fbpx
26.2 C
Barisāl
Friday, October 15, 2021

আগৈলঝাড়ায় ধান কাটা শ্রমিক সংকটের কারনে কৃষকের ধান ক্ষেতে নষ্ট হচ্ছে।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ইরি-বোরো ধানের ফলন ভাল হলেও শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকের ক্ষেতে ধান নষ্ট হচ্ছে। কৃষক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে চলতি বছর ১০হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। প্রতিবছর পাকা ধান কাটার জন্য গোপলগঞ্জ, ফরিদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, শরনখোলা, মোড়লগঞ্জ থেকে শ্রমিকরা আসেন। ধানের দাম কম হওয়ায় চলতি বছর অনেক শ্রমিকরা ধান কাটতে আসেনি। যারাও এসেছেন তাদের অনেকেই জমিতে পানি জমে যাওয়ার কারনে ধান কাটতে চাইছেন না। অনেকে আবার এসে জমিতে পানি দেখে নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন। আবার স্থানীয়ভাবে বর্তমানে ধানের বাজার মূল্য কম হওয়ায় স্থানীয় শ্রমিকরা ধান কাটতে অনিহা প্রকাশ করছে। বর্তমানে ধানের বাজার মূল্য ৫০০ থেকে ৬২৫ টাকা। যা চাষীর উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম। ধানের বাজার মূল্য কম ও শ্রমিক সংকট থাকার কারনে উঠতি পাকা ফসল ঘরে তুলতে না পেরে কৃষকরা চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরেছেন। এদিকে চাষিরা তাদের দাদন ব্যাবসায়ী মহাজনদের দাদনের ধান ও সুদের চিন্তায় বিপর্যস্ত হয়ে পরেছেন। কারন, বেশিরভাগ চাষী স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে মৌসুমের শুরুতে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে ১ মন ধান ও নগদ ১হাজার টাকা হারে দাদন নিয়ে বেশী ফলনের আশায় ইরি-বোরো ধান চাষাবাদ করেছেন। জ্বালানী তেলসহ কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের গত বছরের চেয়ে এ বছর উৎপাদনে বেশী টাকা গুনতে হয়েছে। চাষীরা জানান, এবছর প্রতি মন ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে ৭শ’ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে ৬২৫ টাকায়। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় দাদন ব্যাবসায়ীদের টাকা ও ধান পরিশোধ করা নিয়ে হতাশায় ভুগছেন। উপজেলার বেশীরভাগ প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও বর্গাচাষীরা স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা এনে পরিশোধ করার ব্যাপারে এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারী সহায়তা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ না পেলে গোয়ালের গরু, স্ত্রীর গহনা বিক্রি করেই মহাজনের দাদনের টাকা সুদ সহ পরিশোধ করতে হবে বলে কৃষকরা জানান।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ