fbpx
28.9 C
Barisāl
Wednesday, December 1, 2021

উজিরপুরে বিএনপির ৬৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, ৯টি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর

বরিশাল-২ আসনের (উজিরপুর-বানারীপাড়া) বিএনপির মনোনিত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর গাড়িবহরে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় উল্টো বিএনপির ৬৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) গভীর রাতে বরাকোঠা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান কামালা বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বিএনপির ২৪ জন নামধারী ও অজ্ঞাতনামা ৪০ জনসহ মোট ৬৪ নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। বাদী মিজানুর রহমান মামলায় উল্লেখ্য করেন, তিনিসহ ২০/২৫ জন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা নৌকা প্রতীকের সমর্থনে উপজেলার বরাকোঠা ইউনিয়নের ডাবেরকুল বাজারের চৌরাস্তা এলাকায় গণসংযোগ করছিলেন।

এমন সময় ওই পথ দিয়ে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর গাড়ী বহর নিয়ে প্রচারনায় যাচ্ছিলেন। এ সময় বহরে থাকা বিএনপির নেতাকর্মিরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শরীরে মোটরসাইকেল উঠিয়ে দেয়। এতে পায়ের পাতার হাড় ভেঙ্গে তিনি গুরুত্বর আহত হয়েছেন। একই সময় বিএনপির সন্ত্রাসীরা তার সঙ্গে থাকা ছাত্রলীগ কর্মী মো. রুবেলকে (৩০) বগি দা দিয়ে কুপিয়ে জখমসহ ১০জন নেতাকর্মীকে আহত করেছে এবং তাদের ৫টি মোটর সাইকেল ভেঙ্গে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। তারা হলেন, বরাকোঠা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উজিরপুর উপজেলা যুবদলের (একাংশ) সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফিরোজ হোসেন (৪৫), উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. তোতন (৩৮), বরাকোঠা ইউনিয়ন বিএনপির যুব-বিষয়ক সম্পাদক মো. আনিচুর রহমান (৩৫), শ্রমিকদলের সভাপতি মো. আল-আমিন ওরফে খাজা (৩০), সম্পাদক মো. পনির হাওলাদার, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. জহির বেপারী (৪৫), ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. কাইয়ুম খান (২৬), উজিরপুর পৌর ছাত্রদলকর্মী লাবিদ হাওলাদার (২৮), উপজেলা জামায়াতের সদস্য মাওলানা মো. হাফেজ আক্তার (৫০), উপজেলা ছাত্রদল কর্মী মো: তাইজুল হাওলাদার (৩৫) সহ ২৪ জন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া অজ্ঞাতনামা ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বরিশাল-২ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু অভিযোগ করে বলেন, গত সোমবার বিকালে নেতাকর্মীদের নিয়ে বরাকোঠা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ফিরোজের বাড়িতে পূর্ব নির্ধারিত উঠান বৈঠক কর্মসূচীতে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ডাবেরকুল বাজার চৌরাস্তায় পৌছলে বরাকোঠা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উজিরপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম মৃধার (৪০) নেতৃত্বে ছাত্র-যুবলীগের ৫০/৬০ জন চিহ্নিত ক্যাডাররা আমার গাড়ি বহরে লাঠিসোটা ও অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুরসহ কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে। আর উল্টো আমার ৬৪ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। নির্বাচনী মাঠ থেকে বিদায় করতে আ’লীগ সন্ত্রাসীরা আমার নেতাকর্মীদের মেরে হাসপাতালে আর পুলিশ মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠাচ্ছে।

বড়াকোঠা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন অভিযোগ করে বলেন, সোমবার আমাদের প্রার্থীর গাড়ি বহরে হামলার পর থেকে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিরা ডাবেরকুল বাজারস্থ বড়াকোঠা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এছাড়া এ ইউনিয়নের লস্করপুর, মালিকান্দা, শেরে বাংলা বাজার, চৌমহনী, নতুনহাট, শান্ত মার্কেট ও বাঁশের পোলসহ বিভিন্ন এলাকার নয়টি নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উজিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শেখ মো. ফরিদ হোসেন মামলা দায়েরের কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উল্লেখ্য, গত সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) উজিরপুর উপজেলার ডাবেরকুল বাজার চৌরাস্তা এলাকায় বরিশাল- ২ আসনের বিএনপির মনোনিত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর গাড়ী বহরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিরা হামলা চালিয়ে বহরের ৩টি মাইক্রেবাস ও ৫টি মটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে স্থানীয় দুই সংবাদকর্মী, বিএনপির ২০ নেতাকর্মীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ