fbpx
32.8 C
Barisāl
Sunday, September 26, 2021

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের চিকিৎসার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেন স্থানীয় এপি ও উপজেলা প্রশাসন

”টাকার অভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের চিকিৎসা বন্ধ” এ শিরোনামে গত ১৯ জানুয়ারী দৈনিক বরিশাল প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর ওই দিনই বরিশাল-১ আসনের নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য পার্বত্য শন্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের চিকিৎসার জন্য নগদ এক লক্ষ টাকা প্রদান করেন। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নির্দেশে গৌরনদী উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র হারিছুর রহমান শনিবার সন্ধায় মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেকের বাড়ীতে ছুটে যান। তিনি এমপির নিজস্ব তহবিল থেকে নগদ পাঠানো ১ লক্ষ টাকা মুক্তিযোদ্ধার হাতে তুলে দেন। রবিবার বিকেলে উপজেলা নিবার্হী অফিসার খালেদা নাছরিন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের বাড়ি কতুবপুর গ্রামে ছুটে যান। এ সময় তিনি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের চিকিৎসার দায়ভার গ্রহন করে নগদ টাকা ও শীত বস্ত্র প্রদান করেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়ার রহমান ও উপজেলা প্রশাসন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ তহবিল থেকে চিকিৎসার জন্য অর্থ প্রদানের আশ্বাস দেন। এ সময় বাংলাদেশ গ্রামীণ সাংবাদিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও গৌরনদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন মিয়া, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব জামাল হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার গৌরঙ্গ প্রসাদ গাইন, গৌরনদী রিপোর্টাস ইউনিটির দপ্তর সম্পাদক মোল্লা ফারুক হাসান উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, ৬ বছর আগে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে গৌরনদীর কুতুবপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক (বীর প্রতীক) পঙ্গুত্ব বরণ করেন। তার বাম হাত ও পা অবশ হয়ে গেছে। ডায়াবেটিকস, হৃদরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি ও শ্রবণশক্তি হারিয়ে তিনি এখন শয্যাশায়ী। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী রণাঙ্গন কাঁপানো গ্রুপ কমান্ডার, খেতাব প্রাপ্ত সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক (৭৭) নানা রোগের কাছে আজ একজন পরাজিত সৈনিক। তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিকভাবে আজ প্রায় নিঃস্ব। ২০১৩ সালে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক (বীর প্রতীক) পঙ্গুত্ব¡ বরণ করেন। জমা-জমি বিক্রি করে চিকিৎসার খরচ চালায় তার পরিবার। এরপর ২ বছর আগে তার স্ত্রী রাবেয়া বেগমের উভয় কিডনিতে পাথর ধরা পরে। অপারেশন করে পাথর অপসারণ করতে বহু টাকা খরচ হয়েছে। তার ৩ ছেলে ২ মেয়ে এখনো লেখাপড়া করছে। মুক্তিযোদ্ধার পেনশন ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকায় সংসারের খরচ চালাতে হয়। এমতবস্থ্যয় আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির সাহায্য পেয়ে ওই পরিবারের মাঝে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের উন্নত চিকিৎসার জন্য এমপি ও প্রশাসনের সহায়তা পেয়ে তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম ও তার ছেলে মেয়েরা বেজায় খুশি ও কৃতজ্ঞ।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ