fbpx
28.9 C
Barisāl
Wednesday, December 1, 2021

৪৬ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি মরার আগে একটু ঠিকানা পেতে চান অজিত কুমার

নিজস্ব প্রতিবেদক: মরার আগে স্ত্রী পরিজনদের নিয়ে বসবাসের জন্য সরকারের কাছ থেকে এক টুকরো জমি পেতে চান গৌরনদীর দি-রয়েল বেঙ্গল সার্কাসের রিংম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অজিত কুমার লুধ (৭০)। তিনি একজন জলেভাসা মানুষ। জীবনের ৪৫টি বছর কেটেছে সার্কাসের নৌকায়। বন্যহাতি, হিং¯্র বাঘ, ভাল্লুক, বানর, পোষা কুকুর, ছাগল, ভেড়া, হরিণ, ঘোড়া, গাধা, উটপাখী এইসব প্রানীদের বশে এনে খেলাধুলা শেখান। প্রানীরা তার কথা শোনে। এই বৃদ্ধ বয়সেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের দিয়ে খেলা দেখিয়ে দর্শকদের আনন্দ দিয়ে থাকেন অজিত। খেলা দেখাতে গিয়ে তিনি হিং¯্র জানোয়ারের দ্বারা আক্রমনের শিকার হয়েছেন বহুবার। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্নের দাগ আজও মুছে যায়নি তার।
জানাগেছে, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহন করেছেন অজিত কুমার লুধ। কুমিল্লা জেলার দ্বেবীদ্বার উপজেলার ললিতাসার তালতলা গ্রামের এক হিন্দু পরিবারে তার জন্ম। বাবা মনমোহন লুধ ছিলেন অসংখ্যবার বারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও ন্যাপের একজন প্রভাবশালী নেতা। স্বাধীনতা স্বপক্ষের লোক হওয়ার কারণে ৭১ সালে তার বাবা মনমোহন লুধ,মাতা মলিনা চক্রবর্তি,বড়ভাই অনিল কুমার লুধ ও ছোটবোন সমিলা লুধকে স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকসেনারা গুলি করে হত্যা করে এবং বাড়ী – ঘর পুড়িয়ে দেয়। জানাগেছে,ওই সময় অজিত ভারতের ইয়ুথ ক্যাম্পে ট্রেনিং রত ছিলেন।
অজিত কমার লুধ এ প্রতিবেদককে জানান, ৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে জাতীর জনকের ডাকে সারাদিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী ন্যাশন্যাল পার্টি (ন্যাপ) এর প্রধান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহম্মেদ এর নের্তৃত্বে ট্রেনিং গ্রহনের জন্য ভারতে গমন করেন। প্রথমে ইয়ুথ ক্যাম্পে পরবর্তিতে ত্রিপুরার পালাটানা ক্যাম্পে ট্যেনিং সমাপ্ত করার পর তাদের ২নং সেক্টরের অধীনে ওই সেক্টরের সেকেন্ড ইন কমান্ড ক্যাপ্টেন (অবঃ) সুজাত আলীর (সাবেক এমপি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদের ২৫ জনের ওই দলের গ্রুপ কমান্ডার ছিলেন দ্বেবিদ্বারের আঃ হালিম কমান্ডার। মুক্তিযোদ্ধা অজিত কুমার ক্যাপ্টেন সুজাত আলীর অধীনে দেবীদ্বার,চান্দিনা, হোমনা,পুরানা কালিবাড়ী এলাকায় পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। এসব যুদ্ধে তার সহযোগী ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ময়নামতি হেডকোয়াটারে ক্যাপ্টেন সুজাত আলী ও অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহম্মেদ এর কাছে অস্ত্র জমা দেন। স্বাধীনতা পরবর্তি সময়ে তিনি বরিশালের গৌরনদীর দি-রয়েল বেঙ্গল সার্কাসে চাকুরী নেন। তাদের বাড়ী-ঘর ও সমূদয় জায়গা-জমি তিতাস ও গোমতি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি আজ নিঃস্ব। বর্তমানে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন ভেসে চলেন দেশের এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্তে সার্কাসের নৌকায় নৌকায়। ১ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক অজিত। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও নানা কারণে আজও তার নাম গেজেট ভুক্ত হয়ণি। তাই মরার আগে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাসের জন্য এক টুকরা জমি চান বীর মুক্তিযোদ্ধা অজিত কুমার লুধ।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ