fbpx
25.6 C
Barisāl
Wednesday, April 21, 2021

আগৈলঝাড়ার সেই লম্পট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার আলোচিত লম্পট প্রধানশিক্ষক (সাময়িক বরখাস্ত হওয়া) শ্যাম প্রসাদ ঢালীকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে চার্জশীট জমা দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অপরদিকে ঘটনার প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও ইউএনও’র গঠিত তদন্ত কমিটি আজও তাদের রিপোর্ট জমা দেয়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এসআই গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ভিক্টিমের আদালতে জবানবন্দী প্রদান, স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ পর্যালোচনা করে প্রধানশিক্ষক শ্যাম প্রসাদ ঢালীর বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের প ম শ্রেনীর শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় আদালতে চার্জশীট জমা দেয়া হয়েছে (আগৈলঝাড়া থানার চার্জশীট নং ৩৮)। এসআই গাজী নজরুল ইসলাম আরও জানান, ঘটনার দিন গত ৮ মার্চ উপজেলা সদরের নিজের ভাড়াটিয়া বাসায় স্ত্রী, সন্তান না থাকার সুযোগে প্রাইভেট পড়তে আসা নগরবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক শ্যাম প্রসাদ ঢালী তারই স্কুলের প ম শ্রেণির এক শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। শ্যাম প্রসাদ ঢালী একই উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা (মারুফা বেগম) বাদী হয়ে প্রধানশিক্ষক শ্যাম প্রসাদ ঢালীকে একমাত্র আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ২৩ মার্চ দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যাম প্রসাদ ঢালীকে গ্রেফতার করেন। সূত্রমতে, প্রধানশিক্ষক শ্যাম প্রসাদ ঢালী গ্রেফতার হওয়ার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ওইদিনই ঘটনার তদন্তের জন্য সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রিতীশ বিশ্বাসকে প্রধান করে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার জন্য এক সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠণ করেন। অপরদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ২৫ মার্চ প্রধানশিক্ষক শ্যাম প্রসাদ ঢালীকে ১৬৮নং স্মারকে চাকরী থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করেন। সূত্রে আরও জানা গেছে, তদন্ত কর্মকর্তা প্রিতীশ বিশ্বাস নিজে নির্ধারিত ছক বানিয়ে ১৩টি প্রশ্নের উত্তর চেয়ে বিতর্কিত তদন্তের মাধ্যমে একদিনের জায়গায় ১৫দিন পর গত ৯ এপ্রিল নাম কাওয়াস্তে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। অন্যদিকে ২৮ মার্চ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশ্রাফ আহম্মেদ রাসেল অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্তের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল হক তালুকদারকে প্রধান করে তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠণ করেন। ওই কমিটির অপর সদস্যরা হলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। তবে ঘটনার প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে ইউএনও’র গঠিত তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি আজও তাদের রিপোর্ট জমা দেয়নি। সূত্রটি আরও জানিয়েছেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত প্রধানশিক্ষক শ্যাম প্রসাদ ঢালীর ভাই চেঙ্গুটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক সুমন ঢালী মোটা অংকের টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নামেন। সুমন তার টাকার মিশনে শিক্ষক সমাজের একাংশের নেতাদের নিয়ে নামেমাত্র সংবাদ সম্মেলনও করিয়েছেন।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ