fbpx
23.7 C
Barisāl
Thursday, October 21, 2021

আগৈলঝাড়ায় ২শ ৬০ একর এক ফসলী জমিকে বহুমুখি ব্যবহার করে ভাগ্য উন্নয়নে নেমেছে এলাকার ২শত ৪০ জন কৃষক। কৃষি, সমবায় ও মৎস্য পোনা, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের প্রকল্প পরিদর্শন

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া-কান্দিরপার এলাকায় এক ফসলী জমির বহুমুখি ব্যবহার করে ভাগ্য উন্নয়নে নেমেছে এলাকার ২শ ৪০ জন কৃষক। ২শত ৬০ একর এক ফসলী জমি নিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে মেগা প্রকল্প ‘‘চৌদ্দমেধা কৃষি পণ্য উৎপাদনকারী বিল উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ।” উল্লেখিত মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ, সমবায় বিভাগের কর্মকর্তাগণসহ একটি মৎস্য পোনা ও খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। প্রকল্পের আওতাধীন সুবিধাভোগী কৃষক শ্যামল জয়ধর জানান, বাপ দাদার আমল থেকে তাদের জমিতে সারা বছর শুধু একবার ইরি-বোরো ধানের চাষ করতেন তারা। এলাকার অধিকাংশ জমি নীচু হওয়ায় এবং তিন দিকে বাঁধ থাকায় মে-জুন মাস থেকে বৃষ্টির পানি জমে ও খালের জোয়ার উঠে তাদের উঠতি পাঁকা ধান তলিয়ে গিয়ে সর্বশান্ত হতেন তারা। বছরের বেশীরভাগ সময়ই পানিতে নিমজ্জিত থাকত পুরো ফসলের মাঠ। ফলে অতীত কাল থেকে এলাকাটি চৌদ্দমেধা বিল নামে পরিচিত লাভ করে। বিলের পাশের অধিবাসীরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সারা বছরের খাবার হারিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকতেন। ধান তলানোর পর বর্ষা মৌসুমে ছোট ছোট নৌকায় বড়শি, জাল ও চাঁই পেতে মাছ ধরে তা বিক্রি করে কোন রকম পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে চাইলেও আগাছা আর কচুরীপানায় সকল জমি ছেয়ে থাকায় সে সুবিধা থেকেও বি ত হতেন তারা। চাষের মৌসুমে শ্রমিক নিয়ে তাদের ওই সকল আগাছা পরিস্কার করে জমিতে বীজ রোপন করতে হতো। যা ছিল তাদের কাছে বাড়তি খরচ।
নির্বিঘেœ আবাদী জমির ফসল তুলে একই জমির বহুমুখি ব্যবহারের জন্য এলাকার কৃষকেরা উদুদ্ধ হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইলিয়াস তালুকদারের নেতৃত্বে ২৬০ একর জমির ২৪০ জন মালিকরা স্থানীয়ভাবে গঠন করেন ‘‘চৌদ্দমেধা কৃষি পণ্য উৎপাদনকারী বিল উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ” নামে একটি সমবায় সমিতি। স্থানীয় এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র পরামর্শে উপজেলা সমবায় অধিদপ্তরের তত্বাবধানে চেয়ারম্যান ইলিয়াস তালুকদারকে সভাপতি ও স্থানীয় সমাজ সেবক রফিক তালুকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠন করা হয়েছে ১১ সদস্য বিশিষ্ঠ কার্য নির্বাহী কমিটি। কমিটির সভাপতি ও রাজিহার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইলিয়াস তালুকদার জানান, একই জমির বহুমুখি ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় দরিদ্র কৃষক ও মৎস্যজীবীদের ভাগ্য উন্নয়নে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এতে ৩৫ টি পরিবারের আয়ের জন্য সারা বছর সরাসরি জড়িত থেকে গড়ে ১২শ পরিবার উপকৃত হবে। প্রকল্প এলাকায় ৩২ টি পুকুর, ডোবাসহ অসংখ্য নীচু এলাকার মালিকেরা সুবিধার আওতায় এসেছে। চাষীরা প্রকল্প থেকে ধান চাষে লভাংশেংর ৩০ভাগ ও নগদ ২০ভাগ সুবিধাপ্রাপ্তিসহ সেচ মৌসুমে জমিতে পানি সরবরাহ ও ইরি-বোরো ধান চাষের সময় আগাছা পরিস্কারসহ বিনা টাকায় জমি চাষের সুযোগ পাবেন।
প্রকল্প সাধারণ সম্পাদক রফিকুল তালুকদার জানান, চাষীরা তাদের ফসল ঘরে তোলার পর সমগ্র এলাকা মাছ চাষের আওতায় নেয়া হবে। শুস্ক মৌসুমে পুকুর ও ডোবাগুলোতে মাছ থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকল্প বাঁধের উপর সারা বছর সবজী চাষ করে এলাকার চাহিদা মেটানো সম্ভব বলেও জানান তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায়, সহকারী সমবায় কর্মকর্তা মোঃ সৃজন হোসেন, মাছের পোনা ও খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্যারাগন গ্রুপ এর সেলর্স ম্যানেজার ফিড মোঃ ইসমাইল হোসেন, জোনাল ম্যানেজার মোঃ অনোয়ার হোসেন, মার্কেটিং অফিসার, মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন, আগৈলঝাড়া ডিলার সাগর সরকারসহ কর্মকর্তারা প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, গ্রহণ করা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলাকার জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে। যাতে কৃষকসহ সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। প্রকল্প এলাকার মধ্যে নিবিড় পরিচর্যার কারণে এবছর খুব ভাল ধান ফলবে বলে আশা করেন তিনি। এই প্রকল্পটি সুচুরুরুপে বাস্তবায়ন হলে উপজেলার অন্য এলাকার তা দৃষ্টান্ত ও অনুকরণীয় হবে। তার দপ্তর থেকে প্রকল্পটিতে সকল প্রকার লজিষ্টিক সাপোর্ট দেয়ার কথাও জানান তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ