fbpx
25.6 C
Barisāl
Tuesday, September 28, 2021

উজিরপুর হাসপাতালের ঔষধ আত্মসাতে তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপারের বিরুদ্ধে রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত ঔষধের চাহিদাপত্র জালিয়াতি করে কয়েক লাখ টাকার ঔষধ আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ায় গত ২৬ জানুয়ারি বরিশাল সিভিল সার্জন ডা: মনোয়ার হোসেন উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বর্হিবিভাগের রোগীদের মাঝে ঔষধ বিতরনের রেজিষ্ট্রার খাতা তল্লাশি করে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ঔষধের গড়মিল পান।

বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তাৎক্ষনিকভাবে তিনি (সিভিল সার্জন) উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: একেএম শামছ উদ্দিনকে নির্দেশ দেন। এরপরই ওইদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাসপাতালের চিকিৎসক সৈব্য সাচী দাস সানি (আরএমও) এবং চিকিৎসক শওকত আলীকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তাদেরকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের গত ডিসেম্বর মাসে হাসপাতালের বর্হিবিভাগের রোগীদের মাঝে ঔষধ বিতরনের জন্য সেবিকা ফাতেমা বেগম একটি রেজিষ্ট্রার খাতায় চাহিদাপত্র দাখিল করেন। ওই চাহিদাপত্রে তিনি রোগীদের জন্য এ্যান্টিবায়োটিক ক্যাপসুল স্যাফিকজিন ৩’শ পিচ, ব্যথা নাশক ইনজেক্টশন কিটোরোলাক ১’শ ৮০ পিচ ও গ্যাস্টিকের ক্যাপসুল ওমিপ্রাজল ১’শ পিচ ঔষধ চান।

স্টোর কিপার মনিরুজ্জামানও তাকে চাহিদাপত্র অনুযায়ী ঔষধ প্রদান করেন। কিন্তু ঔষধ চেয়ে সেবিকার দাখিলকৃত ওই চাহিদাপত্রের রেজিষ্ট্রার খাতায় জালিয়াতি (ওভারাইটিং) করে স্টোর কিপার মনির এ্যান্টিবায়োটিক ক্যাপসুল স্যাফিকজিন ৩ শত’র স্থলে ৪ হাজার ৩’শ পিচ, ব্যথা নাশক ইনজেক্টশন কিটোরোলাক ১’শ ৮০ এর স্থলে ১ হাজার ৮’শ পিচ ও গ্যাস্টিকের ক্যাপসুল ওমিপ্রাজল ১’শ এর স্থলে ৫ হাজার ১’শ পিচ ঔষধ লিখেন এবং অতিরিক্ত প্রায় আড়াই লাখ টাকার ঔষধ নিজে আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই মনির নিজেকে রক্ষা করার জন্য সরকারদলীয় স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের দিয়ে বিষয়টি ধাঁমাচাঁপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এদিকে এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক শওকত আলী জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ঔষধ আত্মসাতের কিছুটা সত্যতা পাওয়া গেছে এবং আরও তদন্ত চলছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: এ.কে.এম সামছউদ্দিন প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীণ রয়েছে। পাশাপাশি এর বাইরে আরও কোনো অনিয়ম কিংবা দূর্নীতি হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার মনিরুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঔষধ আত্মসাতের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন, কাজ-কর্মে ভুল ত্রুটির বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্যই স্যার (সিভিল সার্জন) তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। এর বাইরে কিছুই না।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ