fbpx
27.4 C
Barisāl
Monday, September 27, 2021

অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে গৌরনদীতে বনায়ন প্রকল্পের কোটি টাকার গাছ ১০ লাখ টাকায় বিক্রি’র অভিযোগ

অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বরিশাল ও গৌরনদী বন বিভাগের কর্মকর্তারা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের কোটি টাকা মূল্যের গাছ নামেমাত্র ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগীরা এ অভিযোগ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের অধীনে ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের চালতাবাড়িয়া ব্রিজের কাছ থেকে বেবাজ্জ্যার খাল পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়িবাঁধের দু’পাশে সামাজিক বনায়ন প্রকল্প গ্রহণ করেন গৌরনদী বনবিভাগ। ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর গৌরনদী বনবিভাগ ও বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং প্রভাতি বনায়ন সমিতি’র সাথে ত্রিপক্ষীয় সামাজিক বনায়নের চুক্তি সম্পাদন করা হয়। সুবিধাভোগী নুর-আরম সেরনিয়াবাতকে সভাপতি করে ১২৬ সদস্য নিয়ে গ্রভাতি বনায়ন সমিতি গঠন করেন। চুক্তি সম্পদনের পর সবুজ বনায়ন প্রকল্পের আওতায় গৌরনদী বন বিভাগের অর্থায়নে সমিতির উদ্যোগে ওই ভেড়িবাঁধের দুই পাশে রেইনট্রি, মেহগনি, কড়ই, শিশু, রাজকড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১২ সহস্রাধিক গাছের চারা রোপণ করেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষ সুবিধাভোগীরা শতকরা ৫৫ ভাগ, দ্বিতীয় পক্ষ পানি উন্নয়ন বোর্ড শতকরা ২০ ভাগ, প্রথম পক্ষ বনবিভাগ শতকরা ১০ ভাগ, টিএফএফ (পুনঃ বনায়ন) শতকরা ১০ ভাগ, ইউপি পরিষদ শতকরা ৫ ভাগ ভোগ করবেন।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহাবুবুর রহমান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১২ কিলোমিটর বাঁধে সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের রোপিত গাছগুলো গত ১৯ বছরে কোটি টাকার সম্পদে পরিনত হয়েছে। সুবিধাভোগী সমিতির কতিপয় সদস্য’র যোগসাজশে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যামে গৌরনদী ও বরিশাল বন-বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে বাঁধের গাছগুলো পানির দরে বিক্রি করে দিয়েছেন। গাছ বিক্রি করতে হলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করে এনওসি চাইতে হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় গাছ বিক্রি হবে তা যৌথ পরামর্শে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে। কিন্তু বনবিভাগ পাউবিকে কিছু না জানিয়ে নিজের ইচ্ছামত সিন্ডিকেট করে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে দরপত্র আহবান করে পানির দামে গাছ বিক্রি করেছে। এমন কি বিক্রিত গাছের আমাদের অংশের টাকাও দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে লিখিত চিঠি দেয়া হলেও বন কর্মকর্তারা কোন জবাব দেননি।
গৌরনদী বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স শফিকুল ইসলামের কাছে ১৪টি লট ৫ লাখ ৭১ হাজার ৯শত টাকা, মেসার্স মিলন এন্টারপ্রাইজ’র কাছে ৬টি লট ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৮৭২ টাকা ও মোঃ হান্নান ফকিরের কাছে ১টি লট ৩৩ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরে বিক্রি করা হয়।
সুবিধাভোগী সমিতির সহ-সম্পাদক মফিজুল হক অভিযোগ করেন, সমিতির কতিপয় কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে বনবিভাগের কর্মকর্তারা আমাদেরকে কিছু না জানিয়ে কোটি টাকার গাছ পানির দরে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা ১২ কিলোমিটর বাঁধের বিভিন্ন স্পটে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
সুবিধাভোগী সমিতির সভাপতি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুর-আলম সেরনিয়াবাত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের অনুমতি নিয়ে টেন্ডারের যাবতীয় প্রক্রিয়া বনবিভাগ সম্পন্ন করেছে। আমার ধারনা বাজার মূল্যে ভেড়িবাঁধের গাছ বিক্রি করা হয়েছে।
অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে গৌরনদী বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সামাজিক বনায়ন ও নার্সারি/প্রশিক্ষন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আহম্মেদ বলেন, পানির দামে গাছ বিক্রির অভিযোগ সঠিক নহে। সর্বোচ্চ দরে গাছ বিক্রি করা হয়েছে। তাছাড়া বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দায়দায়িত্বে টেন্ডার আহ্বান ও কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম বলেন, এনওসি নেওয়ার বিধান নেই। টেন্ডার কমিটি যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ করে টেন্ডার আহ্বান করে সর্বোচ্চ দরে গাছ বিক্রি করেছে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ