fbpx
31.6 C
Barisāl
Monday, June 21, 2021

আগৈলঝাড়ার গ্রামীণ জনপদে এলজিইডি’র ৪৯২ দশমিক ২৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ সমাপ্ত ৯৫ভাগ বিদ্যুতায়ন স¤পন্ন, অসহায় ও দুস্থদের পাশে দাড়িয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর অন্ধকার পথে আলো দেখিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস

“উন্নয়নের গণতন্ত্র, শেখ হাসিনার মুল মন্ত্র” এই শ্লোগানকে ধারণ করে আগৈলঝাড়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারের তিন দিনের উন্নয়ন মেলা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ শনিবার সন্ধ্যায় সমাপ্ত হয়েছে।
২০২১সালের মধ্যে “ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ” এবং ২০৪১ সালের মধ্যে “উন্নত বাংলাদেশ” গঠনে বর্তমান সরকারের ২০০৮থেকে ২০১৭সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন যজ্ঞ জনগনের সামনে তুলে ধরা হয় বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদ চত্তরে ১১জানুয়ারি থেকে ১৩জানুয়ারি পর্যন্ত চলা তিন দিনের উন্নয়ন মেলায়। এসময় উপজেলায় ন্যান্ত সেবাদানকারী ১৭টি গুরুত্বপূর্ন দপ্তরসহ ৩২টি স্টলে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কার্যক্রম জনগনের সামনে তুলে ধরা হয়।
তিনদিন ব্যাপি উন্নয়ন মেলায় উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মান, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মান, মুক্তিযোদ্ধা আবাসন ভবন নির্মান, শিক্ষা খাতে অবকাঠামো নির্মান, সড়ক নির্মান ও মেরামত, ঘুর্নিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মান, হাট-বাজার উন্নয়নসহ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মানসহ এলজিইডি’র বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য তুলে ধরেন আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রকৌশলী রাজকুমার গাইন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র হাওলাদার।
প্রকৌশলী রাজকুমার গাইন জানান, দেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় নেয়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মাত্র নয় বছরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও বরিশাল-১ আসনের এমপি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র ঐকান্তিক কর্ম প্রচেষ্টা আর নজরদারিতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আগৈলঝাড়া উপজেলায় ২০০৯ থেকে ২০১৭সালের পর্যন্ত মাত্র নয় বছরে মোট ৪৯২ দশমিক ২৫ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা হয়েছে।
সূত্র মতে, এই সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের মধ্যে ২৪কোটি ১২লাখ ৯শ ৩৭টাকা ব্যায়ে ২৪টি স্কুল ভবন নির্মান, ১৫কোটি টাকা ব্যায়ে ৫টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মান, ৬কোটি টাকা ব্যায়ে অফিস ও হল রুমসহ উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মান কাজ চলছে। ৫কোটি টাকা ব্যায়ে ইউএনও কোয়ার্টার, ডমমিরটি ভবন ও কোয়ার্টার নির্মান কাজ প্রকৃয়াধিন রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উপজেলায় ৩.৫৫০কোটি টাকা ব্যয়ে ৭হাজার ৫শ বর্গফুটের পাঁচ তলা ভিত্তির উপর তিন তলা ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।
উপজেলার পাঁচজন অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহ নির্মান করে দেয়া হয়েছে; তাতে ব্যায় হয়েছে ৪৭লাখ ৫০ হাজার টাকা। আরও তিনজন মুক্তিযোদ্ধার আবাসিক ভবনের কাজ চলমান রয়েছে।
সিসিআরআইপি প্রকল্পের আওতায় ৭কোটি ৮৬লাখ টাকা ব্যায়ে একাধিক বাজার ও সংযোগ সড়ক উন্নয়নের কাজ সমাপ্ত হয়েছে।
নির্বাচনী এলাকা গৌরনদী-আগৈলঝাড়া প্রকল্পের আওতায় ১২কোটি টাকা ব্যায়ে ৭টি রাস্তা পাঁকা করণের কাজ চলমান রয়েছে।
এমপি’র অগ্রাধিকার প্রকল্প আইআরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় ৭টি সড়ক উন্নয়ন কাজের মধ্যে ইতোমধ্যেই ৩টি সড়ক পাঁকা করনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। তিনটি ব্রীজ নির্মানে কাজ প্রকৃয়াধীন রয়েছে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি’র) অর্থায়নে ২০০৯সাল থেকে ২০১৭সাল পর্যন্ত ১০কোটি ৮৭লাখ ১১হাজার টাকায় ৪৫০টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এছাড়াও ২৭দশমিক ৪৬১কোটি টাকা ব্যায়ে ৭৯দশমিক ৯৬০কি.মি. উপজেলা সড়ক, ১৮দশমিক ০৫৮টাকা ব্যায়ে ৬১দশমিক ৩২০কি.মি. ইউনিয়ন সড়ক, ২৬দশমিক ১শ কোটি টাকা ব্যায়ে ৪৯২দশমিক ৪৬০কি.মি গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ও ১১১০দশমিক ১০০কোটি টাকা ব্যায়ে ১৫৩৫দশমিক ৬৫০মিটার কালভার্ট নির্মানের কাজ ইতোমধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে।
অন্যদিকে ৪০লাখ টাকা ব্যায়ে জাইকা প্রকল্পের আওতায় গভীর নলকুল স্থাপন, ইউড্রেন নির্মাণ, স্কুল নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।
ডেনমার্কের আর্থিক সহয়তায় ডানিডা প্রকল্পের আওতায় ৪দশমিক২১কি.মি. কাঁচা রাস্তা, ২দশমিক ৬৭কি.মি দুইটি পাঁকা রাস্তা, ৫টি ইউড্রেন, ১টি ঘাটলা নির্মানকাজসহ ১দশমিক ৪২কি.মি. সড়ক সংস্কারের কাজ বাস্তবায়নের প্রকৃয়াধীন রয়েছে। প্রকৌশলী রাজকুমার গাইন আরও বলেন, মূলতঃ ২০১৪সাল থেকে ২০১৭সালের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য প্রকল্প সমূহ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে।
উন্নয়ন মেলায় বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন আগৈলঝাড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস স্টলে বিদ্যুৎ ষ্ঠাফ সৈয়দ জাকির হোসেন জানান, আগৈলঝাড়া উপজেলার পাঁচটি ও উজিরপুর উপজেলার একটি ইউনিয়ন নিয়ে ২০০৮সালের ২২নভেম্বর জোনাল অফিস যাত্রা শুরু করে ২০১৭সালের জুন পর্যন্ত এর গ্রাহক সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৪হাজার ৩শ ৭০জন। ২৮৭বর্গ কিলোমিটার আয়তনে ১৩৩টি বিদ্যুতায়িত গ্রামে ৭২০কি.মি বৈদ্যুতিক স ালন লাইনে আবাসিক গ্রাহক ২৯২৮৬, বানিজ্যিক গ্রাহক ৪১৩৭ ও সেচ গ্রাহক ১১৩জন। বিদ্যুতায়নের হার শতকরা ৯৫ভাগ। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত করার কথা জানান ডিজিএম মো. হযরত আলী। ২০টি স্পট বিদ্যুৎ মিটার লাগিয়ে মেলায় চতুর্থ পুরস্কার প্রাপ্ত হয় পল্লী বিদ্যুৎ স্টল।
সরকারের তিন দিনের উন্নয়ন মেলার স্টলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ৫২৯জনকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, ৪১৪১জনকে বয়স্ক ভাতা, ১৩৬৩জনকে বিধবা ভাতা, ৯৪৫জনকে প্রতিবন্ধি ভাতা প্রদানসহ দলিত-হরিজন ও বেঁদে বিশেষ ভাতা দেয়া হচ্ছে ৪৮জনকে, ৮৫জনকে দেয়া হচ্ছে প্রতিবন্ধি শিক্ষা উপবৃত্তি, ৪৪জনকে দলিত-হরিজন-বেঁদে উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও হিজড়া ভাতা পাচ্ছে ৪জন, হিজড়া শিক্ষা উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে ১জনকে ও বিভিন্ন মাদ্রাসার ১২৭জন এতিম শিশুকে বেসরকারী ক্যাপিটেশন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস স্টল থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে ১কোটি ৯০লাখ টাকা ব্যায়ে ৫কি.মি সড়কে এইচবিবি করন, ২৭লাখ ৮২হাজার টাকায় ৮টি কাবিখা প্রকল্প, ২১লাখ ৯৭হাজার টাকায় ৩৩টি টিআর প্রকল্প বাস্তবায়ন, ১কোটি ৬২লাখ ১৬হাজার টাকায় ৪০দিন প্রকল্পে ২০২৭জন অসহায় লোকের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় এমপি আবুল হাসানাত অবদুুল্লাহ’র নিজস্ব কোটার কাবিখা প্রকল্পে ২৭লাখ ২৩হাজার টাকা, অন্ধকার পথে আলোর দিশারী হিসেবে কাজ করছে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস। টিআর প্রকল্পে ২১লাখ ৫৩হাজার টাকায় আ লিক সড়ক, স্থানীয় সড়ক, গ্রামীণ হাটবাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সৌর বিদ্যুৎ এর স্ট্রিট লাইট স্থাপন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। গত অর্থ বছরে বিভিন্ন স্থানে ১৪০টি স্ট্রিট লাইট স্থাপন ও ৩৯৪টি বিদ্যুৎ বিহিন ঘরে সৌর বিদ্যুৎ প্রদান করা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ