fbpx
27.9 C
Barisāl
Wednesday, December 1, 2021

মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে উজিরপুরে এএসআই বেল্লালের চাঁদাবাজি

বরিশালের উজিরপুর মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. বেল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে চার যুবকের নিকট থেকে উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (৪ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনায় হয়রানির শিকার উপজেলার উত্তর সাতলা গ্রামের তরিকুল ইসলাম বালী (২৮) নামে এক যুবক বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম বিপিএম,পিপিএম এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন অভিযোগকারী তরিকুল ইসলাম বালী। অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তর সাতলা গ্রামের মনির হাওলাদারের নির্মাণধীন ভবনে তাস খেলার অভিযোগে একসঙ্গে স্থানীয় চার যুবককে আটক করে এএসআই বেল্লাল। তারা হলেন- নির্মাণধীন ওই ভবনের মালিক উত্তর সাতলা গ্রামের লাল মিয়া হাওলাদারের পুত্র মনির হাওলাদার, একই গ্রামের সেকেন্দার বালীর পুত্র তরিকুল ইসলাম, আক্কাচ শেখের পুত্র হোসাইন শেখ ও ইদ্রিস শেখের পুত্র সাফায়েত শেখ। পরে তাদের সবাইকে নির্মাণধীন ওই ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখে এএসআই বেল্লাল। এরপর তাদেরকে ইয়াবা দিয়ে মামলায় জড়িয়ে জীবন বরবাদ করে ফেলার ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে এএসআই বেল্লালের হাত-পা ধরে ওই ভবনের মালিক মনির হাওলাদার দশ হাজার, তরিকুল এক হাজারসহ চারজনে মোট সাড়ে ১৪ হাজার টাকা দিয়ে এবং পরবর্তীতে আরও ২০ হাজার টাকা দেয়ার শর্তে তাদের মুক্তি দেয়া হয়। এ সময় এএসআই বেল্লাল এ ঘটনা কাউকে বললে তাদের অস্ত্র ও মাদক মামলা দিয়ে চালান দেওয়ার হুমকি দেয়। হয়রানির শিকার তরিকুল বালী জানান, আমরা চারজন শুধুমাত্র সময় কাটানোর জন্য তাস (টুয়েন্টি নাইন) খেলেছি অথচ মিথ্যা অপরাধে মামলার ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নিয়েছে পুলিশ। তরিকুল বালী আরও বলেন, পুলিশের উৎকোচ আদায়ের বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাকে ও মনির হাওলাদারকে অস্ত্র দিয়ে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে আসছে এএসআই বেল্লালের কথিত সোর্স স্থানীয় জসিম বালী। তরিকুল আরও জানায়, উৎকোচ দিয়ে তাৎক্ষনিক পুলিশের হাত থেকে রেহাই পেলেও ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এএসআই বেল্লালের অব্যাহত হুমকিতে সে গত চার দিন ধরে ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযুক্ত এএসআই বেল্লালের হয়রানির শিকার উত্তর সাতলা এলাকার আরেক যুবক রুবেল বালী (৩০)। সে ওই এলাকার কবির বালীর পুত্র। রুবেল অভিযোগ করে বলেন, গত ১৬ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাতলা বাজারে যাওয়ার পথে এএসআই বেল্লাল তার দেহ তল্লাশির নামে পকেটে গাঁজা ঠুকিয়ে দেয়। পরে তার নিকট থেকে ছয় হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ‘পুলিশের এএসআই বেল্লালের অত্যাচারে অতিষ্ঠ’ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। এছাড়াও থানার ওই অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা এলাকার সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে হয়রানি করে থাকেন। টাকা না দিলে সাধারণ মানুষকে মাদকদ্রব্য দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়। তাস খেলার অপরাধে তরিকুলসহ চারজনকে আটকের কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত এএসআই বেল্লাল জানান, ওদেরকে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে মুচলেখা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে উৎকোচ আদায়ের অভিযোগটি সঠিক নয়। এ ব্যাপারে জানতে উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পালের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ