fbpx
31.6 C
Barisāl
Monday, June 21, 2021

উজিরপুরে এক বছরে সাত খুন ১২টি ধর্ষণ॥ বাড়ছে নারী নির্যাতনের ঘটনা

২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বরিশালের জেলার উজিরপুর উপজেলায় গত ১ বছরে ৭টি খুন, ১২টি ধর্ষণ, ৩৫টি নারী নির্যাতন ও ৭টি অপহরনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া চুরি-দস্যুতা ১৩টি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের ৪টি, অগ্নিসংযোগ ৬টি, ৭০টি জখম সংক্রান্ত ও ৯৯টি মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ অন্যান্য বিভিন্ন ঘটনা-দূর্ঘটনায় ওই বছরে উজিরপুর মডেল থানায় মোট ৩১৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। গত দুই বছরে (২০১৬-২০১৭) ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি ও মাদক আমদানির ঘটনা এ উপজেলায় অনেকটা কমেছে। কিন্তু দিনদিন ব্যাপকভাবে বাড়ছে নারী নির্যাতন ও জমিজমা বিরোধে জখম সংক্রান্ত ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ২টি খুন, ১৭টি ধর্ষণ, অপহরন ১০টি, চুরি-ডাকাতি-দস্যুতা ১৮টি, নারী নির্যাতন ২৮টি এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের ৭টি ঘটনা ঘটেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, দাম্পত্য কলহ, পারিবারিক কলহ, যৌতুক, পরকীয়া প্রেম সংক্রান্ত, মাদক, জুয়া, সুদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়েই এ সকল ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে এ উপজেলায় ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি কমলেও খুন-জখম ও নারী নির্যাতনের ঘটনা অনেকাংশে বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণের মনে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। অপরদিকে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে থানা পুলিশের ব্যাপক সফলতায় মাদক ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত আত্মসমর্পন করে ফিরছে স্বাভাবিক জীবনে। তবে এখনও উপজেলার বিভিন্নস্থানে বড় মাপের মাদকের হোলসেলারদের সেল্টারদাতা ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা হওয়ায় তারা পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এক অনুসদ্ধানে জানা গেছে, উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের এক প্রভাবশালী নেতাসহ তার সহচর কথিত এক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতার তাদের নিজস্ব মোটরসাইকেলে পুলিশের হুইসাল ব্যবহার করে আসছে। এমনকি তারা পুলিশের হুইসাল লাগানো ওইসব মোটর সাইকেল নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ওই ইউনিয়নে গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ মাদকের বড় বড় চালান সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের জেলা-উপজেলা কেন্দ্রিক অনেক প্রভাবশালী নেতাদের সাথে ওইসব মাদক সরবরাহকারীদের সু-সম্পর্ক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে থানা পুলিশের এমন উদাসীনতায় এলাকাবাসীও মুখ খুলতে রীতিমত আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। ফলে ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের মাদকের আমদানি বাড়ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সমাজকর্মী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কোনো ঘটনার উদ্ভব হওয়ার পর তাৎক্ষণিক কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ নেয়া উচিত। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিবেচনায় না নিয়ে যে কোন অপরাধীর বিরুদ্ধে সঠিক আইনের কঠোর প্রয়োগ করলে খুন-জখম, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও মাদকদ্রব্য সরবরাহের মত ঘটনা বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। আ’লীগ নেতাদের মোটর সাইকেলে পুলিশের হুইসাল ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (উজিরপুর সার্কেল) মো. আকরামুল হাসান বলেন, উজিরপুরে রাজনৈতিক সহিংসতায় কোনো খুনের ঘটনা ঘটেনি। খুন-জখম, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও মাদকদ্রব্য আমদানি যাতে কমিয়ে আনা যায় সেই লক্ষ্যে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকদের নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের আওতায় জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ