক্ষের অভিযোগ ফেরত নিয়ে যায়। ফয়সাল হাওলাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অভিভাবক মোঃ রাব্বি হাওলাদার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘১০৮জন অভিভাবকের স্বাক্ষরিত অভিযোগ আমি নিজে প্রধান শিক্ষক মানিক হাসানের কাছে দাখিল করেছি। প্রধান শিক্ষক কি ভাবে আল আমীনের কাছে তা ফেরত দেন। এটা আমার বোধগম্য নয়।’

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ