fbpx
27.9 C
Barisāl
Wednesday, December 1, 2021

আগৈলঝাড়ায় মাদকসেবী স্বামীর যৌতুকের নির্মম শিকার সীমা বেগমের শিশু কন্যা নিয়ে আত্মহত্যার হুমকি

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাদকসেবী স্বামীর যৌতুকের দাবি পুরণ করতে না পেরে নির্যাতনের শিকার হয়ে শিশু কন্যা নিয়ে এক গৃহবধূ এখন দিন মজুর ভাই-বোনের আশ্রয়ে। এলাকায় বিচার চেয়েও কোন সুফল না পেয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে ওই গৃহবধূ। উপজেলার বাকাল গ্রামের মৃত তাজেম হাওলাদারের মেয়ে ভুক্তভোগী সীমা বেগম (২৩) সাংবাদিকদের জানায়, পাঁচ বছর এসএসসি পরীক্ষার আগে একই উপজেলার পূর্ব সুজনকাঠী গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে মো. সোহাগ সরদারের সাথে সামাজিকভাবে বিভিন্ন উপঢৌকন দিয়ে তার বিয়ে হয়। সীমা আরও জানায়, বিয়ের কিছু দিন পর জানতে পারে সোহাগ একজন ইয়াবাসেবী, তার সাথে বিয়ের আগে সোহাগ আরও পাঁচটি বিয়ে করেছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে অকারণে সোহাগ মাদক সেবন করে সীমার উপর নির্যাতন শুরু করে। একইভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে তার আগের স্ত্রী’রা সোহাগের ঘর ছেড়েছে। তবে এখনও তাদের দু’এক জনের সাথে সোহাগের সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানায় সীমা বেগম। এরই মধ্যে হাবিবা নামে তাদের ঘরে এক কন্যা শিশুর জন্ম হয়। যার বয়স এখন আনুমানিক তিন বছর। দাম্পত্য জীবনে প্রতিনিয়ত মারধরের ঘটনায় স্থানীয়রা এলাকায় একাধিকবার শালিশ বৈঠক করলেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং সীমার উপর নির্যাতন আরও বাড়ে। এক পর্যায়ে সীমাকে নিয়ে বসবাসের জন্য সোহাগ তাকে ঢাকায় নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে। সেখানেও মাদক সেবন করে সীমার উপর প্রতিনিয়িত চলে জীবনে মেরে ফেলার মত অকথ্য নির্যাতন। মাত্র তিন মাস ঢাকায় থেকে স্বামীর অত্যাচারের কারণে শ্বশুর বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয় সীমা বেগম। সীমা বাড়ি ফিরলে সোহাগ তাকে গাড়ি কিনে দিতে সীমার বাবার বাড়ি থেকে দেড়লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে আসতে দিতে বলে। সীমার দিন মজুর ভাই-বোনের পক্ষে এত টাকা জোগার করা অসম্ভব হওয়ায় ওই দেড় লাখ টাকা এনে দিতে পারবেনা বলে জানালে সীমার উপর নেমে আসে নির্যাতনের চরম খর্গ। যৌতুকের জন্য অমানুষিক নির্যাতনের চিহ্ন শরীরে বয়ে বেড়ানো সীমা স্বামী সোহাগের নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ননা দেয়। বিভিন্ন সময় করানো হয় নির্যাতনের চিকিৎসা। স্বামীর নির্যাতনের শিকার থেকে সীমা বেগম প্রাণ বাঁচাতে গত দুই মাস আগে দিন মজুর ভাই ও বিবাহিতা বোনের সংসারে আশ্রিত রয়েছে। নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে স্বামীর ঘরে ফিরতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে নির্যাতিত সীমা বেগম। সোহাগের বংশীয় প্রভাবে স্থানীয় কোন বিচার না পেয়ে দরিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত ভাই বোনের সংসারে নিজেকে অসহায় দাবি করে আত্মহত্যা করার হুমকী দিয়েছে নির্যাতিত সীমা বেগম। অভিযুক্ত সোহাগ ফোনে জানান, তার বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য স্ত্রী নির্যাতনের আনীত অভিযোগ মিথ্যা। পাঁচটি নয় তিনি সীমার আগে দুইটি বিয়ের কথা স্বীকার করে বলেন তিনি মাদক সেবনের সাথে জড়িত না। পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার ঘটনা মিমাংসার জন্য বসা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ