fbpx
29.3 C
Barisāl
Tuesday, May 18, 2021

আগৈলঝাড়ার শুটকি পল্লীতে মাছ শুকাতে ব্যস্ত জেলেরা।

নিউজ ডেস্ক: মৎস্য অ ল হিসেবে পরিচিত বিল বাওড় ঘেরা বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা। এ অ লের শত শত পরিবার শুটকি মাছের ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। উপজেলার পয়সারহাট-ত্রিমুখি নদীর উপকূল এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠেছে শুটকি পল্লী। এ অ লের সু-স্বাদু মিঠা পানির নানা প্রজাতির মাছ সমগ্র দেশে সরবরাহ হয়ে আসছে। মাছ ধরার পেশার সাথে জড়িত দরিদ্র পরিবার গুলো অধিক লাভের আশায় বছরের আশ্বিন মাসের প্রথম থেকে ৬ মাস শুটকির কাজ পেশা হিসেবে বেছে নেয় জেলেরা। প্রায় একযুগ পূর্বে থেকে বানিজ্যিক ভাবে গড়ে ওঠে পয়সারহাট-রাজাপুর-ত্রিমূখী-রাজিহারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শুটকি পল্লী। শুটকি তৈরীতে বিভিন্ন প্রকার মাছের মধ্যে পুঁঠি, শৈল, টেংরা, খৈলশা, পাবদা, কৈ, শিং, মাগুর, মেনি, ফলি উল্লেখযোগ্য। ব্যবসায়ী মনমথ রায়, সেকেন্দার চৌকিদার, অশোক রায়, সোবহান মিয়া, দীলিপ অধিকারী, জয়নাল চৌকিদার, অবনী রায়, মঙ্গল অধিকারী, নরেশ তালুকদার বলেন, বাজার থেকে ১মন কাঁচামাছ ক্রয় করে শুকালে ১৫-২০ কেজি শুটকি মাছ পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতি মন কাঁচা পুঠি মাছ ক্রয় করতে হয় ১৫শ থেকে দুই হাজার টাকা, তিনমন কাঁচা মাছ শুকালে ১মন শুটকি মাছ তৈরী হয়। যার বর্তমান বাজার মুল্য ৪হাজার থেকে ৬হাজার টাকা রয়েছে। অথচ কাঁচা মাছ তাদের পূর্বের চেয়ে কয়েকগুন বেশী দামে কিনতে হচ্ছে। ওই পল্লীর মাছ কাটার কাজে নিয়োজিত রাজাপুর গ্রামের সন্ধ্যা অধিকারী, আয়না বেগম, পপি অধিকারী, শোভা রানী জানান, বছরে ৬মাস মাছ কাটার সাথে নিয়োজিত থাকলেও বাকি ছয়মাস অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। তারা আরো জানান, ছেলে-মেয়েরা স্কুলে লেখাপড়া করছে। মাছ কেটে যা আয় করি তা দিয়ে বহুকষ্টে জীবন যাপন করছি। তারা আরো বলেন, বর্তমানে শুকনা মৌসুমের শুরুতে মাছ বেশী পাওয়া গেলেও মাঝামাঝি সময়ে বিলে মাছ কম থাকায় তাদের দুঃখ দুর্দশা বেড়ে যায়। শুটকি পল্লীর ব্যবসায়ী পয়সারহাটের মনমথ রায় জানান, সরকারী ভাবে কোন সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়ায় প্রতি বছরই দেনা গ্রস্থ হয়ে পড়তে হচ্ছে। শুটকি পল্লীর সাথে জড়িত মৎস্য জীবিরা সাহায্যের পরিবর্তে সহজ শর্তে ঋণ আশা করছে সরকারের কাছে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ