fbpx
26.7 C
Barisāl
Wednesday, January 26, 2022

বরিশাল-গোপালগঞ্জ ভায়া পয়সারহাট আ লিক সড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস আট বছরে সংস্কার না হওয়ায় মরন ফাঁদে পরিনত

বরিশাল-গোপালগঞ্জ ভায়া পয়সারহাট আ লিক মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস থেকে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সাবষ্টেশন পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়ক আট বছরে সংস্কার না হওয়ায় মরন ফাঁদে পরিনত হযেছে। চার কিলোমিটারের কার্পেটিং উঠে গিয়ে কর্দমাক্ত কাঁচা সড়কের রুপ ধারন করায় যানবাহন চলাচলে অহরহ দূর্ঘটনা লেগেই আছে। দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারন মানুষকে। গত এক মাসে ২০টির বেশী দূর্ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে।
বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-গোপালগঞ্জ ভায়া পয়সারহাট আ লিক মহাসড়কের ১৮ কিলোমিটর সড়ক সর্বশেষ ২০১০-২০১১ ইং অর্থ বছরে সংস্কার করা হয়। পরবর্তিতে আট বছরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটি সংস্কারের জন্য বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ চলতি অর্থ বছরে (২০১৭-২০১৮ইং) ২৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহন করে গত মার্চ মাসে দরপত্র আহবান করেন। এপ্রিল মাসে মেসার্স এম,ডি মাহফুজ খান এন্টাপ্রাইজকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জুন মাসে কাজ শুরু করে সড়কের আংশিক সংস্কার কাজ করার পর কাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় চলতি বিল হিসেবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১২ কোটি টাকা বিল উত্তোলন করেন। সংস্কার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস থেকে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সাবষ্টেশন পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কটির বেহাল দশায় মরন ফাঁদ তৈরী হয়েছে। চার কিলোমিটার সড়কের পুরান কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি হলে গর্তগুলোতে পানি ঢুকে কর্দমাক্ত ও জলাশয় রাস্তায় পরিনত হয়েছে। এতে যান চলাচলে চরম দুরাবস্থা ও দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
গতকাল সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাইপাসের সংযোগ মুখ থেকে ফুল্লশ্রী পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কটির বেহাল দশা। চার কিলোমিটারের পুরো অংশটাই খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া সড়কটির পাথর পিচ উঠে গেছে। ২০/২৫টি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে জলাশয়ে পরিনত হয়েছে। গোটা সড়কই ছোট বড় গর্ত ভরপুর। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা সংযোগ মুখ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে। এখানে সড়কটি ডোবায় রুপান্তরিত হয়েছে। গর্তগুলো ভরাট করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করতে ইটের আধলা ফালানো হয়েছে। ভারি যানবাহনের চাপে ইটগুলো ডেবে গিয়ে কাঁচা রাস্তায় পরিনত হয়েছে। ফুল্লশ্রী থেকে পল্লী বিদুৎ সমিতির অফিস পর্যন্ত খানাখন্দে ভরা। কিছুদুর আগাতেই দেখা যায় দুটি ট্রাক ডেবে আছে। ট্রাক আটকা পড়ে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ায় দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে আছে।
এ সময় ফুল্লশ্রী এলাকার সেন্টু মোল্লা(৫০), জাহাঙ্গীর হোসে(৪০) জানান, ঠিকাদারের গাফলতির কারনে সড়কটির বেহাল দশা। ঠিকাদার সংস্কার কাজ করার পরে আকস্মীকভাবে অজ্ঞাত কারনে কাজ বন্ধ করে দেন। এতে যানবাহন চলাচল ভোগান্তি পোহাতে হয়। সড়কে ডেবে যাওয়া ট্রাকের চালক খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, গত দুই মাস ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থা হলেও যেন দেখার কেউ নেই। বড় বড় গর্ত গুলো বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকার ফলে রাস্তা দেখা যায় না। এ অবস্থায় যান চলাচল করতে গিয়ে দূর্গটনায় পতিত হতে হয়। একই সমস্যার কথা জানান, চালক আমির হোসেন(৩৫), হেদায়েত সরদার(৪৫)সহ অনেকেই।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, সম্প্রতি সড়কের গর্তে পরে মালবোঝাই ট্রাক উল্টে যায়। এ সময় চালক ও হেলপার আহত হয়। এর দুই দিন আগে পিয়াঁজ বোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে তিনজন আহত হয়। দূর্ঘটনায় মালামাল বিনষ্ট হয়ে ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। গত বৃহস্পতিবার ভোর রাতে পোল্ট্রি খাবার বোঝাই ট্রাক সড়কে ডেবে যায়। গত শুক্রবার সকালে বিপরিত দিক থেকে আসা দুটি ট্রাক সড়কের মাঝখানে ডেবে গেলে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ফুল্লশ্রীর আনোয়ার হোসেন(৫২), মোতালেব হোসেন(৩৩) জানান, গত এক মাসে ২০টির বেশি দূর্গটনায় কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে মোংলা পোর্ট থেকে বরিশাল, পটুয়াখালি বরগুনার বিভিণœ বানিজ্যিক পন্যসহ দক্ষিনা লের পায়রা বন্দরের নির্মান সামগ্রী নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে দূর্ভোগ বহুগুনে বেড়ে গেছে। এছাড়া বরিশাল-খুলনা, বরিশাল- যশোর, বরিশাল-বাগেরহাট, বরিশাল-গোপালগ রুটে অসংখ্য দুরপাল্লার বাস চলাচল করতে গিয়ে দুর্গা পূজায় ঘরমুখো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঠিকাদার এম,ডি মাহফুজ খান বলেন, আমার গাফলতি নয়, বৃষ্টিজনিত কারনে সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। জরুরীভাবে সংস্কার কাজ শেষ করা হবে। এ ব্যাপারে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু হানিফ দূর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, অতিবৃষ্টির কারনে সংস্কার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষনিকভাবে ইট ও বালু ফেলে সড়কটি চলাচল উপযোগী রাখা হচ্ছে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ