fbpx
36.4 C
Barisāl
Thursday, April 15, 2021

আগৈলঝাড়ায় আগাম বন্যার আশঙ্কায় আড়াই লক্ষাধিক জনগণ ১১ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি স্থায়ীভাবে বন্যা মোকাবেলায় ৮ দফা সুপারিশ

দেশের উত্তরা লে দেখা দিয়েছে বন্যা। বন্যার পূর্ভাভাসে বরিশালের আগৈলঝাড়ার দুই লক্ষাধিক জনগনের মধ্যে দেখা দিয়েছে আগাম বন্যার আশংকা। আগৈলঝাড়াকে স্থায়ীভাবে বন্যা মুক্ত করতে প্রশাসনের প্রস্তাবিত ৮দফা শুপারিশ ১১ বছরেও আলোর মুখ না দেখায় বর্ষা মৌসুম এলেই বন্যার পানিতে কৃষকের ফসলী জমিসহ মাছের ঘের, পানবরজ ও ঘর বাড়ি তলিয়ে যাওয়ার উদ্বেগ আর আশংকায় থাকেন উপজেলার জনগণ। উপজেলাকে স্থায়ীভাবে বন্যা মুক্ত রাখতে প্রশাসনের প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর নিকট শুপারিশ বাস্তবায়নের জোর দাবি করেছেন এলাকার কৃষকেরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ১৫৫.৪ বর্গ কি.মি. নিম্না লের জলাবদ্ধতা মুক্ত রাখতে ও বর্ষা মৌসুমে উত্তরা লের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল এলাকায় প্রবেশ করে বরাবরই বর্ষা মৌসুমে কৃত্তিম বন্যার সৃষ্টি হয়।
গত ৩ দশক ধরে এলাকার প্রায় ২৬ হাজার কৃষক পরিবারসহ আড়াই লক্ষাধিক জনগন কৃত্তিম বন্যার কারণে তাদের উঠতি ফসল, মৎস্য সম্পদ, পশু সম্পদ, পান বরজসহ বিভিন্ন প্রকার সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে আসছে। একারণে রবি মৌসুমের ইরি-বোরো চাষের পরে বন্যায় ক্ষতির কথা চিন্তা করে উপজেলার চাষিরা তাদের জমিতে কোন ফসল আবাদ করছে না। ফলে এলাকার জমিগুলো এক ফসলীতে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে মাঠের পর মাঠ অনাবাদি জমিতে ঘাস-জঙ্গলে ভরে থাকে। ইরি-বোরো চাষের মৌসুমে ওই ঘাস পরিস্কার করতে চাষিদের করতে হয় অতিরিক্ত অর্থ ও শ্রম ব্যয়।
উপজেলার কিছু এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ থাকলেও বন্যার পানি থেকে রেহাই পায়না কৃষক ও মৎস্যজীবিরা। কারণ, বাঁধের বাহির এলাকায় পানির চাপ বেশি হলে পানির চাপ কমাতে বাঁধের অভ্যন্তরের ক্ষতিগ্রস্থরা রাতের আঁধারে বাঁধগুলো কেটে দেয়। ফলে নিমিশেই হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অদূরদর্শিতা ও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মান ও পানি নিস্কাসনের জন্য নির্মিত ইনলেট ও আউটলেটের কারণে বেরীবাধ বেষ্টিত এলাকার হাজার হাজার কৃষক পরিবার সহ সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে কিন্তু কমেনি। পানি নিস্কাশন ব্যবস্থাপনা সমস্যার কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি পানি হলেই বন্যার আকার ধারণ করে এলাকায়।
উপজেলাকে বন্যা মুক্ত রেখে চাষিদের ফসল উৎপাদনের স্বার্থে উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ২০০৭ সালে সিডরের পর সরেজমিন ঘুরে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ থেকে জেলা প্রকৌশল বিভাগে বিভিন্ন স্থানে কালভার্ট সুইজ গেইট নির্মাণের মানচিত্রসহ সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রজেক্ট প্রপোজাল (পি.পি)’র প্রেরণ করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমেও পাউবো’র প্রধান প্রকৌশলীর নিকট ৮ দফা সুপারিশমালা হস্তান্তর করা হয়। ওই বছর ১৩ আগষ্ট তত্বাবধায়ক সরকারের তৎকালিন মৎস ও পশুসম্পদ, বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক মানিক লাল সমদ্দার ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক, গৃহায়ন গণপুর্ত, ভূমি এবং তথ্য মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার মাইনুল হোসেন বরিশাল ডাক বাংলোয় অবস্থানের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা ওই শুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য তাদের হাতে তুলে দিলেও ওই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি।
বন্যা মেকাবেলায় সুপারিশগুলোর মধ্যে ছিল- বাকাল থেকে রাজিহার-মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে ১ নং ব্রিজ সংলগ্ন খালের মুখ উন্মুক্ত করে নৌ-চলাচলের সুবিধাসহ ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণ, বাকাল-রাজিহার-মাগুরা বেরিবাঁধের রাজিহার ব্রিজ সংলগ্ন রাজিহার-ত্রিমুখি খালের মুখ উন্মুক্ত করে নৌ-চলাচলের সুবিধা সহ ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণ, বাশাইল-মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের মধ্যবর্তি স্থানে একটি বড় কালভার্ট নির্মাণ, পয়সারহাট-ত্রিমূখী বাজারের সুবিধাজনক স্থানে ৮ থেকে ১০ দরজা বিশিষ্ট সুইজ গেইট নির্মাণ, পয়সারহাট-কালুরপাড়-রতœপুর বেরিবাঁধের রামের বাজার খালের মুখে সুুইজ গেইট বা ব্রিজ নির্মাণ, পয়সারহাট-কালুরপাড়-রতœপুর বেরিবাঁধে কাঠিরা খালের মুখে কালভার্ট নির্মাণ, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গোপালগঞ্জের রামশীল সুইজ গেইট, ছয়গ্রাম (মিশ্রীপাড়া) সুইজ গেইট সহ ইনলেট, আউটলেটগুলো জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষণ ও উপজেলার বিভিন্ন খালের মুখের বাঁধ অপসারণ করে সেখানে ব্রিজ নির্মাণসহ খালগুলো পুণঃ খননের সুপারিশ করা হয়। সেই শুপারিশগুলো আজও আলোর মুখ দেখেনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে অন্তত ৮ কোটি টাকার প্রয়োজন। এই অর্থ বরাদ্দ হলে আগৈলঝাড়াকে স্থায়ীভাবে বন্যার কবল থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ