fbpx
26 C
Barisāl
Saturday, October 16, 2021

আগৈলঝাড়ায় প্রচারণায় আওয়ামীলীগ, জাকের পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাঠে নেই বিএনপি প্রার্থী।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র ১৩দিন বাকি থাকলেও বরিশাল-১(গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে আগৈলঝাড়ায় প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আওয়ামীলীগ, জাকের পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা। তবে মাঠে নেই বিএনপির প্রার্থী ও তাদের নেতা-কর্মীরা। মনোনয়ন দাখিলের পর থেকে নির্বাচনী এলাকা গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার ১২টি ইউনিয়নসহ প্রত্যন্ত অ ল চষে বেড়াচ্ছেন মহাজোট প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি।

তবে প্রচারণার সাতদিন পেড়িয়ে গেলেও দেখা মিলছে না বিএনপি’র প্রার্থী সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপনসহ তাদের নেতা-কর্মীদের। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম জহির উদ্দিন স্বপন মনোনয়ন পাবার পর তার মনোনয়নপত্র বরিশাল-১আসনের দুই উপজেলায় দাখিল না করে, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে বরিশাল জেলা রিটানিং কর্মকর্তার নিকট মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যার কারনে চা’য়ের কাপে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। মনোনয়ন দাখিলের পর গত ১০ই ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)র কাছে নিরাপত্তার জন্য লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে সর্বাত্তক নিরাপত্তা দেবার জন্য বরিশাল জেলা রিটানিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এর পর গত ১২ ডিসেম্বর বুধবার গৌরনদী উপজেলার বাটাজোড় অশ্বিনী কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দীর্ঘ এক যুগ পর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা করলেও তার সঙ্গে দেখা যায়নি একই আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর দুই কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান ও আকন কুদ্দুসুর রহমানকে। জহির উদ্দিন স্বপন ওই এক দিনই গৌরনদী উপজেলায় প্রচারণা করলেও এখন পর্যন্ত একদিনও আসেননি সংসদীয় আসনের অন্য উপজেলা আগৈলঝাড়ায়।

এ কারনে আগৈলঝাড়া উপজেলার সাধারণ ভোটাদের কাছে ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি’র একাধিক নেতা বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় বিএনপি’র সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সাবেক এমপি এম জহির উদ্দিন স্বপন মিডিয়ায় মাইনাস-টু ফরমুলায় জিয়া পরিবার সম্পর্কে নেতিবাচক বক্তব্য দিয়ে ওই সময় সারা দেশে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তোলেন। এ কারনে পরবর্তীতে দল থেকে বহিস্কার হন তিনি এবং পরিচিতি পান সংস্কারপন্থী বিএনপি নেতা হিসেবে। যে কারনে নবম জাতীয় নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পাননি তিনি। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনে মনোনয়ন পান বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান। তখন আইনি জটিলতার কারনে এ আসনে বর্তমান এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ নির্বাচন করতে না পারায় এ আসনে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুসকে। ওই নির্বাচনে ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয় আওয়ামীলীগের প্রার্থী এ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুস।

সে কারনেই হারানো দুর্গ ফিরে পেতে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হয় এম জহির উদ্দিন স্বপনকে। গত শুক্রবার ১৪ই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গৌরনদী থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দুটি লিখিত আবেদন করেন এম জহির উদ্দিন স্বপন। অভিযোগ করে স্বপন বলেন, সিইসি আশ্বাস দেওয়ার পরও তিনি নিরাপত্তাহীন। তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কোন ব্যবস্থাই নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া তার বাড়িতে আসা যাওয়ার পথে আওয়ামীলীগের হামলার শিকার ৩২জন নেতাকর্মীর তালিকা উল্লেখ করে এর প্রতিকারসহ বিচার চেয়ে পৃথক দুটি আবেদন করেছেন। এরপরও প্রশাসন তার চলাচলের পথের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সার্বিক প্রতিকার না করলে আইনী পদক্ষেপ নেবেন তিনি। এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার সাংবাদিকদের জানান, উনি (জহির উদ্দিন স্বপন) চলাফেরায় ভয় পাচ্ছেন এবং হামলার আশংকা করছেন। এ সব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ২ টি আবেদন করেছেন। পুলিশ এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন প্রচার প্রচারণা না চালানোর বিষয় সাংবাদিকদের জানান, আমি এলাকায় আসার পরে তিন দিনে আমার বাড়িতে নেতাকর্মীরা আসা-যাওয়ার পথে ৭০-৭৫ জন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করে এবং রাতের বেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের হুমকী দেওয়া হচ্ছে।

সেনাবাহিনী মাঠে নামার পরে পরিবেশ-পরিস্থিতি নির্ভর করে প্রচার-প্রচারনা চালাবো। তিনি এসময় সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। প্রচারণায় মাঠে না থাকার প্রসংগে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, জহির উদ্দিন স্বপন মনোনয়ন পেয়ে আমাকে বলেছিলেন দলের জন্য কাজকর্ম করতে। আমি তাকে বলেছিলাম ১০ বছর আপনি নিস্কৃয় ছিলেন। এ আসনে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান তাকেসহ নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রেখে প্রচারণা চালাতে। তিনি গৌরনদীর বাটাজোর এলাকায় পথসভা করলেও আমাকে জানাননি।

আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত সাংবাদিকদের জানান, আমরা চাই প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ নির্বাচন, কিন্তু বিএনপি প্রার্থী স্বপন আগৈলঝাড়ায় প্রচারে নেতাকর্মী পাচ্ছে না এবং তিনি নিজে এবং তার দলীয় নেতাকর্মীরা ২০০১ পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডের ফলে আগৈলঝাড়ায় প্রবেশ করতে পারছেনা। এ আসনে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকায় নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত বলে আমরা মনে করছি। আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস জানান, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন সিইসির কাছে যে অভিযোগ দিয়েছে তার একটি অনুলিপি আমার কাছে এসেছে। স্বপন সাহেব প্রচারনা চালাতে গিয়ে যদি বাঁধার সম্মুখিন হন এবং আমাকে জানানো হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আগৈলঝাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, বিএনপি প্রার্থী হিসেবে জহির উদ্দিন স্বপন যতটুকু সহযোগিতা পায় আইনগতভাবে সবটুকুই দেয়া হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ