fbpx
28.5 C
Barisāl
Monday, April 12, 2021

গৌরনদীর দিশেহারা মজিবুর রহমান এখন মোমবাতি আগরবাতি ও মাজন তৈরির কারখানার মালিক

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী গ্রামের মোঃ ইচহাক সরদারের ছেলে মোঃ মজিবুর রহমান। ছোট্ট বয়সে তার বাবা মারা যান এতে তার পরিবারের সকলের দ্বায়িত্ব পরে তার উপর। এই অবস্থায় তিনি কি করবেন তা ভেবে পাচ্ছিলেন না। অসহায় মনে করে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় চলে যান এবং অন্যের সাথে গাড়িতে গাড়িতে উঠে হকারী ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু যে আয় হয় তা দিয়ে তাদের সংসার চলেনা। কয়েক বছর পর ঢাকা থেকে তিনি পূনরায় গ্রামে ফিরে আসেন। তিনি খেয়ে না খেয়ে পরিশ্রম করতে লাগলেন। কিন্তু মূলধনের অভাবে কোন কাজই সঠিক ভাবে করে উঠতে পারছিলেন না, এমনকি ছেলে-মেয়েদের স্কুলের লেখা পরাও সঠিক ভাবে করাতে পারছিলেন না। এমন সময় তাদের বাড়ীর পাশে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বিডিএস) কর্মীর সাথে দেখা হয় । তার পরামর্শ শুনে বিডিএস এর সকল নিয়ম কানুন মেনে আশোকাঠী পুরুষ সমিতিতে সদস্য হন এবং নিয়মিত স য় প্রদান করতে থাকেন। তিনি মূলধন তৈরির জন্য প্রথম বার বিডিএস থেকে ত্রিশ হাজার টাকা ঋন নিয়ে দাতের মাজন তৈরির কাজ শুরু করেন। তখন তার পরিবারের অভাব অনটন কিছুটা কমতে থাকে। ছেলে মেয়েদের ও স্কুলে পাঠাতে থাকেন। তিনি তার ব্যবসা বৃদ্বির পরিকল্পনা করতে থাকেন। তখন দ্বিতীয় বার প াশ হাজার টাকা ঋন নিয়ে মোমবাতি তৈরির কাজ শুরু করেন। উক্ত ব্যবসা থেকে প্রচুর মূনাফাও অর্জন করেন । ঐ সময় এক মাত্র মেয়েটিকে ভাল পাত্রের হাতে তুলে দিয়ে দুশ্চিন্তা মুক্ত হন। পর্যায়ক্রমে দুই লক্ষ টাকা অগ্রসর ঋন নিয়ে দাতের মাজন ,মোবাতির পাশাপাশি আগর বাতি ও তৈরি শুরু করেন। তার ব্যবসায় নিজে অর্ডার নেন এবং ছেলে সহ নিজে মালামাল দোকানে দোকানে পৌছে দেন । তার মোমবাতি আগরবাতি ও দাতের মাজন কারখানায় এখন তিন জন শ্রমিক কাজ করে, পাশাপাশি তার স্ত্রী ও সার্বিক সহযোগিতা করে থাকেন। এখন মজিবুর রহমান তার ছেলে ও মেয়েকে বড় করেছেন, তার পরিবারে এখন আর কোন অভাব অনটন নেই। বিডিএস থেকে সর্বমোট পাঁচ বার ঋন গ্রহন করে আজ সাবলম্বী। বিডিএস গৌরনদী শাখার সিনিয়র শাখা ব্যবস্থাপক এস,এম,মেহেদী হাসান মনির এর উদ্যোগে মজিবুর রহমান বরিশাল উন্নয়ন মেলা ২০১৮ অংশ গ্রহন করেন। চারদিকে তার যথেষ্ট সূনামও বৃদ্বি পেয়েছে। তিনি বিডিএস কর্তৃপক্ষ সহ সকলকে ধন্যবাদ জানান।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ