fbpx
25.9 C
Barisāl
Sunday, October 24, 2021

গরীবের ব্যাংক

১৯৯০ সালে ৩২ জন সদস্য ও মাত্র ৬৪০ টাকা পূঁজি (মূলধন) নিয়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে আড়াই হাজারের ওপরে। আর মূলধন দাড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। সম্পত্তি রয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকার ওপরে। সমিতির সদস্যরা জানান,১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন নিতে এই সমিতির কোন সদস্যকে ব্যাংকের কাছে যেতে হয়না। তারা নিজেদের অর্জিত লাভের টাকা স য় হিসেবে জমা রাখেন সমিতির কাছে। তাই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে নলচিড়া কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন অত্র এলাকার মানুষের কাছে ’ গরীব মানুষের ব্যাংক ’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এ ছাড়া দেশের সেরা মডেল সমিতি হিসেবে ২০১৫ সালে জাতীয় পদক ও ২০১৩ সালে জাতীয় সমবায় পুরুস্কার লাভ করে এ সংগঠনটি।
”সকলের তরে সকলে আমরা ,প্রত্যেকে আমরা পরের তরে”সমবায়ের এ মূল মন্ত্রকে বাস্তবে রূপ দেয়ার লক্ষ্যে সহজ শর্তে লোন প্রদানের মাধ্যমে সদস্যদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে হাঁস-মুরগী ও গবাদী পশু পালন, মৎস চাষ ,শিক্ষা ,গৃহ নির্মান সহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজে সহায়তা দান করছে এ সংগঠনটি। ফলে এলাকার শতশত দরীদ্র পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা লাভ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
কান্ডপাশা গ্রামের মহসিন বালীর পুত্র নাশির উদ্দিন বালী জানান,আর্থিক দৈন্যতার কারণে বেশি লেখাপড়া করতে পারিনি। বেকার ছিলাম পরবর্তিতে স্ত্রী চামেলী আক্তারকে নিয়ে ২ জন মিলে ১৯৯৯ সমিতির সদস্য হই। সমিতি থেকে লোন নিয়ে বাড়ীর পাশে পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলি। বর্তমানে তার ২টি খামারে ৫,০০০ লেয়ার মুরগী রয়েছে। নাসির বালীর বর্তমান গড় মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকার ওপরে।
একই গ্রামের মন্নান ফকিরের পুত্র আলম ফকির কয়েক বছর আগে ১২ লাখ টাকা লোন নিয়ে পানের নলচিড়া বাজারে পানের ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি একজন সফল পান ব্যবসায়ী। নলচিড়া বাজারে তার পানের আড়ৎ রয়েছে। শুধু মাত্র দেশেই নয়, দেশের বাইরেও পান রফতানী করে তিনি বিপুল পরিমান টাকা আয় করছেন।
নলচিড়া খানাবাড়ী গ্রামের মোঃ আঃ মালেক জমাদ্দার একটি ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকুরী করতেন। তিনি জানান,কয়েক বছর আগে চাকুরী থেকে অবসর নিয়ে সমিতি থেকে ৩ হাজার টাকা লোন নিয়ে তিনি নলচিড়া বাজারে মুদি দোকান দেন। জানাগেছে, পরবর্তিতে সমিতি থেকে তিনি ১২ লাখ টাকার ওপরে লোন নিয়েছেন। ওই টাকায় দোকানের মালামাল ক্রয় করেন এবং এক ছেলেকে বিদেশে পাঠান। তিনি লোনের পুরো টাকা পরিশোধ করেছেণ। দোকানের আয় ও পুত্রের বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা দিয়ে তিনি ৬৭ শতক জমিও কিনেছেন। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় কোটি টাকার ওপরে।
কান্ডপাশা গ্রামের বেনু লাল ভট্টাচায্যের পুত্র অভিজিৎ ভট্টাচায্য এলাকার একজন সফল মৎস্য চাষি। এক সময় তিনি যশোর এলাকা থেকে মাছের পোনা এনে এলাকায় বিক্রি করতেন। পোনা বিক্রি করে যা আয় হতো তাতে সংসার চলছিলনা। তাই কয়েক বছর আগে তিনি ও তার স্ত্রী ভারতি চক্রবর্তি নলচিড়া কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের সদস্য হন। সমিতি থেকে ২ লাখ টাকা লোন নিয়ে তিনি এলাকার ৪টি বড় পুকুরে তিনি মৎস্য চাষ শুরু করেন। বর্তমানে বছর শেষে সেখান থেকে মাছ বিক্রি করে তিনি আয় করেন ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা।
নলচিড়া গ্রামের খোকন কৃষ্ণ একজন কালবের কর্মকর্তা ও নলচিড়া কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের সদস্য। জানা গেছে, তিনি কয়েক বছর আগে সমিতির কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা লোন নিয়ে নলচিড়া বাজারের পাশে ১ একর জায়গা কিনেছিলেন। ওই জমির বর্তমান মূল্য কোটি টাকার ওপরে। সেখানে তিনি তৈরী করেছেন একটি সুরম্য ভবন।
নলচিড়া কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি মোঃ শাহআলম হাওলাদার জানান, এ সমিতি শুধূ মাত্র স য় জমা রাখা ,লোন দান ও,লোন আদায়ের মধ্যে তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখেনি। তারা সমাজ সেবার কাজেও অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে। কোন সদস্য মৃত্যুবরন করলে তাৎক্ষনিক ভাবে ওই পরিবারকে নগদ অনুদান প্রদান করা হয় এবং শেয়ার আমানতের বিপরীতে ১২% অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়। সদস্যদের ছেলে-মেয়েদের এক কালীন বৃত্তি প্রদান সহ এ সমিতির পক্ষ থেকে সমাজের গরীব ও অসহায়দের মেয়ের বিয়েতে অনুদান প্রদান ও দুস্থদের চিকিৎসা সেবাদান করা হচ্ছে। যে কারণে নলচিড়া কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন দেশের সেরা একটি মডেল সমিতিতে পরিনত হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ