fbpx
27.3 C
Barisāl
Tuesday, July 27, 2021

সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙন আতংকে শতাধিক পরিবার হুমকির মুখে সাইক্লোন শেল্টার

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বুক চিরে প্রবাহিত সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে গুঠিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। এখনও হুমকির মুখে রয়েছে নদী সংলগ্ন সাতটি গ্রামের কয়েকশত পরিবার ও এলজিইডির কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আশোয়ার গ্রামের একটি সাইক্লোন শেল্টার। গত দুই মাসে সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে দাসেরহাট খেয়াঘাটে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত যাত্রীছাউনীটি বিলীন হয়েছে নদী গর্ভে। ভিটেমাটি হাড়িয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে প্রায় অর্ধশত পরিবার। চলতি বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে উজিরপুরের সন্ধ্যা নদী সংলগ্ন চথলবাড়ি, নারকেলী, দাসেরহাট, আশোয়ার, কমলাপুর, চৌধুরীর হাট, কালিরবাজার ভেড়ীবাঁধ ও শিকারপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এতে আতংকিত হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সন্ধ্যা নদীর তীব্র ¯্রােতে গুঠিয়া অংশের চরমলঙ্গা থেকে আশোয়ার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা জুড়ে কয়েক বছর ধরে অব্যাহত ভাঙন চলছে। এতে উজিরপুরের মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে রৈভদ্রাদী, দাসেরহাট, হানুয়া, আশোয়ার গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বিশাল অংশ। নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে শত বছরের পুরাতন ভিটাবাড়ি, ভেড়ীবাধ, রাস্তাঘাট, স্কুল-মসজিদসহ ফসলী জমি। এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় অবশিষ্ট পরিবারগুলো ঘর-বাড়ি নিয়ে অন্যত্র আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা আক্ষেপ করে বলেন, গত কয়েক বছরে নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে আমরা সর্বস্ব হারিয়ে এখন দিশেহারা। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আমাদের সহযোগীতা দূরের কথা কোনো খোঁজ খবরও নেয়া হয়নি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের নদী ভাঙ্গনে গুঠিয়া ইউনিয়নের দাসেরহাট খেয়াঘাট সংলগ্ন বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানঘর নদীর বুকে ঢলে পড়েছে। ভাঙ্গন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়া হলে যে কোন সময় বাজারের শতাধিক দোকনঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। একইভাবে উপজেলার চৌধুরীরহাট বাজারটি বিলীনের উপক্রম দেখা দিয়েছে। তাছাড়া গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নদীতে জোয়ারের পানির চাপ ও তীব্র ¯্রােত থাকায় ভাঙনের পরিমান বৃদ্ধি পেয়ে গুঠিয়া ইউনিয়নের হানুয়া, কমলাপুর, দাসেরহাট, বান্না ও আশোয়ার গ্রামের বিস্তীর্ন এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় মিজান চাপরাশী ও নাদিমসহ অনেকে জানিয়েছেন, হানুয়া গ্রামের তিনের এক অংশ ইতিমধ্যে নদী গর্ভে গ্রাস হয়ে গেছে। ভিটাবাড়ি হারিয়েছে বাসু সেন, খোরশেদ হাওলাদারসহ পুরনো অনেক পরিবার। এ বিষয়ে গুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের দাসেরহাট ও আশোয়ার এলাকার বিভিন্নস্থানে বেশ কিছুদিন যাবত সন্ধ্যা নদীর ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। কিন্তু ভাঙ্গন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি অবগত নন, তবে খতিয়ে দেখে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু সাঈদ জানিয়েছেন, ভাঙ্গন রোধে ৭টি পাইপ লাইন আছে। সন্ধ্যা নদীর ভাঙ্গন রোধে তিনি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ