fbpx
29.1 C
Barisāl
Thursday, September 23, 2021

আগৈলঝাড়ায় প্রধান শিক্ষকের হাতে যৌন নিপিড়নের শিকার স্কুল ছাত্রী দু’সপ্তাহেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার না হওয়া স্কুল বন্ধ শিক্ষার্থীর!

আগৈলঝাড়ায় প্রধান শিক্ষকের হাতে স্কুল ছাত্রী যৌন নিপিড়নের শিকার হয়ে দু’সপ্তাহ ধরে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। স্কুল কমিটি ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। অভিযুক্ত শিক্ষকের উপযুক্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত নিপিড়িত ছাত্রীকে স্কুলে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ছাত্রীর পরিবার।
উপজেলা সদরের নগরবাড়ি গ্রামের দিন মজুরের মেয়ে ও নগরবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প ম শ্রেণির ছাত্রীর মা অভিযোগে করেন, তার মেয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের সাথে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যাম প্রসাদ ঢালীর কাছে স্কুল শুরুর আগে প্রাইভেট পড়ত। সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক শ্যাম প্রসাদ ঢালী সকালের ব্যাজের পরিবর্তে সানজিদাকে বিকেলের ব্যাজে পড়ার সময় নির্ধারণ করে দেয়। সে আনুযায়ি সানজিদা বিকেলের ব্যাজে ওই শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ত।
গত ৮মার্চ সানজিদা স্কুলে না যাওয়ায় প্রতিদিনের নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষকের বাসায় পড়তে যায়। ওই দিন শিক্ষকের বাসার অন্য কোন সদস্য না থাকায় সানজিদাকে একা পেয়ে প্রধান শিক্ষক তার উপর যৌণ নিপিড়ন চালায়। পরদিন সানজিদা স্কুলে যেতে অপরাহতা প্রকাশ করে। স্কুলে না যাওয়ার জন্য সানজিদাকে অনেক বকাঝকা করলে সে জানায় সো আর ওই স্কুলে যাবে না।
স্কুল ছাত্রীর মা আরও বলেন, এভাবে দিনের পর দিন সানজিদা স্কুলে না যেতে চাইলে তিনি সানজিদাকে বেদম মারধর করে স্কুলে না গেলে মানুষের বাড়িতে কাজ করতে দেবে বলেও সাশিয়ে দেয়। সানজিদাকে মারধরের খবর পেয়ে তার খালা সানজিদাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুদিন থাকার সময় সানজিদা তার খালাতো বোনদের কাছে স্কুলে না যাওয়ার কারণ হিসেবে তার উপর ঘটে যাওয়া প্রধান শিক্ষকের নরপশুর মত আচরণের কথা জানায়। বিষয়টি সনজিদার মা জেনে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রশিদ খান, কালাম সরদার, স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন। ঘটনার কোন বিচার না পেয়ে গত তিন দিন আগে কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা খানের কাছে বিস্তারিত জানিয়ে বিচার দাবি করেন। ঘটনার দুই সপ্তাহ পরেও কোন বিচার হওয়ায় সানজিদার স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে। এদিকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে ঘটনা ধামাপাপা দিতে ব্যস্ত অভিযুক্ত শিক্ষক শ্যাম প্রসাদ ঢালী।
প্রধান শিক্ষক শ্যাম প্রসাদ ঢালী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সানজিদা ১২/১৩দিন পর্যন্ত স্কুলে আসছে না। তার বাড়ির পাশের লোকজনের কাছে শুনেছেন যে সানজিদা মামা বাড়ি বেড়াতে গেছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল হক তালুকার জানান, এরকম কোন অভিযোগ তিনি পান নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা খানকে এ প্রসঙ্গে জানার জন্য একাধিকবার তার মুঠো ফোনে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেন নি।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ