fbpx
30.4 C
Barisāl
Saturday, May 8, 2021

আগৈলঝাড়ায় ৫২৪ বছরের কবি বিজয় গুপ্তের মনসা মন্দিরে বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হাজার হাজার ভক্তের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন।

সনাতন ধর্মের দেবী মনসার প্রতি হাজারো ভক্তের বিনয়াবনত শ্রদ্ধা, শঙ্খ, উলুধ্বনি, মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে হাজার হাজার ভক্তের সমাগমের মধ্য দিয়ে গতকাল শুক্রবার মহা সারম্বে আগৈলঝাড়ার গৈলা গ্রামে মনসা মন্দিরে বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মধ্যযুগের মনসা মঙ্গল কাব্য গ্রন্থের রচয়িতা, বাংলা সাহিত্যের অমর কবি বিজয় গুপ্ত’র প্রতিষ্ঠিত ৫শ ২৪ বছরের পুরোনো মনসা মন্দিরে ইতোমধ্যে সাধু, সন্যাসী, দেশ-বিদেশের হাজারো নারী-পুরুষ ভক্তের উপস্থিতিতে দিনব্যাপি ভক্তের আগমনে সরগরম হয়ে উঠে মন্দির আঙ্গিনা।

উপমহাদেশের প্রখাত মনসা মন্দিরে বাৎসরিক পূজা উপলক্ষে আগৈলঝাড়া উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ, কোটালীপাড়া, গৌরনদী, উজিরপুর, কালকিনি, মাদারীপুর, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ভক্তবৃন্দ মন্দির আঙ্গিনায় সববেত হয়েছিল। বাৎসরিক মনসা পূজা উপলক্ষে মন্দিরের পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে হাজার হাজার পুরুষ ও মহিলা ভক্তবৃন্দ দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে মনসাদেবীর পূঁজা দিয়েছেন। দেবী মনসার মন্দিরের বাৎসরিক পূঁজা উপলক্ষে সকাল ৭ টায়, দুপুর ১টায় ও বিকেল ৪টায় তিন দফায় পূঁজা অর্চনা, ভোগরাগ, ছাগ বলিদান ও ভোগের প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে। কবি বিজয় গুপ্তের স্মৃতিরক্ষা মসনা মন্দির সংরক্ষন ও উন্ননয় কমিটির নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য সেচ্ছাসেবক বাহিনী শান্তি শৃংখলা রক্ষায় কাজ করেছেন। মন্দির সংরক্ষন ও উন্ননয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা দৈনিক সমকালের উপ সম্পাদক অজয় দাশ গুপ্তের সার্বিক তত্বাবধানে সু-শৃংখলা ভাবে পূঁজা অর্চনা সমাপ্ত করতে চেষ্টা করেছেন।

আগৈলঝাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আঃ রাজ্জাক মোল্লার নেতৃত্বে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশসহ, জেলা পুলিশের একটি চৌকস সদস্য দল আইন শৃংখলা রক্ষার্থে কাজ করছেন। পূঁজা উপলক্ষে মন্দিরের পাশ্ববর্তী এলাকায় বসেছিল ফার্নিচারসহ হরেক রকম মেলা। বাৎসরিক পূঁজা উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী রয়ানি পালাগান শেষ হয়েছে এর আগে। যুগ যুগান্তর থেকে রয়ানি গানের মধ্যদিয়ে এ অ লের মানুষ মনসা পূঁজার মাধ্যমে সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টায় পূঁজা করে আসছেন। সকাল থেকেই পূঁজা অর্চনা শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে চলে ভোগরাগ, বলিদান ও ভোগের প্রসাদ বিতরণ।

প্রাপ্ত তথ্য ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা গ্রামে ইংরেজী ১৪৫০ সালে কবি বিজয় গুপ্ত জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সনাতন গুপ্ত ও মায়ের নাম রুক্সিনী দেবী। বিজয় গুপ্ত ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। ৪৪ বছর বয়সে তিনি বিষহরি দেবী (বিষ হরণকারী) মনসা কর্তৃক স্বপ্নে আদিস্ট হয়ে ফুলশ্রী গ্রামের মনসা কুন্ড নামেখ্যাত বর্তমান মন্দিরের পাশ্ববর্তী দিঘী থেকে স্বপ্নে প্রাপ্ত ঘট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মন্দিরে। এরপর তিনি (বিজয় গুপ্ত) দেবী পদ্মা বা দেবী মনসা কর্তৃক পূণরায় স্বপ্নে আদিস্ট হয়ে দিঘীর পাশ্ববর্তী বকুল গাছের নীচে বসে নবাব হোসেন শাহ’র শাসনামলে (১৪৯৪ সালে) পদ্মপুরাণ বা মনসা মঙ্গল কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। যা পরবর্তীতে বাঙলা সাহিত্যের অমরগ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। মনসা মঙ্গল কাব্যগ্রন্থ রচনা করায় কবি বিজয় গুপ্ত সুলতানের দরবারে ‘মহাকবি’ উপাধি লাভ করেন। বিজয় গুপ্ত বিভিন্ন এলাকায় কিছুকাল স্ব-দলবলে মনসা মঙ্গল গানও করেন। এরপর তিনি তীর্থ ভ্রমনের উদ্যেশ্যে কাশীধাম গমন করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক সেনারা বিজয় গুপ্তের প্রতিষ্ঠিত মনসা মন্দিরে ব্যাপক লুটতরাজ ও ধ্বংষযজ্ঞ চালায়। রেখে যায় মন্দিরে তার প্রতিষ্ঠিত ঘট। স্বাধীনতার পর থেকে ওই ঘটেই চলে আসছিল নিত্যদিনের পূজা অর্চনা।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ