fbpx
27.8 C
Barisāl
Sunday, September 26, 2021

টাকার অভাবে মেডিকেলে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থী সজীবের

লোকে বলে, “অর্থই অনার্থের মূল” এ কথা যেমন সত্যি, আবার টাকার অভাবেই অনেক সময় অনেক প্রতিভার অকাল মৃত্যু ঘটে। জীবনে বেঁচে থাকতে যেমন টাকার দরকার, তেমনি মরনেও। আমাদের এ সভ্য সমাজের অনেক ধনবান লোক আছেন, যারা কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করেও তাদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারেন না। আবার এ সমাজেরই অনেক পরিবারের সন্তান আছে, যারা অর্থের অভাবে অনাদরে অবহেলায় নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করতে জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে লড়াই করে যান, নিজের লক্ষ্যে পৌঁছার জন্যে। এদের কেউ কেউ সফল হয়, আবার অনেকেই জীবন যুদ্ধে হেরে গিয়ে আস্তাকুড়ে ঝড়ে পড়ে। এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও ভর্তির অর্থ জোগাড় করতে না পেরে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রহর গুনছে সজীব নামের এক মেধাবী শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের তেতলা গ্রামে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, হত দরিদ্র পরিবারের সন্তান মেধাবী ছাত্র সজীব। হতদরিদ্র বাবা সুধীর বাড়ৈ পেশায় দর্জি (সেলাই কারিকর)। সহায় সম্বল বলতে একটি সেলাই মেশিন। সাত জনের সংসারের অনেক কষ্টে ধার দেনা করেই চলছে। বড় ছেলে গৌরনদী সরকারী কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স শেষ বর্ষ। ছোট ছেলে তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ে। তার পরেও স্বপ্ন দেখেন, মেঝ ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করার। ছেলে সজীব তার বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তির সাহায্য ও সহযোগীতা নিয়ে ২০১৬ সালে বাকাল নিরাঞ্জন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন এ+ পায় ও ২০১৮ সালে শশিকর মহা বিদ্যালয় থেকে মেধার সাথে এইচএসসি পাশ করে।

সজীব জানায়, এ পর্যন্ত পড়াশুনা করতে গিয়ে ১দিনের জন্যেও সে প্রাইভেট পড়তে পারেনি। শুধু স্কুল ও কলেজের শ্রেনী কক্ষের পাঠদানের উপর নির্ভর করে এ পর্যন্ত এসেছে সে। ডাক্তার হওয়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষা দিলে মেধার সাথে উর্ত্তীন হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়। কিন্তু তার ভর্তিতে বাধ সাধে ভর্তির জন্য আনুমানিক ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা জোগাড় করতে না পারায়। কর্তৃপক্ষ সময় বেধে দিয়েছেন, ২১ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে ভর্তি হওয়ার জন্য। এ ঘোষনায় সজীব ও তার অসুস্থ বাবা সুধীর বাড়ৈর উপর যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। ধূলিঃসাৎ হতে চলেছে সজীবের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন। ভর্তির টাকা জোগাড় করতে হন্য হয়ে ছোটাছুটি করছে সমাজে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে। জোগাড় করতে পারছেনা ভর্তির এ মোটা অংকের টাকা। শেষ পর্যন্ত টাকার যোগান না পেলে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে সজীবের মেডিকেল কলেজে পড়ার স্বপ্ন। তাই সজীব ও তার বাবা সুধীর বাড়ৈ সমাজের ধনবান ও বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য সমুদয় অর্থের জন্য। সমাজের এমন কেউ কি আছেন, মেধাবী শিক্ষার্থী সজীব ও তার ব্রেনটিউমারে আক্রান্ত পিতা সুধীর বাড়ৈর স্বপ্ন পূরণের আলোর পথ দেখাতে আপনাদের দেয়া আর্থিক সাহায্যই হতে পারে দরিদ্র পরিবারের সন্তান সজীব মেডিকেল কলেজে পড়ে হতে পারে একজন ডাক্তার।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ