fbpx
28.5 C
Barisāl
Monday, April 12, 2021

দুই মাস ধরে গৌরনদী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে পানি সরবারহ বন্ধ, নাগরিকদের চরম দূর্ভোগ

বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার পাম্প বিকল হয়ে গত দুই মাস যাবত পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে সুন্দরদী, নবী-নগর, বেকীনগর, টরকীবন্দর, পালপাড়া মহল্লায় পানি সরবারহ বন্ধ রয়েছে। ফলে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও বাসা বাড়ি, কোয়াটার, বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ নাগরিকদের বাসা বাড়িতে পানি সরবারহ নেই। পানি সরবারহ না থাকায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ১নং ওয়ার্ডের নাগকরিকসহ সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বৃহৎ ব্যবসায়ী বন্দর টরকী বন্দরের শত শত ব্যবসায়ীকে। পানি সরবারহ বন্ধ হওয়ার পরে দুই মাস অতিক্রম হলেও তা সচল করতে কোনই পদক্ষেপ নিচ্ছেন না পৌর কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে ভূক্ত ভোগী পৌরবাসী, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গৌরনদীর পৌর সভার ১নং ওয়ার্ডে নাগরিকদের পানির সুবিধা দিতে ২০০৩ সালে ওই ওয়ার্ডের টরকীতে পাম্প হাউজ নির্মান করে ওয়ার্ডবাসরি মধ্যে পানি সরবারহ করে আসছিল পৌর কর্তৃপক্ষ। গত ২২ জানুয়ারি হঠাৎ পাম্প হাউজ বিকল হয়ে পানি সরবারহ বন্ধ হয়ে যায়। পানি সংকটে পরেন পানি ব্যবহারকারী ১নং ওয়ার্ডের নাগরিক, সরকারি-বেসরকারি অফিস ও বাসা বাড়ি, কোয়াটার, বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান লোকজন।
সরেজমিনে গেলে টরকী বন্দরের ব্যবসায়ী অঞ্জন দাস (৪৫) জানান, দক্ষিনা লের বৃহৎ ব্যবসায়ী বন্দর টরকী। এখানে সরকারি বেসরকারি অফিস, পুলিশ ফাঁড়ি, ব্যাংক-বীমা অফিসসহ কয়েক হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা বাড়ি রয়েছে। এ এলাকায় দীর্ঘ দুই মাস ধরে পানি সরবারহ বন্ধ রয়েছে। ফলে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। বিষয়টি একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও পানি সরবারহের কোন উদ্যোগ গ্রহন করেননি পৌর কতৃৃপক্ষ। বাসিন্দা বিপুল ঘোষ (৪৩), মো. লিয়াকত হোসেন (৫৮)সহ অনেকেই জানান, দুই মাস পানি সরবারব বন্ধ থাকায় বাসা বাড়ি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দূগন্ধযুক্ত নোংরা স্থানে পরিনত হয়েছে। বার বার কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্না দিলেও কোন লাভ হচ্ছে না।
টরকী বন্দরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক মো. আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পানি সরবারহ বন্ধ থাকায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানি না থাকায় হাসপাতালের শৌচাগারসহ আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। লোকজন দিয়ে দুর থেকে পানি এনে সরবারহ করা হলেও তাতে চাহিদা পুরন না হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হয় হাসপাতালে আসা নারী ও শিশুসহ রোগীকে। গৃহীনি সুষমা বালা, মমতাজ বেগম, নাসিমা আক্তার বলেন, অনেক দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করি কিন্তু বাসার তৈজসপত্র পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পানি সংকটে দূর্বিসহ জীবন যাপন করছি। দুই মাস পানি সরবারহ বন্ধ থাকায় আমাদের বাসাবাড়ি বাস অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যেন দেখার কেউ নেই। মহাকষ্টে দিন কাটাচ্ছি। সবচেয়ে নোংরা ও দূর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ দেখা গেছে টরকী মাছ বাজারে। পানি সরবারহ বন্ধ থাকায় দিনের বেচাবিক্রির শেষে তা পরিস্কার করতে না পারায় ময়লা ও নোংরা পরিবেশ তৈরী হয়েছে। যা ক্রেতা সাধারনকে অসুস্থ্য করে তোলে। মাছ ব্যবসায়ী এবায়েদুল হক, মো. জুলহাস বলেন, দুর থেকে টিউবয়ের চেপে পানি এনে পরিস্কার করার চেষ্টা করি কিন্তু তাতে পুরোপুরি পরিস্কার করা সম্ভব নয়।

এ প্রসঙ্গে গৌরনদী পৌর সভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী পানি শাখার অতিরিক্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. মামুন অর রশিদ বলেন, টরকী পাম্প হাউজটির কলম পাইপ ও ফিল্টার ফাটলের কারনে পাম্প হাউজ ব্লক হয়ে গেছে। হাউজটি সংস্কারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও তা সচল করা সম্ভব হওয় উঠেনি। যে কারনে পানি সরবারহ বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ পানি সরবারহ করা তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে তিনি জানান।
এ প্রসঙ্গে গৌরনদী পৌর সভার মেয়র মোঃ হারিছুর রহমান বলেন, ‘পানিরস্থর নিচে নেমে যাওয়ায় পাম্প হাউজে কাজ করছে না। নতুন করে পাম্প হাউজ তৈরি করার জন্য জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি প্রেরন করা হয়েছে।’

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ