fbpx
25.5 C
Barisāl
Friday, April 16, 2021

সেবা প্রদানের সকল ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস জিপি কর্মকর্তার গ্রামীণ ফোনের প্রতারণা আর নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনার শিকার আগৈলঝাড়ায ৮ লক্ষাধিক গ্রাহক।

প্রতারণা আর নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ৮ লক্ষাধিক গ্রামীণ ফোন গ্রাহক। সরকারী পদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায় পরে কাষ্টমার কেয়ারের সেবা প্রদানেও সন্তুষ্ট নয় গ্রাহকরা। ফলে অন্য ফোন কোম্পানীর সীম ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রামীণ ফোন কোম্পানীর গ্রাহকরা। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতারণা ও নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনা দূর করে সেবার মান বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন উপজেলার ৮ লক্ষাধিক গ্রাহক। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা অভিযোগে জানান, টু-জি থেকে থ্রি-জি নেটওয়ার্ক চালু করার আগে থেকেই আগৈলঝাড়ায় নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনা শুরু হয়। ফোন কোম্পানীটি সরকারের কাছ থেকে থ্রি-জি তরঙ্গ কিনে উচ্চ মূল্যে গ্রাহকদের কাছে এমবি ও এয়ার টাইম হিসেবে বিক্রি করে আসলেও পূর্বের টু-জি নেটওয়ার্ক এর গতিও পাচ্ছে না গ্রাহকরা। উপজেলার একাধিক মোবাইল অপারেটর ব্যবসায়িদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নতুন করে দেশে ফোর-জি নেটওয়ার্ক চালুর পর গ্রামীণ ফোন বরিশাল জেলা শহরে সম্প্রতি ফোর-জি-নেটওয়ার্ক চালু করলেও আগৈলঝাড়া উপজেলায় এখনও ফোর-জি নেটওয়ার্ক চালু করেনি। অথচ কোম্পানীটি প্রতারণা করে আগৈলঝাড়ায় তাদের ৮লক্ষাধিক গ্রাহকদের এসএমএস এর মাধ্যমে ফোর-জি নেটওয়ার্কের যাবার অনুরোধ করছে। নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায় পরে ইতোমধ্যেই যে সকল গ্রাহক ১শ টাকা দিয়ে থি-জি’র সীম ফোর-জি’তে রিপ্লেসমেন্ট করেছেন তাদের ওই ১শ টাকা গচ্ছা গেছে বলেও দাবি ব্যবসায়ীদের। ফোর-জি নেটওয়ার্ক তো দূরের কথা, জিপি তার গ্রাহকদের কাছ থেকে থ্রি-জি নেটওয়ার্কের টাকা হাতিয়ে নিলেও এখন পর্যন্ত আগৈলঝাড়ায় থ্রি-জি নেটওয়ার্ক সেবা দিতে পারেনী গ্রাহকদের। গ্রাহকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবেই থ্রি-জি থেকে ফোর-জি’র সেবা পাবার অধিকার থাকলেও সীম রিপ্লেসমেন্টের নামে গ্রামীণ ফোন অতিরিক্ত ১শ টাকা আদায় করে আসছে। এদিকে গ্রাহক আকৃষ্ট করতে গ্রামীণ ফোন কোম্পানী সর্বপ্রথম উপজেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্রে তাদের টাওয়ার স্থাপন করলেও গ্রাম তো দুরের কথা উপজেলা শহরের গ্রাহকরা উচ্চ মানের নেটওয়ার্ক সুবিধা থেকেও বি ত রয়েছে। টাওয়ার এলাকার আশপাশের গ্রাহকেরাও জিপি’র নেটওয়ার্ক ব্যবহারে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হবার সাথে সাথে গ্রামীণ সীমে কোন নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। ফলে সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরের জিপি গ্রাহকেরা যথা সময়ে প্রয়োজনীয় কাজ করতে না পারায় তাদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে পিছিয়ে পরেছে আগৈলঝাড়া উপজেলার ৮ লক্ষাধিক গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ বা লোড শেডিং এর সময় আগে গ্রামীণ ফোন টাওয়ারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটর চালু থাকত। দীর্ঘ দিন যাবত স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটর চালুর ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ যাবার সাথে সাথে গ্রামীণ ফোনের নেটওয়ার্কে কোন কাজ করতে পারছে না গ্রাহকরা। প্রতারণা ও গ্রাহক হয়রাণীর ব্যাপারে গ্রামীণ ফোনের টেরিটোরি ম্যানেজার (বিক্রয় ও বিতরণ) মো. জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আগৈলঝাড়ায় আমাদের কোম্পানীর ৮ লাক্ষাধিক গ্রহক রয়েছে। নেটওয়ার্কের বিষয়টি কারিগরি বিষয় হওয়ায় তিনি অভিযোগ পাবার পর বিষয়টি কারিগরি বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। তিনি আরও বলেন, নেটওয়ার্ক সমস্যার ব্যাপারে কোন গ্রাহক তাদের কাছে আগে জানায়নি। গ্রাহকদের সেবা প্রদান করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দেন ওই কর্মকর্তা।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ