fbpx
26.2 C
Barisāl
Friday, October 15, 2021

উজিরপুরে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি: ক্রমশই বাড়ছে অপরাধ

বরিশালের উজিরপুরে রাজনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে হত্যা, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতিসহ নানা ধরনের অপরাধ। প্রতিনিয়ত সংঘটিত এসব নানা অপরাধের ঘটনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, উপজেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। প্রতিটি অপরাধের ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা হলে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বাস্তবে কতটা খারাপ হয়েছে, তা অনুধাবন করা যাবে না। কিন্তু সামগ্রিকভাবে সেগুলো থেকে একটা উদ্বেগজনক চিত্রই ফুটে ওঠে। খুন আর বাসা-বাড়িতে নিয়মিত চুরি-ডাকাতির এসব ঘটনায় আতঙ্কগ্রস্ত উজিরপুরবাসী। এছাড়াও চুরি ও ডাকাতি নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছে বাসিন্দারা। আইনের ফাঁক দিয়ে অপরাধীদের বেড়িয়ে যাওয়া ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণেই সমাজে অপরাধের মাত্রা বেড়ে চলেছে বলে মনে করছে স্থানীয়রা। তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। জরুরি ভিত্তিতে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। চলতি অক্টোবর ও গত সেপ্টেম্বর মাসের বেশ কয়েকটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। চলতি মাসের ২ অক্টোবর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের কাকড়াধারী গ্রামে সড়কের পাশ থেকে ভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার, ৪ অক্টোবর গভীর রাতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শিকারপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতির বাসায় ডাকাতি, ১৬ সেপ্টেম্বর পৌর সদরের উপজেলা পরিষদ চত্বরের স্টাফ কোয়ার্টারে খোদ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রুম্পা সিকদারের বাসায় চুরির ঘটনা, ১৮ সেপ্টেম্বর শোলক ইউনিয়নে ঝাড়ফুঁকের নামে এক প্রবাসী নারীকে ধর্ষণ। এছাড়া ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮ টায় জল্লা ইউনিয়নের কারফা বাজারে নিজের মালিকানাধীন কাপড়ের দোকানে ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতার কারনে হয়েছে ধারনা করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ৩২ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। তবে চা ল্যকর এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কারন হিসেবে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতিতেই দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি সময়ের আলোচিত এসব ঘটনায় আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ। শিকারপুর শের-ই-বাংলা সরকারি কলেজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা যখন বাসা থেকে বের হই তখন বখাটেদের নানা আপত্তিকর কথা শুনতে হয়। তারা নানাভাবে আমাদের ভয়-ভীতিও দেখায়। ফলে আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি।’ মুন্ডপাশা এলাকার বাদল হাওলাদার ও উজিরপুর পৌর সদরের একাধিক বাসিন্দারা বলেন, ‘এখন বাসা বাড়িতে মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারে না। সবসময়ই একটা আতঙ্ক কাজ করে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটে।’ শিকারপুর এলাকার বাসিন্দা সুমন ও করিম জানান, মাদকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনেক ভাল পরিবারের মাদকসেবী ছেলে মেয়েরাও এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ