fbpx
25.6 C
Barisāl
Tuesday, September 28, 2021

প্রাচীন নিদর্শন ঐতিহ্যবাহী আল্লাহর মসজিদ (কসবা মসজিদ)

গৌরনদী থানা সদর থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে বড় কসবা নামক গ্রামের মনোরম পরিবেশে একটি উন্মুক্ত স্থানে অতি প্রাচীন কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী “আল্লাহর মসজিদ”। এটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ঐতিহ্য ধরে রাখার সুষ্ঠ রক্ষনাবেক্ষন ব্যবস্থা না থাকায় আজ ধ্বংস হতে চলছে। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর মসজিদ নামে নির্মিত এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটির নির্মান ইতিহাস সম্পর্কে যা জানা যায় তা হলো অতি প্রাচীন এই বড় কসবা গ্রামটির ওই এলাকাটি এক সময় গভীর জঙ্গলে পূর্ন ছিল।

সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে এই জঙ্গল আবাদ করার জন্য এক দল লোক নিয়ে সম্রাট জঙ্গল কেটে পরিস্কার করার সময় নয়টি গম্বুজ, পাচঁটি দরজা ও বহু মূল্যবান শ্বেত পাথরের এ মসজিদটির সন্ধান পান। গভীর জঙ্গল কেটে মসজিদ দেখতে পেয়ে এর কোন প্রতিষ্ঠাতা বা নির্মারকারীর সন্ধান না পেয়ে তখন ওই এলাকার মুসলমানরা এর নাম রাখেন “আল্লাহর মসজিদ”। এই মসজিদকে ঘিরে ওই এলাকার আদিবাসীসহ ঐতিহাসিকগনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেল অলৌকিক এক ঐতিহাসিক ঘটনা। আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর পূর্বে এক অন্ধকার রাতে মসজিদটি পূর্ব পাশের দীঘি থেকে অলৌকিক ভাবে ঐশ্বরিক মনি-মুক্তা ও শ্বেত পাথরের আটটি খাম্বা ওঠে।

তার মধ্যে চারটি ওই মসজিদের মধ্যে অবস্থান নেয়। যা মসজিদের গম্বুজের সাথে মিশে যায়। অন্য চারটি খাম্বা ওই বিশাল দীঘি থেকে উঠতে থাকা অবস্থায় সুবহে ছাদেকের সময়ে ওই এলাকায় জৈনিকা নববধূ গোসল করতে দীঘির পাড়ে গিয়ে ঐশ্বরিক ওই চারটি খাম্বার উপর উঠলে খাম্বা চারটি দীঘির পানির নিচে চলে যায়। সেই থেকে মসজিদের মধ্যে থাকা খাম্বা চারটি থেকে আজ পর্যন্ত আল্লাহর কুদরতি তেল জাতীয় পদার্থ বের হচ্ছে। ওই তেলকে ওই এলাকার মানুষ রহমতের তেল বলে মনে করে। ওই তেল জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করে অনেক অনেক কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে এলাকার জনশ্রুতি রয়েছে। ফলে প্রতিদিন জাতি-ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে হাজার হাজার লোক ওই তেল সংগ্রহের জন্য এখানে উপস্থিত হয়। এতে বহু লোক দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ করেছে এমন নজিরও রয়েছে এখানে।

১৯৬৮ সালে তৎকালীন সরকার ঐতিহ্যবাহী ওই প্রাচীন আল্লাহর মসজিদের জন্য মোট সত্তর শতাংশ জমি মসজিদের দখলে নেয়। স্থানীয় জনসাধারন মসজিদটির পবিত্রতা রক্ষা ও সুষ্ঠ রক্ষনাবেক্ষনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। মসজিদের মধ্যে বহু মূল্যবান শ্বেত পাথর এখন বিলুপ্তির পথে। অসংখ্য পাথরের মধ্যে এখন মাত্র ১২টি ছোট পাথর রয়েছে। প্রাচীনতম ইটগুলো ঝরে  পড়েছে। মসজিদের কোন বাউন্ডারি না থাকায় সেখানের মাঠে অবাধে গবাদী পশু বিচরন করে নষ্ট করেছে মসজিদের পবিত্রতা।

গৌরনদী উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম মোঃ শামসুল হক মিয়া মসজিদের দীঘিতে একটি বড় ঘাটলা তৈরী করে দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন মসজিদের দীঘিতে মাছ চাষ করে প্রতিবছর বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় করছেন। এখানকার জনসাধারন মসজিদটির সুষ্ঠু রক্ষনাবেক্ষন ও সংস্কারের মাধ্যমে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কালের সাক্ষী এ মসজিদটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ