fbpx
28.9 C
Barisāl
Wednesday, December 1, 2021

একযুগ ধরে উন্নয়ন বি ত মুক্তিযোদ্ধার গ্রাম একমাত্র ব্রীজ চলাচলে অনুপযোগী বেহাল সড়ক ॥ চরম ভোগান্তি

মুক্তিযোদ্ধার গ্রাম হিসেবে পরিচিত এলাকায় দীর্ঘ একযুগ ধরে সকল প্রকার উন্নয়ন থেকে বি ত রয়েছে। গ্রামের বাসিন্দাদের হাট-বাজারে যাতায়াতের একমাত্র ব্রীজটি সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন থেকে চলাচলে সম্পূর্ণ অনুপযোগী ও একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি বেহাল হয়ে পরে থাকলেও বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। ফলে থমকে গেছে ওই এলাকার জনজীবন। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের কটকস্থল গ্রামের।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশ্ববর্তী বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের উত্তরপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কটকস্থল গ্রাম হয়ে বাউরগাতী গ্রাম ও টরকী বন্দরে যাতায়াতের একমাত্র জনগুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তাটি দীর্ঘদিনেও পাকা না হওয়ায় যানবাহনতো দূরের কথা পায়ে হেটে চলাচলই দুরহৃ হয়ে পরেছে। রাস্তার মধ্যে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে হাঁটু সমান কাঁদা পেরিয়ে কটকস্থল গ্রামের প্রায় দশ হাজার মানুষকে চলাচল করতে হয়। এছাড়া ওই রাস্তার মধ্যকার একমাত্র চারঘাটা ব্রীজটি দীর্ঘদিনেও সংস্কার না করায় সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য এখন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে।
স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধ ও সর্বসাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ ওই ব্রীজ দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পন্য যানবাহনের মাধ্যমে হাট-বাজারে সরবরাহ করতে না পারায় লোকসানের সম্মূখিন হচ্ছেন। এছাড়া গ্রামের কেউ অসুস্থ্য হয়ে পরলে জরুরিভাবে তাকে হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। ওই এলাকার জনগুরুতপূর্ণ রাস্তা ও একমাত্র ব্রীজের বেহাল দশার কারণে এক যুগেরও অধিক সময় ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন কটকস্থল গ্রামের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা।
ওই গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নাজেম আলী সরদার জানান, কটকস্থল গ্রামে ২০জন মুক্তিযোদ্ধার বসবাস। তাই এ গ্রামটিকে সবাই মুক্তিযোদ্ধার গ্রাম নামেই চেনেন। তিনি আরও জানান, কটকস্থল গ্রামে চারটি প্রাথমিক, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুটি মাদ্রাসা, তিনটি মসজিদ থাকলেও চলাচলের জন্য একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি দীর্ঘদিনেও পাকা করা হয়নি। এছাড়া একমাত্র ব্রীজটি চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পরেছে। মুক্তিযোদ্ধা নাজেম আলী সরদার আরও জানান, উপজেলার সর্বত্র ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকলেও বার্থী ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় সংসদ সদস্যর কাছে কটকস্থল গ্রামবাসীর দুদর্শার কথা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারায় পুরো গ্রামটি উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বি ত রয়েছে।
ওই গ্রামের পান চাষী আব্দুর রব সরদার বলেন, কষ্ট করে মুলধন খাঁটিয়ে চাষাবাদ করলেও ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজ ও খানাখন্দের কাঁচা রাস্তার কারণে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় বাজারে পন্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে তাদের চরম লোকসানের মুখে পরতে হচ্ছে। চারঘাটা মসজিদের ইমাম আবু সালেহ বলেন, দীর্ঘদিন পূর্বে গ্রামের মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে ভাঙ্গা ব্রীজের ওপর কাঠ দিয়ে বিকল্পভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। গত কয়েকমাস পূর্বে বিকল্প ব্যবস্থাও ভেঙ্গে পরেছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ব্রীজ দিয়ে এখন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভূক্তভোগী গ্রামবাসী জরুরী ভিত্তিতে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজটি সংস্কার ও একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ