fbpx
25.9 C
Barisāl
Sunday, October 24, 2021

গৌরনদীতে ২৭০ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামি করে দুই আওয়ামীলীগ নেতার মামলা, গ্রেপ্তার-১

পৌর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ২৭০ জন নেতাকর্মীকে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গৌরনদী উপজেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মো. নুরুল হক তালুকদার বাদি হয়ে ১১৬ জনকে ও উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারন সম্পাদক কাজী আঃ সাত্তার বাদি হয়ে ১৫৪ জনকে আসামি করে শুক্রবার পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়, আসামিরা আ.লীগ নেতাকর্মিদের ওপর বোমা হামলা চালিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মিকে আহত করেছে। ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত বোমার আলামত ও অবিস্ফোারিত বোমা উদ্ধার করেছে বলে পুলিশ দাবি করেন। ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে পুলিশ শনিবার রাতে ইসলামি ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতা মাসুম (৩২)কে গ্রেপ্তার করেছে।

গৌরনদী উপজেলা আ,লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মো. নুরুল হক তালুকদারের মামলার আসামিরা হলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. বদিউজ্জামান, পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো. শাহ আলম ফকির, বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. মাহফুজ মোল্লা, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শরীফ স্বপন, পৌর যুবদলের সভাপতি মো. নান্না খান, সাধারন সম্পাদক জামাল হাওলাদার, পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক রিয়াজ ভূইয়া, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি জাকির হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান, সাবেক সাধারন সম্পাদক হান্নান শরীফ, সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ফরিদ মিয়া, উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি গোলাম মোর্শেদ মাসুদ, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক গফুর সরদার, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামানসহ ২৬ জনের নামাল্লোখ করে অজ্ঞাতনামা ৯০ জনসহ ১১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপরদিকে নলচিড়া ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারন সম্পাদক কাজী আঃ সাত্তারের দায়ের করা মামলায় আসামিরা হলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবু বকর গাজী, নলচিড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জামাল ফকির, সাধারন সম্পাদক মো. হারুন সিকদার, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আনোয়ার হোসেন, জিএস ফুয়াদ হোসেন, নলচিড়া ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারন সম্পাদক রিয়াজ হোসেন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি শামীম খলিফা তার সহদর নাসরুল খলিফা, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক আলী হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন হাওলাদারসহ ২৪ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৩০ জনসহ ১৫৪ জন বিএনপি নেতাকর্মি। হাফেজ নুরুল হক তালুকদার এজাহারে উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে গৌরনদী উপজেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. হারিছুর রহমানের বাড়িতে সভা শেষ করে বিভিন্নভাগে ভাগ হয়ে অনেক নেতাকর্মি বাড়িতে রওয়ানা হয়ে রাত পোনে ৯টার দিকে উত্তর পালরদী গ্রামে বিএনপি নেতা মো. বদিউজ্জামানের বাড়ির সামনে পৌছলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামিরা আমাদের জীবন বিপন্ন করতে ৫/৭টি বোমা হামলা চালায়। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা আতিক মিয়া, মামুন মিয়া, কব্বর হাওলাদারসহ অনেক নেতাকর্মি জখম হন। কাজী আঃ সাত্তার এজাহারে উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে গৌরনদী উপজেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. হারিছুর রহমানের বাড়িতে সভা শেষ করে বিভিন্ন পর্যারে নেতাকর্মি মটরসাইকেলযোগে বাড়িতে রওয়ানা হয়ে রাত পোনে ১০টার দিকে নলচিড়া ইউনিয়নের পিংলাকাঠী গ্রামের বিএনপি নেতা আবু বকর গাজীর বাড়ির সামনে রাস্তায় পৌছলে ১০০/১৫০ জন নেতাকর্মি আমাদের লক্ষ করে ৪/৫টি হাত বোমার ছুড়ে বিস্ফোরন ঘটিয়ে জীবনহানির চেষ্টা করে। এতে কাজল হাওলাদার, বাবুল ফকির, খোকন মল্লিক ও বাদশা বেপারী জখম হন।

এ সময় আসামিরা আমাদেরকে নির্বাচনী মাঠ ছাড়িয়া যেতে নির্দেশ দেন। নতুবা প্রানে মারার হুমকি দেন। শনিবার সরেজমিনে গেলে স্থানীয় লোকজন ও গ্রামের বাসিন্দরা জানান, তাদের এলাকায় বোমা হামলা সংঘর্ষসহ এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। উত্তর পালরদী গ্রামের কিশোর (২২) বলেন, আমাদের এলাকায় বোমা হামলায় হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। ৫/৭টি বোমা বিস্ফোরিত হলে এলাকায় আতংক দেখা দিত এবং সবাই জানত । উত্তর পালরদী ব্রিজের গোড়ার দোকানদার (৩০) বলেন, আমি সকাল সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখি। ওই দিন একই সময় পর্যন্ত দোকানে ছিলাম। এ এলাকায় বোমা বাজির কোন ঘটনা ঘটেনি বা নেতাকর্মির ওপর কোন হামলার খবর শুনিনি। জনৈক গৃহীনি (৪০) বলেন, ওই সময় আমরা কোন বোমার শব্দ পাই নাই। নলচিড়া ইউনিয়ননের পিংলাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা (৪০) বলেন, আমার বসত ঘর থেকে ঘটনাস্থল ১৫০/২০০ ফুট দুরত্ব এখানে বোমাবাজি হামলার ঘটনা ঘটলে বোমার শব্দে গোটা এলাকা প্রকম্পিত হত। এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। জনৈক স্কুল শিক্ষক ও এলাকার একাধিক গৃহীনি বলেন, এই এলাকায় ৫/৭টি বোমা বিস্ফোরিত হলে সবাই জানত। আমরা বোমার কোন শব্দ পাইনি বা হামলার কোন ঘটনা শুনিনি। নলচিড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জামাল ফকির বলেন, ঢাকার মিডফোর্ট হাসপাতালে আমার দুটি অপারেশন হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত আমি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। রাজনৈতিকভাবে হয়রানী করতে আমাকে বোমা হামলার মামলায় আসামি করা হয়েছে। গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের ভর্তি রেজিষ্টারে দেখা যায়, শুক্রবার রাত পোনে ১১টায় পালরদীর ঘটনায় ১০ জন ও পিংলাকাঠীর ঘটনায় ৩জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কতিপয় যুবক এসে বলেন আমরা আহত হয়ে এসেছি ভর্তি করে চিকিৎসা দেন। রেজিষ্টারে নাম তোলার পরে তারা চলে যান। আহতের শরীরে বোমা হামলার কোন ক্ষত ছিল না। গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, উত্তর পালরদীর ঘটনায় হাফেজ নুরুল হক তালুকদার ও পিংলাকাঠী এলাকায় ঘটনায় আ. সাত্তার কাজী বাদি হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। দুটি স্পট থেকে বোমার আলামাত ও অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। কোন বোমার শব্দ শোনেনি কিংবা আদৌ কোন ঘটনা ঘটেনি এলাকাবাসির দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত অব্যহত রয়েছে। তদন্ত শেষে সত্য বেরিয়ে আসবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ও গৌরনদী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি  ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মিদের মাঠ ছাড়া করতে ক্ষমতাসীন আ.লীগ নেতারা পুলিশকে ব্যবহার করে গায়েবী মামলা দায়ের করেছে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ