fbpx
31.4 C
Barisāl
Sunday, September 26, 2021

সংশোধনী উজিরপুর ওসির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের এবার নাশকতা মামলায় সাংবাদিক জহির ও বাচ্চু আসামী, জানে না বাদী

নানা কারনে বিতর্কিত বরিশালের উজিরপুর মডেল থানার ওসির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে আবারও উজিরপুরের সাহসী সাংবাদিক মো: জহির খান ও শাকিল মাহমুদ বাচ্চুকে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে। তাদেরকে গত রোববার (২৩ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পশ্চিম জয়শ্রী গ্রামে আওয়ামী লীগের একটি নির্বাচনী ক্যাম্পে দূর্বৃত্তদের আগুন দেয়ার ঘটনায় থানায় দায়েরকৃত মামলায় বাদীর অজান্তে আসামী করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উজিরপুরের এই দুই সাংবাদিককে আসামী করে মামলা দায়ের হওয়ায় খোদ উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। উজিরপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক জহির খান বেসরকারী আনন্দ টেলিভেশন, জাতীয় দৈনিক আমার সংবাদ ও স্থানীয় বরিশালের দৈনিক প্রথম সকাল পত্রিকাসহ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের উজিরপুর উপজেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে ওই মামলায় ২০ নং আসামী করা হয়। সাংবাদিক শাকিল মাহমুদ বাচ্চু উজিরপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারন সম্পাদক ও আজকের পরিবর্তন পত্রিকার উজিরপুর প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে ওই মামলায় ৩১নং আসামী করা হয়েছে। সাংবাদিক জহির খান অভিযোগ করে বলেন, তিনি গত ১৭ ডিসেম্বর কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ স্থানীয় দৈনিক প্রথম সকাল পত্রিকায় ও বেসরকারি আনন্দ টেলিভিশনে রাত ৮টার নিউজ বুলেটিনে “উজিরপুর ওসির অপসারন দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ” শিরোনামে ওসির বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন।

সেই সংবাদের জের ধরে তার উপর প্রতিশোধ নিতেই উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল তাকে (জহির) এই মামলায় ফাঁসিয়েছে। মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ডিসেম্বর উপজেলার পশ্চিম জয়শ্রী গ্রামে আ’লীগের একটি নির্বাচনী ক্যাম্পে একদল দূর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনার পরেরদিন গত ২৪ ডিসেম্বর ওই ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সভাপতি মনির হোসেন হাওলাদার বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মশিউর রহমান হাওলাদারকে প্রধান অভিযুক্ত করে ৩৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামাসহ ৬৫ জনকে আসামী করে উজিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু আর্শ্চায্যজনক বিষয় হচ্ছে মামলার বাদী ছাত্রলীগ নেতা মনির হাওলাদার নিজেই জানেন না ওই রাতে কারা আওয়ামী লীগের অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন। মনির হাওলাদার মুঠোফোনে জানান, ২৩ ডিসেম্বর রাত ১২টার পরে কে বা কাহারা আ’লীগের অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তিনি তা চোখে দেখেননি। মামলায় দুই সাংবাদিকসহ ৪২ জনকে নামধারী আসামী করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি (মনির) স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউসুফ হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না দাবী করে শিকারপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম মাঝি বলেন, দুই সাংবাদিককে কি কারনে আসামী দেয়া হয়েছে তা তার বোধগম্য নয়। বিষয়টি আ’লীগের উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করা হবে। উজিরপুর উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু ও পৌর মেয়র মো: গিয়াস উদ্দিন বেপারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পাল জানিয়েছেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। কে কে আসামী পড়েছেন তা তার জানা নেই।

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পর্কিত সংবাদ