fbpx
26.8 C
Barisāl
Monday, September 27, 2021

আগৈলঝাড়ায় প্রভাষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানী, ধর্ষণ ও যৌণ নিপিড়নের বিস্তর অভিযোগ অভিযুক্ত প্রভাষকের বিচার দাবি, অন্যথায় আত্মহত্যার হুমকী শিক্ষার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানী, ধর্ষণ ও যৌণ নিপিড়নের বিস্তর অভিযোগের বিচার দাবি করে ইউএনও, কলেজ সভাপতি, অধ্যক্ষ, ওসিসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ। গর্ভনিং বডির সিদ্ধান্ত অদৃশ্য কারণে বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
চলতি বছর উপজেলার শহীদ আ. রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করা বাকাল গ্রামের ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু ওই ছাত্রী একই কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ফারুক ফকিরের বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণসহ তার একই ব্যাচের বিভিন্ন ছাত্রীর শ্লীলতাহানী ও যৌণ নিপিড়নের স্বাক্ষী হিসেবে ফিরিস্তি তুলে ধরেন। সম্প্রতি ওই শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রভাষক ফারুক ফকিরের অপসারণের দাবী জানান, অন্যথায় আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকী প্রদান করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রভাষক ফারুক ফকিরের নিজ গ্রামের ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু শিক্ষার্থী অভিযোগে জানান, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ফারুক ফকির কলেজে ভর্তির সময় থেকে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগীতার আশ্বাসে ভুক্তভোগী ছাত্রীসহ বিভিন্ন ছাত্রীদের প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন।
অভিযোগ সূত্র মতে, বাকাল গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাধারণ পরিবারের ওই শিক্ষার্থী পড়াশুনায় সহযোগীতা কামনা করে তার একই গ্রামের বাসিন্দা সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ফারুক ফকিরের। সহযোগীতার সুযোগ নিয়ে শিক্ষক ফারুক ফকিরের লালসার স্বীকার হন তিনি। লালসা চরিতার্থ করে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে বার বার ওই ছাত্রীকে শয্যা সঙ্গী করেন ফারুক।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, ভুক্তভোগী ছাত্রীর মতো অনেক ছাত্রী ফারুকের লালসার শিকার হলেও লোকলজ্জা আর মান সম্মানের ভয়ে কেউ মুখ খোলেনি। এর আগে ফারুকের লালসার শিকার হয়েছে একই গ্রামের সংখ্যালঘু অন্য এক ছাত্রী। এছাড়াও সাবেক এক প্রকৌশলীর মেয়ের শ্লীলতাহানী ঘটায় এই ফারুক। বিষয়টি জানাজানির পর ফারুক ওই ছাত্রীর পরিবারের কাছে পা ধরে মাফ চেয়ে নিস্তার পায়।
গত দু’বছর আগে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্র্রদায়ের এক ছাত্রীর সর্বনাশ করায় ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা করে ওই শিক্ষার্থী। একারণে কলেজ থেকে বহিস্কারও করা হয় ফারুককে। বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে কলেজ গভর্নিং বডির কতিপয় সদস্যকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে ছাত্রীকে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি দিয়ে মামলা তুলে নিতে বাধ্য করা হয়।
অভিযুক্ত প্রভাষক ফারুকের বিচার দাবি করে শিক্ষার্থী জানায়, আমাদের দেশের মেয়েরা এই ফারুক ফকিরদের মত লোকের লালসার স্বীকার হয়েও কলংকের ভয়ে সমাজ ছেড়ে অথবা পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়, আমিও গ্রাম ছেড়ে চলে এসেছি। কুলাঙ্গার এই শিক্ষকের বিচার না দেখতে পেলে আত্মহত্যারও হুমকী দিয়েছে শিক্ষার্থী।
এ ব্যপারে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ওই কলেজের সাবেক অধ্যাপক মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী হাওলাদার অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগের মধ্যে অনেক ঘটনাই সত্য। তবে অভিযোগকারী নাম প্রকাশ না করায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। এমন অভিযোগের জন্য তাকে বহিস্কারও করা হয়েছিল। সে শিক্ষার্থী মামলা না তুললে ফারুককে চাকুরীতে সুযোগ দেয়া হত না। এবারের অভিযোগ পেয়ে গর্ভনিং বডির সভায় নৈতিকতা ও শৃংখলা পরিপন্থী এজেন্ডায় তাকে শর্তক করা হয়েছে। তাকে কলেজে চাকুরী করতে হলে অবশ্যই বিয়ে করতে হবে। এজন্য তার অভিভাবদের সাথে কথা বলে তাকে বিয়ের জন্য এক মাসের সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিয়ে না করলে পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।
কলেজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কমলা রানী মন্ডল জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবহিত রয়েছেন। তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ি গভর্নিংবডির সভায় ফারুক ফকিরকে শর্তক করে দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহম্মেদ রাসেল বলেন, বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষর সাথে তার কথা হয়েছে। অভিযোগকারী ছাত্রী পরিচয় প্রকাশ করতে না চাওয়ায় প্রভাষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ গুরুতর। অভিযোগকারী যদি ব্যক্তিগতভাবে আমার (ইউএনও) সাথেও কথা বলে তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওই শিক্ষককে নজরদারিতে রাখার জন্য অধক্ষ্যকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত ফারুক ফকির ফোনে জানান, তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি কুচক্রী মহল এই কাজে লিপ্ত রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ