fbpx
24.7 C
Barisāl
Thursday, May 13, 2021

আগৈলঝাড়ায় বাকপ্রতিবন্ধি কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় অবশেষে মামলা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রতœপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মোল্লাপাড়া গ্রামে এক বাকপ্রতিবন্ধি কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনার প্রায় ৪ মাস পর সোমবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত গত ৮ ও ৯ জুলাই বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে টনগ নড়ে। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে অবশেষে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা বাদি হয়ে ধর্ষকসহ তিন জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামা আসামি করে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর গতকাল মঙ্গলবার সকালে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ধর্ষিতাকে ডাক্তারী পরীক্ষা ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ ধারায় জমানবন্দি দেয়ার জন্য প্রেরন করা হয়েছে। অসহায় ও হতদরিদ্র প্রতিবন্ধি পরিবারটি মামলা পরিচালনার জন্য মানবাধিকার, আইনসহায়তা ও নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মামলার এজাহারে প্রকাশ, দক্ষিণ মোল্লাপাড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধি কিশোরীর মা ও মামলার বাদি গত ১৪ মার্চ বুধবার দুপুরে তার মাসি (খালা) বাড়িতে বেড়াতে যায়। ওই দিন রাত ১০.৪০ মিনিটের সময় বাড়ি পাশে মৃত নকুল সরকারের পুত্র বিমল সরকারের (৪৫) ঘর থেকে টেলিভিশন দেখে বাকপ্রতিবন্ধি কিশোরী বাড়িতে ফিরছিল। এ সময় মৃত নকুল সরকারের পুত্র সুনীল সরকার (৫৫) বাকপ্রতিবন্ধি কিশোরীকে একা পেয়ে টেনে হেচরে সুনীল তার বসত ঘরের পূর্ব পাশে পুকুর পারে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পরে এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষক সাশিয়ে দেয়। পরবর্তীতে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরে। বাদি তার মেয়েকে অন্তঃসত্ত্বা বিষয় জানতে চাইলে তাকে ধর্ষণের ঘটনা খুলে বলে। পরবর্তীতে এ ঘটনা ধর্ষক সুনীলের সহদোর বিমল সরকার ও তার পুত্র কমল সরকারের কাছে জানান। তারা উক্ত ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। বিমল সরকার কিশোরীর মাকে তিনশত টাকা দিয়ে গর্ভপাতের জন্য হুমকি দেয়। হুমকির মুখে বাদি ও তার শ্বাশুড়িসহ গত ৩ জুন অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে সাহেবের হাট জিজাস মেডিকেল হলের মালিক পল্লী চিকিৎসক বাদল চক্রবর্তীর কাছে নিয়ে যায়। বাদল চক্রবর্তী ওষধের মাধ্যমে ৪ জুন গর্ভপাত ঘটায়। এর পরে প্রচুর রক্তক্ষরন হয়ে কিশোরী অসুস্থ্য হয়ে পরে। উক্ত ঘটনা রতœপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য চিত্ত সমদ্দার, সংরক্ষিত মহিলা-২ এর সদস্য লিলি হাওলাদার, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সোহরাফ হোসেন হাওলাদারসহ অন্যান্যদের জানায়। পরবর্তীতে স্থানীয় মিরন চৌধুরীর বাড়িতে এক সালিস বৈঠক বসে। উক্ত সালিসরা কিশোরীর পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে চুপ থাকতে বলেন। কিন্তু সালিস বিচারের ধার্য করা উক্ত টাকা নির্যাতিতার পরিবারকে না দিয়ে ধর্ষক, তার পরিবারবর্গ ও আত্মীয় স্বজন নানা ধরনের ভয়ভীতিসহ জীবন নাশের হুমকি দেয়। এসব ঘটনার বিচারের জন্য ও ধর্ষণের ঘটনার বিস্তারিত এবং সালিসদের সিদ্ধান্ত ৫নং রতœপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তফা সরদারকে কিশোরীর পরিবার জানান।
জিজাস মেডিকেল হলের মালিক পল্লী চিকিৎসক বাদল চক্রবর্তী গর্ভপাত ঘটনানোর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘অসহায় প্রতিবন্ধি পরিবারটির দিকে তাকিয়ে আমি ওষধ খেতে দিয়েছি।’
অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত সুনীল সরকার বলেন, ‘সালিসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৫ হাজার টাকা প্রতিবন্ধি পরিবারে বংশের ২ জনকেসহ নিতে আসতে বলেছি। বংশের কাউকে আনতে পারেনি বলে আমি টাকা দেয়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খন্দকার আবুল খায়ের বলেন, ধর্ষিতা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমানবন্ধি দিয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টা চলছে।
গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল রব হাওলাদার বলেন, ‘এ ঘটনাটি খুবই অমানবিক। অসহায় পরিবারটি যাতে আইনি সহযোগীতাসহ আর্থিক সুবিধা পায় তার আমি ব্যবস্থা করতেছি।’

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ