fbpx
27.1 C
Barisāl
Monday, April 12, 2021

কালকিনিতে কলেজের প্রভাষক ও নিন্মমান সহকারীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসারের সরকারী শেখ হাসিনা একাডেমী অ্যান্ড উইমেন্স কলেজে নানা অপরাধের অভিযোগে হিসাব বিজ্ঞানের প্রভাষক আব্দুস সামাদ তালুকদার ও নি¤œমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ মাইনুর হাসান(মাসুম) এর বিরুদ্ধে তিন মাসেও নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। তবে তাদের গত ২৪ মার্চ কলেজ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে এনিয়ে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়। কিন্তু গত তিনমাসেও সেই তদন্ত কার্যক্রম আলোর মুখ দেখেনি। অপরদিকে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে কলেজের অন্যান্য শিক্ষকদের প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকী দেয়। এনিয়ে ভূক্তভোগীরা ডাসার থানায় জীবন রক্ষার তাগিদে সাধারন ডায়েরী করেন। কিন্তু হুমকীদাতারা এলাকায় ব্যাপক প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আর এতে করে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে কলেজের অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ। যে কোন মূহুর্তে¡ তাদের ওপর হামলার আশঙ্কায় দিনাতিপাত করছে তারা। সূত্র জানায়, ডাসারের সরকারী শেখ হাসিনা একাডেমী অ্যান্ড উইমেন্স কলেজের হিসাব বিজ্ঞানের প্রভাষক আব্দুস সামাদ তালুকদার কলেজে বসে কলেজের শৃঙখলা বিনষ্টের লক্ষে অন্যান্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে। অপরদিকে কলেজের মহিলা প্রভাষকদের প্রতি অশোভন আচরন করতে থাকে। এনিযে কয়েক দফা অভিযোগ উঠলেও তিনি তা পাত্তা না দিয়ে এক প্রকার নিজের ব্যক্তিগত ক্ষমতার দাপটে এমন কার্যক্রম চালিয়ে যায়। তিনি এতটাই নিজেকে প্রভাবশালী মনে করতে থাকেন যে ভাষা শহীদদেরও নিয়েও কটুক্তি ও অবমাননা করতে থাকেন। ২০১৪ সালে শহীদ বেদিতে ফুলদিতে গেলে তিনি সেখানে প্রকাশ্যে শহীদদের অবমাননা করেন। এনিয়ে কলেজের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী জানে আলম লস্করসহ অন্যান্য শিক্ষকরা প্রতিবাদ করেন। তিনি ষড়যন্ত্রে এতটাই লিপ্ত হয় যে, কলেজের ক্ষতি সাধন করতে কলেজে অগ্নীসংযোগ করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। কলেজের শৃঙখলা ভাংতে তিনি এতটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন যে, ছাত্রীদের কুচকাওয়াজ বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদানে বাঁধা প্রদান করে। এছারাও অতিরিক্ত ফি নিয়ে বাধ্যতামূলক প্রাইভেট পরানোসহ নানা অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অপরদিকে তার সহযোগি কলেজের নি¤œমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ মাইনুর হাসান (মাসুম) কলেজের সিসি ক্যামেরার তার কেটে ৪০ হাজার টাকা চুরি করে। আর বিষয়টি ধরা পরলে সকলের সম্মূখে টাকা ফেরৎ দেয়ার পাশাপাশি ক্ষমা প্রার্থনা করে। কিন্তু এর পর থেকে একের পর এক কলেজের সুনাম ক্ষুন্ন করার পাশাপাশি কলেজের ক্ষতি সাধনে মরিয়া হয়ে ওঠে মাসুম। আর কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে ছাত্রীদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোষ নিয়ে ফরম ফিলাপ করায়। যা পরবর্তীতে প্রকাশ পায়। এনিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাদের কারণ দর্শাও নোটিশ করে আর সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় পরে সাময়িক বরখাস্ত করে। এবিষয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু এতে করে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা এলাকায় ব্যাপক প্রভাবশালী হওয়ায় কলেজের অন্যান্য শিক্ষকদের প্রকাশ্যে হত্যার হুমকী দেয়। এনিয়ে ডাসার থানায় সাধারন ডায়রি করা হয়েছে। এব্যাপারে তদন্ত টিমের প্রধান মাদারীপুর সহকারী কমিশনার মোঃ আবিদুর রহমান বলেন ‘ বিষয়টির তদন্ত করা হচ্ছে। সঠিক ভাবে তদন্তের লক্ষে একটু সময় ক্ষেপন হলেও শিঘ্রই তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।’ আর প্রাণ রক্ষায় সাধারন ডায়েরীর ব্যাপারে ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক বলেন‘ তারা জিডি করেছে। এবং সেই রকম কিছু দেখলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ