fbpx
31.4 C
Barisāl
Sunday, September 26, 2021

আগৈলঝাড়ায় ব্রীজ না থাকায় চড়ম ভোগান্তিতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা।

বরিশালের আগৈলঝাড়ার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সন্ধ্যা নদীতে উপজেলার বাগধা নামক স্থানে নদী পারাপারে কোন ব্রীজ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়ার মাধ্যমে নদী পার হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। এ কারনে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশু, বয়স্কসহ স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের। খেয়ার মাধ্যমে নদী পার হতে গিয়ে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। পার্শ্ববর্তী উজিরপুর, বানরীপাড়া উপজেলা হয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সারহাট, বাগধা ও আমবৌলা গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সন্ধ্যা নদীর উপর বরিশাল-গোপালগঞ্জ-খুলনা মহাসড়কে উপজেলার পয়সারহাট নামক স্থানে নদী পারাপারের জন্য একমাত্র ব্রীজ থাকলেও সহজ যোগাযোগের জন্য উপজেলার বাগধা ও আমবৌলা গ্রামের লোকজন খেয়া মাধ্যমেই পার হয় নদীর এপার থেকে ওপার। এছাড়াও নদীর পশ্চিম পারে একাধিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ স্থানীয় হাট-বাজার থাকায় নদীর পূর্ব পারের শিক্ষার্থী ও লোকজনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হলো খেয়া বা নৌকার মাধ্যমে নদী পার হওয়া। খেয়ার মাধ্যমে নদী পার হতে তাদের সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। অন্যদিকে পয়সারহাটে অবস্থিত ব্রীজ ঘুরে যাতায়াতে তাদের সময় লাগে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট। এ কারনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়ার মাধ্যমেই নদী পার হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। এ পরিস্থিতিতে এখানে একটি ব্রীজ নির্মাণের জোর দাবী তুলেছেন ভূক্তভোগী স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর এপার থেকে অন্তত ২৫ জন যাত্রী ওপারের যাওয়ার জন্য খেয়ায় চেপেছে। এর মধ্যে শিশুসহ ১০জন ছাত্রীও রয়েছে। এভাবেই প্রতিনিয়ত নদী পার হয়ে আসছে এ গ্রামের লোকজন।
বাগধা স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্রী মিলি খানম বলেন, এখানে খেয়ার মাধ্যমে নদী পার হতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যা হয়। খেয়ার নৌকায় উঠতে গিয়ে অনেক সময় আমরা পড়ে গিয়ে আহত হই এবং সময়মত খেয়া না পেলে আমাদের নির্ধারিত সময়ে ক্লাশে উপস্থিত হতে পারিনা। যে কারনে আমাদের লেখা পড়ায় অনেক সমস্যা হয়। তাই আমাদের এখানে নদী পারাপারের জন্য একটি ব্রীজ নির্মানের জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।
কলেজ ছাত্রী মিলি’র কথার সাথে একমত পোষন করে একাধিক এলাকাবাসী বলেন, ব্রীজের অভাবে এ অ লের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। নদীর এপারে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা ও অপর পারে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপেক্স ও ইউপি কার্যালয় অবস্থিত। তাই ওপারের অন্তত ১ হাজার থেকে ১২শ শিক্ষার্থীকে নদী পার হয়ে এপারে অর্থাৎ পশ্চিম পারে আসতে হয়। অন্যদিকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপেক্স ও ইউপি কার্যালয় ওপারে অর্থাৎ নদীর পূর্ব পারে অবস্থিত হওয়ায় আমাদেরকে প্রতিদিনই ওপারে যেতে হয়। পয়সারহাটে অবস্থিত ব্রীজ ঘুরে যাতায়াতে আমাদের অনেক সময় লাগে এজন্য আমরা এই খেয়ার মাধ্যমেই নদী পার হয়ে থাকি। ভাটির সময় খেয়ার নৌকা কিনারায় না আসাসহ ঝড় বৃষ্টির সময় নৌকায় উঠতে ও নামতে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। এত সব সমস্যা থাকা সত্বেও আমারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ খেয়ার মাধ্যমে নদী পার হই। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের পেশার কারণেই তাদের প্রতিদিন এপার থেকে ওপারে যেতে হয়। একেকবার খেয়া পার হতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লেগে যায়। তাই এখানে একটি ব্রীজ নির্মান করা হলে উপকৃত হবে এ গ্রামের স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ হাজারো লোকজন। তাই আমরা এখানে একটি ব্রিজ নির্মানের জন্য সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রাজ কুমার গাইন বলেন, ওখানে (বাগধা খেয়া ঘাটে) একটি সেতু নির্মানের জন্য বরিশাল এলজিইডি অফিসে প্রস্তাব করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বরিশাল এলজিইডি অফিস থেকে ওখানকার মাটি পরীক্ষাসহ সব ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন টেন্ডার আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ