fbpx
28.9 C
Barisāl
Wednesday, December 1, 2021

চিকিৎসা সেবা থেকে বি ত হচ্ছে সাধারণ জনগণ আগৈলঝাড়ায় একজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে পাঁচ লক্ষাধিক জনগনের স্বাস্থ্য সেবা।

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ৫০ শয্যার হাসপাতালের মূলভবন ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় পরিণত। একজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক জনগণের স্বাস্থ্য সেবা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক সংকটের কারণে তিন লাখেরও বেশী জনসংখ্যা অধ্যুষিত আগৈলঝাড়া উপজেলা ও পাশ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলার পশ্চিমাংশ, উজিরপুরের উপজেলার উত্তরাংশ ও কোটালীপাড়া উপজেলার পূর্বাংশের অন্তত পাঁচ লক্ষাধিক জনগন চিকিৎসা সেবা থেকে বি ত হচ্ছে। এলাকার জন সাধারনের চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা এলাকায় ৩১ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০০৪ সালে ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হয়। উপজেলার ৫০ শয্যার এ হাসপাতালের আওতায় ৫ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র (সাব সেন্টার)সহ চিকিৎসকদের ২৬টি পদ রয়েছে। এ সকল পদের মধ্যে ২৩ জন চিকিৎসকের পদ দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ শূণ্য রয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের মূলভবন ঝুকিপূর্ন হয়ে পরেছে। এমনকি ভর্তি রোগীদের গায়ে মাঝে মধ্যে ভবনের প্লাস্টার খসে পরছে। এ কারণে ভয়ে অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে অনিহা প্রকাশ করেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে কার্যক্রম। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আলতাফ হোসেন ব্যস্ত থাকেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে। আরএমও ডাঃ বখতিয়ার আল মামুন একা সব সময় হাসপাতালের আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে থাকেন। মেডিকেল অফিসার ডাঃ জ্যোতি রানী বিশ্বাস হাসপাতালে কর্মরত থাকলেও তিনি মাসের বেশী সময় ঢাকার বাসায় থাকেন। একাধিক সূত্র মতে, হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর দলাদলির কারনেও কাংখিত স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। এ কারনে চিকিৎসকদের হাসপাতালে বদলী করা হলেও তদবিরের মাধ্যমে তারা অন্য হাসপাতালে চলে যায়। একজন চিকিৎসকের অধীনে ইমারজেন্সিতে ভর্তিকৃত রোগী হাসপাতালের বেডে পরে থাকলেও অন্য চিকিৎসক ওই রোগীকে দেখেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দ্বন্দ আর কোন্দলের কারণে চিকিৎসাযোগ্য রোগীদেরও উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি না করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলে রেফার্ট করে আসছেন চিকিৎসকেরা। ফলে অসহায় ও দরিদ্র রোগিদের অর্থ সংকটে পড়তে হয় মহাবিপদে। থানা সূত্রে জানা গেছে, অনেকেই মারামারির ঘটনায় গুরুতর জখমের চিহ্ন না থাকলেও তাৎক্ষনিক রোগী নিয়ে থানায় মামলা করতে এলে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে তাকে চিকিৎসা নিতে পরমর্শ প্রদান করলে ওই রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পরবর্তিতে ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬ এর মত গুরুতর জখমী ধারার সার্টিফিকেট নিয়ে থানায় বা আদালতে মামলা দায়ের করছেন। পক্ষান্তরে চিকিৎসকদের চাহিদানুযায়ি অর্থ না দিলে গুরুতর জখমী রোগীদেরও “নরমাল” সার্টিফিকেটে বানিজ্য চলে আসছে হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবৎ। ফলে এলাকায় মিথ্যা মামলার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। থানায় মোট মামলার প্রায় অর্ধেক সার্টিফিকেটের কারণে মামলা নিতে হয় পুলিশের। হাসপাতালে ২৬টি ডাক্তারদের শূণ্য পদের মধ্যে ৩ জন ডাক্তার বর্তমানে রয়েছে। ৩ জন চিকিৎসকের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আলতাফ হোসেন ব্যস্ত থাকেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে। বর্তমানে আরএমও ডাঃ বখতিয়ার আল মামুন ও মেডিকেল অফিসার ডাঃ জ্যোতি রানী বিশ্বাস হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। মেডিকেল অফিসার ডাঃ জ্যোতি রানী বিশ্বাস মাসের বেশীর ভাগ সময় ঢাকায় থাকার কারনে ডাঃ বখতিয়ার আল মামুন হাসপাতালে আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে রীতিমত হিমসিম খাচ্ছেন। এ ছাড়া হাসপাতালের মূলভবন ঝুকিপূর্ণ হয়ে পরেছে। এমনকি ভর্তি রোগীদের গায়ে মাঝে মধ্যে ভবনের প্লাস্টার খসে পরছে। একারনে ভয়ে অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি অনিহা প্রকাশ করে। ডাক্তার সংকটের কারনে হাসপাতালে আসা রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বি ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের ইউএইচএএফপিও ডাঃ মো. আলতাফ হোসেন চিকিৎসক শুন্যতা আর সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। চিকিৎসকদের মধ্যে কোন দলাদলি নেই জানিয়ে সার্টিফিকেট বানিজ্যর অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ