fbpx
37.6 C
Barisāl
Wednesday, April 21, 2021

উজিরপুরে কালোবাজারে বিক্রির সময় ভিজিএফের ৮ বস্তা চাল আটক

বরিশালের উজিরপুরের জল্লা ইউনিয়নে ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে গরীবদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের ৮ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রির সময় আটক করেছে এলাকাবাসী। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সুশান্ত হালদার নামে এক অটো ভ্যান চালককেও আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের কারফা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টার দিকে জল্লা ইউনিয়ন পরিষদের অদুরে কারফা বাজারের মুদি দোকানদার রমেশ বিশ্বাসের দোকানের সামনে একটি ব্যাটারি চালিত অটো ভ্যানে করে ৮ বস্তা চাল নিয়ে আসে স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী প্রতিম বিশ্বাস। এ সময় সেখানে গিয়ে বিক্রয় নিষিদ্ধ লেখা সম্বলিত ৫০ কেজির প্রতি বস্তা হিসেবে ৪০০ কেজি চালসহ ভ্যানটি আটক করে জল্লা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন শাহ, সেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি তাইজুল রহমান পান্না, যুবলীগ নেতা লিটন ও সুমনসহ স্থানীয়রা। একই সাথে সেখান থেকে ভ্যান চালক সুশান্ত হালদারকে আটক করে।

জল্লা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন শাহ জানান, দুপুর ১টার দিকে কারফা কাঁচাবাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউন থেকে ওই চাল প্রতিম বিশ্বাস নামে এক চাল ব্যবসায়ী বিক্রির উদ্দেশে রমেশের দোকানে নিয়ে যায়। পরে রমেশের দোকানের সামনে থেকে ওই চাল এলাকাবাসী আটক করে থানা পুলিশে সংবাদ দেয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে চোরাই চালসহ আটককৃত সুশান্তকে ছেড়ে দেয়। এমনকি বিষয়টি ধাঁমাচাঁপা দিতে ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল বেশ তোড়জোড় শুরু করেছেন। এনিয়ে ওই এলাকায় বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তিরা জানান, ঈদ উপলক্ষে জল্লা ইউনিয়নে গরীবের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের চাল বিতরনের দায়িত্বে থাকা সচিন বিশ্বাস ও দুলাল বিশ্বাস চাল চুরি করে ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুর ঘনিষ্ঠ সহচর চাল ব্যবসায়ী প্রতিম বিশ্বাসের কাছে বিক্রি করে।

প্রতিম বিশ্বাস দুপুরে গোডাউন খুলে ৮ বস্তা মুখ সেলাই করা চাল ভ্যানে করে কারফা বাজারে নিয়ে আসলে এলাকাবাসী আটক করে থানা পুলিশে খবর দেয়। এ সময় ওই চাল প্রতিম গরীবদের কাছ থেকে কিনেছে বলে জানিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। এ সকল বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের এসআই মিজানুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে জল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু চাল বিক্রির বিষয়টি সম্পূর্ন অস্বীকার করে জানিয়েছেন, চালগুলো ভিজিএফ এর কার্ডধারীদের। ভ্যানে চালগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী আটক করে। বিষয়টি ফয়সালার চেষ্টা করা হচ্ছে। কি ধরনের ফয়সালা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার্ডধারীদের মাঝে চালগুলো বিতরন করা হবে। তবে ঈদ উপলক্ষে গরীবদের জন্য বরাদ্দ চাল এখনও বিতরন না হওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ