fbpx
25.9 C
Barisāl
Sunday, October 24, 2021

গৌরনদীতে সিংহভাগ হিন্দু শিক্ষার্থীদের বাদ দেয়া হয়েছে উপবৃত্তির তালিকা থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্পূর্ন বিধি বর্হিভূতভাবে সিংহভাগ হিন্দু শিক্ষার্থীদের নাম বাদ দিয়ে চলতি বছর উপবৃত্তির তালিকা তৈরি করেছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সেলিম মিয়া। ফলে উপবৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ এনে রবিবার ওই তালিকা সংশোধনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে উপজেলার ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানগন লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তালিকা থেকে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা তার নিজ উদ্যোগে সিংহভাগ হিন্দু শিক্ষার্থীর নাম কর্তন করেছেন। সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের সিংহভাগের নাম কর্তনকে সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্দ ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (সেসিপ) যুগ্ন প্রোগ্রাম পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবরে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, উপজেলার মোট ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ সর্বমোট ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণীতে এ বছর মোট প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। সেসিপ প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০ শতাংশ ছাত্রী ও ২০ শতাংশ ছাত্র উপবৃত্তির সুবিধা ভোগ করবে। সেমতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ উপজেলা থেকে ষষ্ঠ শ্রেনীর মোট ৪৪১ জন ছাত্র ও ৭৭৩ জন ছাত্রীকে উপবৃত্তি প্রদানের জন্য তালিকাভূক্ত করা হয়।
১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানগন তাদের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সেলিম মিয়া সম্পূর্ন বিধিবহির্ভূতভাবে চলতি বছরের উপবৃত্তির তালিকা তৈরি করেছেন। উপবৃত্তির তালিকা থেকে তিনি অধিকাংশ হিন্দু শিক্ষার্থীদের নাম কেটে বাদ দিয়েছেন। ফলে উপবৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে এখানে চরম বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গৌরনদী গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মীর আব্দুল আহসান আজাদ, পালরদী মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক তপন কুমার রায়, টরকী বন্দর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক ব্রজেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, নাঠৈ রিজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক স্বপন কুমার মন্ডল জানান, তারা উপবৃত্তির বাছাই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেধাবীদের প্রাধান্য দিয়ে তালিকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম মিয়া নিজ উদ্যোগে অধিকাংশ হিন্দু শিক্ষার্থীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সেলিম মিয়া বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তালিকা থেকে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীদের নাম বাদ দিয়েছে। এর সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশালের পরিচালক মোঃ আব্দুল ইউনুস বলেন, স্থানীয়ভাবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধানশিক্ষকরাই এর তালিকা প্রস্তুত করে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিয়ে থাকেন। পরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেটি যাচাই বাছাই শেষে চূড়ান্ত করে আমাদের কাছে পাঠিয়ে থাকেন। সেখানে সংখ্য অনুপাতের একটি বিষয় থাকে, সেটিকে ঠিক রেখেই এটি করতে হয়। দেখতে হবে সেটি ঠিক আছে কিনা। সেসিপ প্রকল্পের যুগ্ম পরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) শেখ মোঃ আবু সাঈদ বলেন, এখানে সংখ্যালঘুর কোন বিষয় নেই। আমাদের নীতিমালায় সকল শিক্ষার্থীই সমান। আমি এখনও অভিযোগপত্র হাতে পাইনি, পেলে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ