fbpx
31.3 C
Barisāl
Tuesday, June 22, 2021

বরিশাল ১: ‘অবরুদ্ধ’ ধানের শীষের স্বপন, সরব নৌকার কর্মীরা

নৌকার সঙ্গে অন্যান্য দলের কিছু পোস্টার দেখা গেলেও ধানের শীষের কোনো পোস্টার চোখে পড়েনি বরিশাল-১ আসনে
একদিকে মামলা-ধরপাকড়, আরেকদিকে হামলা-লাঠিসোঁটা নিয়ে নিয়মিত মহড়া- এই পরিস্থিতিতে নিজের ঘরে কার্যত ‘অবরুদ্ধ’ অবস্থায় আছেন বরিশাল- ১ আসনে বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন। পুরো নির্বাচনী এলাকার কোথাও তার পোস্টার-প্রচার কিছুই দেখা যায়নি।

অপরদিকে গৌরনদী ও আগৈলঝরা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে স্বপনের প্রতিপক্ষ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর প্রচার চলছে পুরো দমে। সব এলাকায় রয়েছে তার পোস্টার, এমনকি বিএনপি সমর্থকের দোকানেও নৌকার পোস্টারই ঝুলতে দেখা গেছে।

একতরফা প্রচারের চিত্র স্পষ্ট হয় এই আসনের অন্তর্ভুক্ত গৌরনদী উপজেলা সদরের দর্জি দোকানি জসিম সরদারের কথায়।

দোকানে সাঁটানো নৌকার পোস্টার দেখিয়ে বললেন, “আমি তো বিএনপি করি, কিন্তু আমার দোকনে আওয়ামী লীগের পোস্টার। কিচ্ছু করার নাই।”

তিনি বলেন, “শক্তিশালী প্রার্থী নাই। যারা সমর্থক তাদের মারা হয়েছে। এই ভয়েতে নিশ্চুপ।”

বরিশালের এই আসনে নৌকার প্রার্থী আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে ও শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। তার বাবা আবদুর রব সেরনিয়াবাতও ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার স্বজনদের সঙ্গে নিহত হয়েছিলেন।

আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন এই আসন থেকে। বর্তমানে পুরো বরিশালের রাজনীতিতে তার প্রভাব রয়েছে। তার ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র।

অপরদিকে ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন এই আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০০১ সালে। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিতি পাওয়া স্বপনের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের একটি অংশের সম্পর্ক শিথিল হয়েছিল।

আর আগের বিভিন্ন নির্বাচনী বিএনপি প্রার্থীরা এখানে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও এবার একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন স্বপন। মঙ্গলবার নির্বাচনী এলাকা ঘুরে কোথাও তার কোনো পোস্টার চোখে পড়েনি, নেই ধানের শীষের পক্ষে মাইকিং-প্রচারপত্র বিলির মতো কোনো কার্যক্রম। তবে অন্য প্রার্থীদের গুটিকয়েক পোস্টার দেখা গেছে।

বরিশাল-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনস্বপন সর্বশেষ গণসংযোগ করেছিলেন গত ১২ ডিসম্বর। এরপর আর ঘর থেকে বের হননি। শরিকল ইউনিয়নে নিজের বাড়িতেই অবস্থান করছেন তিনি।

দুটো উপজেলায় বিএনপির কোনো নির্বাচনী অফিসও নেই। স্বপনের সঙ্গে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন আবদুস সোবহান ও আকন্দ কুদ্দুসুর রহমান। এদের মধ্যে সোবহান নবম জাতীয় সংসদে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। ‘পরিবেশ নেই’ দেখে তারাও এলাকায় আসছেন না।

এদিকে বিএনপি প্রার্থী স্বপনের বাড়ির আশপাশে প্রায়ই লাঠিসোঁটা হাতে একদল লোক দেখা যায়।

এ বিষয়ে স্বপন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নৌকার সমর্থক ওরা। ৬০-৭০ জন করে আসে বাড়ির সামনে মিছিল নিয়ে। মাঝে মধ্যে একশ ছাড়িয়ে যায়। যে মুহূর্তে প্রস্তুতি নেই (কর্মসূচির), তখনই আসে। গত এক সপ্তাহে চার-পাঁচ বার এসেছে।

“ইট পাটকেল মারে, সংঘর্ষ বাধিয়ে ফাঁদ পাতার চেষ্টা আরকি। সাত-আটজন আহতও হয়েছে।”

ঘরের বাইরে বের না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভোটাররা না করছে, খুনোখুনিতে যাবেন না। তাই শক্তি থাকা সত্ত্বেও যাচ্ছি না।”

কয়েকদিন আগে স্বপন অভিযোগ করেছিলেন, গৌরনদী পৌরসভার মেয়র হারিসুর রহমান হারিসের বিরুদ্ধে।তার হুমকির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। তবে তার ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন হারিস।

গৌরনদী ও অগৈলঝরা থানায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর পরে।

শুধু গৌরনদী মডেল থানাই অক্টোবর ও নভেম্বরে মামলা হয়েছে পাঁচটি। নাশকতা, ভাংচুর ইত্যাদি অভিযোগে এসব মামলায় ১৮৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। এদের সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলে থানা থেকে জানানো হয়েছে।

এই মামলাগুলোয় কতোজন গ্রেপ্তার হয়েছে, তার কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি। তবে শুধু মঙ্গলবারই দুপুর পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।

এছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

পৌর বিএনপির সভাপতি এস এম মনিরুজ্জামান আগে আকন্দ কুদ্দুসুর রহমানের সমর্থক ছিলেন। তার বাড়িতেও সশস্ত্র হামলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে সে রাতে তিনি বাড়িতে ছিলেন না।

মনিরুজ্জামান বলেন, “১২ ডিসেম্বর রাত ২টায় দরজা জানালা কুপিয়েছে।”

ওই ঘটনায় কেউ আহত হননি জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিনিয়তই রাতে পুলিশের পোশাক পরিহিত ব্যক্তিরা বাড়িতে আসে।”

 তবে গৌরনদী থানার ওসি মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, “অ্যাকচুয়ালি এমন হয়েছে কি না জানি না।“ 

বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও প্রচারে নামতে না দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচ এম জয়নাল আবেদিনে বলেন, “এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন।”

বিএনপি প্রার্থীকে বের হতে না দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, “সে টাকা খরচ করতে চায় না।”

স্বপনের বাড়ির বাইরে লাঠিসোঁটা হাতে অবস্থানের বিষয়ে জয়নাল আবেদিন বলেন, “স্থানীয়ভাবে তার কোনো শত্রুমিত্র থাকতে পারে। এখন ওখান থেকেই ঘরে বসে সে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।”

বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে আসার হিড়িক

চার-পাঁচ দিন আগে আওয়ামী লীগের যোগ দিয়েছেন বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম খান। তিনি বিএনপির সাবেক সাংসদ আব্দুস সোবহানের সমর্থক ছিলেন।

কালাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ”অতীতে বিএনপি ভুল-ভ্রান্তি করেছে। স্বপন যোগাযোগ (আসনের নেতাকর্মীদের সাথে) করে নাই। ক্রাইসিসেও যোগাযোগ নাই। ঘরে বসে থাকে। ক্ষোভে-দুঃখে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছি। “

শুধু এই ইউনিয়নেই বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি প্রার্থী স্বপন বলছেন, “যারা বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে তারা আমাকে জানিয়েই তা করেছে।

“যারা যোগ দিয়েছে, পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতার যুক্তিতে গিয়েছে। প্রাণ ওষ্ঠাগত।”

এতে তার ‘ভোট বাড়বে’ বলে মনে করছেন তিনি।

গত ছয় মাসে ২০ হাজারের মতো বিএনপি নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে বলে দলটির নেতা জয়নাল আবেদিনের দাবি।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ