fbpx
31.3 C
Barisāl
Tuesday, June 22, 2021

উজিরপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রকে হয়রানির অভিযোগ

বরিশালের উজিরপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে দেহ তল্লাশির নামে এক কলেজ ছাত্রকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। উজিরপুর মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাহাতাবের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের কালিহাতা গ্রামের মো. আসাদ সরদার। সে ওই গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম সরদারের পুত্র ও রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ছাত্র। কলেজ ছাত্র আসাদ সরদার জানান, সে চলতি বছরে রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার পরীক্ষা দিয়েছেন।

তবে ফলাফল এখনও প্রকাশ না হওয়ায় বর্তমানে তিনি (আসাদ) বামরাইল বন্দরের সিদ্দিকুর রহমানের কম্পিউটার সেন্টারে কম্পিউটার প্রশিক্ষন নিচ্ছেন। প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায়ও সে (আসাদ) নিজ বাড়ী থেকে হেঁটে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে কম্পিউটার প্রশিক্ষনের জন্য বামরাইল বন্দরে যাচ্ছিলেন। দীর্ঘসময় হেঁটে কাছাকাছি এসে একটু বিরামের জন্য বামরাইল বন্দরের পূর্বপাশ্বে ব্রীজের ওপর বসে তিনি (আসাদ) মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করছিলেন। এ সময় হঠাৎ দুটি মোটর সাইকেলে উজিরপুর মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাহাতাব হোসেনসহ চারজন পুলিশ সদস্য তার সামনে দাড়িয়ে নাম পরিচয়, এখানে কি করো ও কোথায় থাকো তা জানতে চান।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার (আসাদ) দেহ তল্লাশি করতে চান সাধারন পোশাকধারী এএসআই মাহাতাবসহ ওই চার পুলিশ সদস্য। তখন আসাদ নিজেকে বামরাইল ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সালাম সরদারের ভাতিজা পরিচয় দেন এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে যাচ্ছেন বলে জানায়। এরপরও তার দেহ ভালোভাবে তল্লাশি করার জন্য পকেটে হাত দিতে চান ওই পুলিশ সদস্যরা। পুলিশের এমন সন্দেহজনক আচরণে জনসম্মুখে পকেট বা দেহ তল্লাশি করতে হবে বলে জানায় আসাদ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই চার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কেউ একজন পেছন থেকে তার (আসাদ) ঘাঁড়ে সজোড়ে দুটি থাপ্পড় মেরে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায় বামরাইল বন্দরে। এ সময় আসাদ এএসআই মাহাতাবকে জানায়, এখানে তার বাবার মুদি মনোহারি দোকান রয়েছে এবং সেখানে তাকে (আসাদ) নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু এএসআই মাহাতাব কোনো কথায় কর্ণপাত না করে তাকে (আসাদ) প্রথমে সানুহার, সেখান থেকে জয়শ্রী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যায়। পরে বিষয়টি তার চাচা ইউপি সদস্য সালাম সরদার জানতে পেরে জয়শ্রী বাসস্ট্যান্ডে যায়।

সেখানে গিয়ে উজিরপুর মডেল থানার এএসআই মাহাতাবসহ ওই পুলিশ সদস্যদের চা-নাস্তা খেতে কিছু টাকা দিয়ে কলেজ ছাত্র আসাদকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার চাচা ইউপি সদস্য সালাম সরদার। অভিযুক্ত উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাহাতাব হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আসাদ ওই ব্রীজের ওপর একাকি বসে ছিলো। তাই সন্দেহজনকভাবে আসাদকে জিজ্ঞাসাবাদ ও দেহ তল্লাশি করে জয়শ্রী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরবর্তীতে এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশে আসাদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাধারণ মানুষ হয়রানিসহ, চাঁদাবাজি, ঘুষ, দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বামরাইল এলাকার একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আসাদ সরদারের মতো একজন ভাল এবং মেধাবী ছাত্রকে পুলিশের এমন হয়রানির কারনে এখন পুরো এলাকাবাসী আংতঙ্কে রয়েছে। তারা পুলিশি হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ