fbpx
27.4 C
Barisāl
Monday, September 27, 2021

গৌরনদীতে শৈত্যপ্রবাহে পান চাষীদের কোটি টাকার ক্ষতি

তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা আর অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে বরিশালের গৌরনদীতে পানচাষী এবং ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পরেছে। ঠান্ডাজনিত কারণে পান গাছে দাগ, শিকড় পচা ও পাতাঝরাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে। এর ফলে পানের বাজারে ধস নেমেছে। কমেছে দাম। গ এক সপ্তাহের মধ্যেই পানচাষী এবং এ অ লের ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
গৌরনদীতে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষের আবাদ হচ্ছে। এ এলাকার অধিকাংশ লোক পান চাষ করে জীবিকা নিবাহ করছেন। গত এক বছর থেকে বাজারে পানের দাম বেশি। কিন্তু আকস্মিক শৈত্যপ্রবাহের কারণে পানের পাতায় হলদে দাগ দেখা দিয়েছে। পচে যাচ্ছে পান পাতা। এক পোয়া (৩২ বিড়াই এক পোয়া এবং ৬৪ পানে এক বিড়া) বড় পানের দাম তিন হাজার থেকে নেমে আটশ’ টাকা, মধ্যম পান প্রতি পোয়া এক হাজার ছয়শ’ থেকে নেমে পাঁচশ’ এবং ছোট পান প্রতি পোয়া পাঁচশ’ থেকে নেমে তিনশ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন মোকামে কম দামে পান কিনেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তারা বলছেন, পানের পাতায় কালো দাগ থাকায় এবং পচে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থানের মোকামে আরও কম দামে পান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। পান পরিবহন এবং বিক্রিতে দু’দিন সময় লাগে। আর এ সময়ের মধ্যে পান পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে এ অ লের ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন বাজারে পানির দামে পান বিক্রি করছেন।
উপজেলার পানের বড় মোকাম নীলখোলা এলাহী পান ভান্ডারের মালিক বিশিষ্ট শিল্পপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন মুন্সী বলেন, সোমবার ২০ লাখ টাকার পান কিনি। সেদিনই তিনি ঢাকা, ফেনীসহ বিভিন্ন মোকামে পান সরবরাহ করেন। তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে প্রচন্ড ঠান্ডায় পানের পাতার ওপর কালো দাগ পড়া ও পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহকৃত পান নামে মাত্র টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।
একই ধরনের কথা বলেন, পান ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম খান, রুবেল খান, আনিচ তালুকদার, স্বপন গাজী।
নন্দনপট্রি গ্রামের পানচাষী আলমগীর কাজী, কটকস্থল গ্রামের আলাম মাঝি, স্বপন মাঝি, আলম হাওলাদারের বলেন, তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা আর অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহের কারণে পানের পাতা লালসে হয়ে ঝড়ে পরে। বরজ থেকে যখন পরা পান সংগ্রহ করতে গেলে অন্য পারও ঝড়ে যায়। এসব পান বাজারজাত করার জন্য পান গাদি করার সময় দেখা যাচ্ছে পাতায় কালো দাগ। আবার পচা পাতাও পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে পানের বাজারে ধস নেমেছে। একবিঘা বরজ করতে খরচ হয় ছয় লাখ টাকা। এবার লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন ব্যয় উঠবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। সংশিষ্ট কৃষি সম্প্রসারণে উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার এবার ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ রয়েছে। আমাদের পক্ষথেকে চাষীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পানবরজ বর্তমানে যে সব রোগবালাইয়ে সক্রমিত হয়েছে সে ব্যাপারে আমাদের মাঠকর্মীরা প্রতিনিয়ত চাষীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অতিরিক্ত শীতের কারণে এ ধরনের রোগবালাই হচ্ছে। আমরা আশা করছি, পানবরজের পরিচর্যা করলে এবং শীত কমে গেলে এক সপ্তাহের মধ্যে এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ