fbpx
26.7 C
Barisāl
Monday, May 10, 2021

দুই পরিবারের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য আগৈলঝাড়ায় এক গৃহবধূর রহস্য জনক মৃত্যু। থানায় মামলা দায়ের।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুই পরিবারের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর পিতার পরিবার থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের জয়রামপট্রি গ্রামের করিম মোল্লার প্রবাসী ছেলে আলামিন মোল্লার সাথে সীমান্তবর্তী নারায়নখানা গ্রামের জাহান আলী খানের মেয়ে মুন্নীর সাথে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই সন্তান রয়েছে। গত ১৫ আগষ্ট মুন্নীর মা রহিমা বেগম অসুস্থ হওয়ার কথা বলে মেয়ে মুন্নীকে সংবাদ দেয় তার পিতা জাহান আলী খান। মুন্নী গিয়ে তার মাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসা দেয়ার ঘটনা নিয়ে ওই দিন রাতে মুন্নী বেগমের ভাই সোহাগ খানের সাথে ঝগড়া-ঝাটির এক পর্যায় সোহাগ বোন মুন্নীকে মারধর করে।

সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পিতার বাড়ির পরিবারের লোকজন তাকে প্রথমে কোটালীপাড়া হাসপাতালে, উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ ও পরে খুলনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মুন্নীর অসুস্থের ঘটনা তার পিতার বাড়ি থেকে শ্বশুর পরিবারকে জানানো হয়নি। খুলনা হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় গত ১৬ আগষ্ট দুপুরে মুন্নীর মৃত্যু হয়। লাশ পিতাবাড়ি নারায়নখানা গ্রামে আনা হলে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে গৃহবধূ মুন্নীর লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরন করেছেন। পোস্টমর্টেমের পর গতকাল শনিবার মুন্নীর লাশ তার পিতার বাড়িতে দাফন করা হবে বলে জানান স্থানীয়রা। মুন্নীর মরদেহ শ্বশুর বাড়িতে দাফনের জন্য চাওয়া হলেও পিতা পরিবার দিতে রাজি হয়নি।

এ ব্যাপারে মুন্নীর ছয় বছরের মেয়ে ও জয়রামপট্রি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী উম্মে কুলসুম সাংবাদিকদের জানান, গত ১৫ আগষ্ট রাতে ঝগড়া-ঝাটির এক পর্যায় মাকে মারধর করেছে মামা সোহাগ খান। মার পেটে লাথি মারার পর, মা অসুস্থ হয়ে পরে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সোহাগ খান বোনের সাথে ঝগড়া-ঝাটি ও মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন। মুন্নীর মাতা রহিমা বেগম জানান, মেয়ের ননদ জামাই সজিবের সাথে আমার মেয়ে মুন্নির অবৈধ মেলামেশা করতে গিয়ে গভবর্তী হয়ে পরে। আর মুন্নীর গর্ভবাত এমআর করতে গিয়ে প্রচুর রক্ত ক্ষরনে কারনে মুন্নীর মৃত্যু হয়েছে।
এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.কামরুল ফারুক সাংবাদিকদের জানান, গৃহ্বধূ মুন্নীর সাথে সজিবের অবৈধ মেলামেশার কারনে সে গর্ভবতী হয়ে পরে। অবৈধ গর্ভপাত এমআর করতে গিয়ে প্রচুর রক্ত ক্ষরনের কারনে তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ পোস্টমর্টের জন্য মর্গে শুক্রবার বিকেলে প্রেরন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মুন্নীর মা রহিমা বেগম বাদী হয়ে সজিবকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছে,যার নং-১৩(১৭-৮-২০১৮)।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ