fbpx
24.7 C
Barisāl
Thursday, May 13, 2021

বিসিসি’র সেই দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীকে শাস্তিমূলক বদলী

মাস পেরিয়ে গেলেও কোটি টাকার জেনারেটর ক্রয়ের দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন অদৃশ্য কারনে জমা পরেনি। অপরদিকে বিসিসির আহবান করা দরপত্রের প্রয়োজনীয় তথ্য এবং কাগজপত্র গায়েব করায় প্রাথমিকভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী (পানি) কাজী মনিরুল ইসলামকে শাস্তিমূলক বিদ্যুৎ শাখায় বদলী করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেনারেটর কেলেংকারীর সাথে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এনিয়ে দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকায় গত ২৪ ডিসেম্বর “বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে কোটি টাকার জেনারেটর গায়েব” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর পুরো নগরীজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান প্রকাশিত সংবাদের তদন্ত করে প্রকৌশলী খান মুহাম্মদ নুরুল ইসলামকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করার নির্দেশ দেন। তিন দিনের বেঁধে দেয়া সময়ের তদন্ত প্রতিবেদন গত এক মাসেও রহস্যজনক কারনে জমা দেয়া হয়নি। বরং পুরো ঘটনাটি ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য দফায় দফায় গোপন সক্ষতা গড়ে আতাত করে চলছে ম্যানেজ প্রক্রিয়া।
এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রকৌশলী খান মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, তার আরও সময়ের প্রয়োজন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান জানান, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে না পাওয়ায় কার্যকরী কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি আরও বলেন,
বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসমা আক্তার রুমি জানান, সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদের জেরধরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তদারকির তোপের মুখে কর্তৃপক্ষ এক জরুরী সভার মাধ্যমে কার্যস্বার্থে অফিস আদেশে পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মনিরুল ইসলামকে বিদ্যুৎ শাখায় বদলী করা হয়েছে।
বিসিসির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেনারেটর ক্রয়ের মতো অনেক দুর্নীতির ফাইল ধামা চাঁপা পরে রয়েছে। এরমধ্যে জেল খালের ওপর অপরিকল্পিত ব্রীজ নির্মান, রসুলপুর ব্রীজ নির্মানের একদিনের মাথায় ভেঙ্গে পরে তা ভ্যানিশ করার অনিয়মের ফাইল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে বিসিসির সচিবকে ঝালকাঠিতে বদলী করা হয়েছে। এছাড়া চলতি মাসেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিভাগের সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম বিসিসিতে আসছে বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলী জানান, জনকন্ঠ পত্রিকায় জেনারেট গায়েবের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তদন্তে নেমেছেন। বর্তমানে মহাদুর্নীতি থেকে নিজেদের বাঁচাতে কতিপয় কর্মকর্তা সরকার দলীয় শীর্ষ নেতাদের দারস্থ হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২০১০-১১ অর্থ বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪টি জেনারেটর বিসিসির পানির পাম্পে স্থাপন করার কথা থাকলেও দরপত্র আহবান করার কাগজপত্র গায়েব হয়ে যায়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিসিসি দরপত্র আহবান করে ঠিকাদারের মাধ্যমে ১৪টি পানির পাম্পে জেনারেটর স্থাপনের বিষয়টি মৌখিকভাবে দাবী করলেও সরেজমিনে কোন জেনারেটরের অস্থিত্ব পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ