fbpx
31.7 C
Barisāl
Tuesday, April 20, 2021

আগৈলঝাড়ায় সন্ধ্যা নদী দখল করে ইট বালুর ব্যবসা প্রভাবশালীদের।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় খাল ও সরকারী জমি দখলের পর এবার নদী দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রকাশ্য দিবালোকে বেপরোয়া দখলের মহোৎসব চললেও ওই দখলদাররা এতটাই প্রভাবশালী যে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস নেই সাধারণ জনগনের। তাই দখলদারদের অবৈধ কাজে বাধা দেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও বিভিন্নভাবে হয়রানীর আশংকায় চোখের সামনে মুখ বুজে সহ্য করছেন সাধারণ জনগন।

স্থানীয় ও তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার একমাত্র সন্ধ্যা নদী বন্দর পয়সারহাট সেতুর পূর্ব পাড়ে নদীর একটি অংশে পাইলিং ও ইট বালু দিয়ে ভরাটের মাধ্যমে দখলে করে ইট বালুর ব্যবসা করছেন স্থানীয় বাদশা বক্তিয়ার। দীর্ঘ দিনেও নদী খনন না করা ও পয়সারহাট নদীর উপর ব্রীজ নির্মানের ফলে নদী মরে যাওয়ায় নদীর বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় ওই নৌ বন্দরে ঢাকা গামী ল চলাচলে বিঘœসহ বিভিন্ন খালের স্রোত কমে যাওয়ায় ইরিগেশনের সমস্যা হচ্ছে। তার উপর দখলদারদের কারনেই নদী আরও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। একই নদীতে বাগধা হাটে নদীর পূর্ব পাড়ে নদী দখল করে পাকা ভবন নির্মান করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। উপজেলা সদরে দু’বার ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে বাজারের মধ্যে সরকারী জায়গা দখল করে দোকান নির্মানের ফলে গলি ছোট হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গাড়ি ঢুকিয়ে কাজ করতে না পারায় ক্ষতির পরিমান বেড়েছে।

অগ্নিকান্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ-এমপি, বরিশাল জেলা প্রশাসক বন্দরের দোকান ও গলি নির্মানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিলেও সেই নির্দেশকে বৃদ্বাংগুলি দেখিয়ে সরকারী জায়গা দখল করে চলছে নির্মান কাজ। অবৈধ ওই নির্মান কাজে সরকার দলীয় কয়েক নেতা বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চলছে। উপজেলা সদর বন্দরের একমাত্র ঘাটলাটিও এখন দখলদারদের কারণে ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে গেছে।

উপজেলা সদর ছাড়াও সাহেবেরহাট, গৈলার রথখোলা, ছয়গ্রাম বাজার, আস্কর কালীবাড়ি, দুশমীর হাট, রাজিহার বাজার, বারপাইকা করিম বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রভাবশালী দখলবাজরা একটি মহলকে ম্যানেজ করে সরকারী জায়গা দখল করে ঘর নির্মান করে রাতারাতি বিক্রি করে দিচ্ছে। দখলকৃত জায়গা দখলবাজরা তাদের পৈত্রিক, ক্রয়কৃত, ডিক্রি করা ইত্যাদি বলে দাবী করে পাকা ভবন নির্মান করছেন। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দ্বায়িত্বরত উপজেলা সহকারী ভূমি (এসিল্যান্ড) বিপুল চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের বলেন, কাগজপত্র পর্যালোচনায় ওই জায়গা তাদের রেকর্ডিও। পূর্বে নদীতে ভেঙ্গেছিল, এখন চর জেগে ওঠায় তারা কাজ করছে। নদী দখল করে বালুর ব্যবসার ঘটনাস্থল সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ